Abhishek Banerjee: মঞ্চে 'SIR-এ মৃতদের' হাঁটালেন অভিষেক, ঘুরিয়ে বার্তা ভাঙড় বিধায়ক নওশাদকে

Abhishek Banerjee: বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি হিসেবে শুক্রবার থেকে জেলা সফর শুরু করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

Abhishek Banerjee: বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি হিসেবে শুক্রবার থেকে জেলা সফর শুরু করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

author-image
IE Bangla Web Desk
আপডেট করা হয়েছে
New Update
Abhishek Banerjee, Baruipur Trinamool programme, Abar Jitbe Bangla campaign, Trinamool Congress 2026 election, West Bengal Assembly Elections 2026, South 24 Parganas politics, BJP attack by Abhishek Banerjee, TMC rally in Baruipur, Trinamool four-sided ramp rally, voter list manipulation allegation, Election Commission controversy West Bengal, Bhangar Assembly constituency, Bengal culture and BJP, Jai Bangla controversy, BJP jumla party remark, Bengali harassment in Maharashtra, Balurghat BJP booth president case, Trinamool Congress vs BJP West Bengal politics

বারুইপুরের মঞ্চে 'ভূত' হাঁটালেন অভিষেক

Abhishek Banerjee: নতুন বছরের শুরুতেই ভোটের দামামা বাজিয়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ‘যতই কর হামলা, আবার জিতবে বাংলা’ শীর্ষক কর্মসূচির মাধ্যমে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশলের ইঙ্গিত দিল তৃণমূল কংগ্রেস। ব্রিগেডের আদলে চতুর্মুখী র‍্যাম্প তৈরি করে জনসংযোগে নামেন অভিষেক। র‍্যাম্পের চার দিকেই জনতার দিকে মুখ করে প্রণাম জানান তিনি। বারুইপুর থেকেই ‘আবার জিতবে বাংলা’ কর্মসূচির শুভ সূচনা হয়।

Advertisment

বক্তৃতার শুরুতেই অভিষেক বলেন, “কালীঘাট আমার জন্মভূমি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা আমার কর্মভূমি।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০৮ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকেই পরিবর্তনের প্রথম চাকা গড়িয়েছিল। তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলের আসন সংখ্যা একুশের তুলনায় বাড়বেই। “একটা আসন হলেও বাড়বে, আর সেই আসন যদি দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেই হয়, তাহলে তা হবে গর্বের,” বলেন অভিষেক। তাঁর লক্ষ্য, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩১টি আসনের সবক’টিতেই জয়। ভাঙরেও এবার জয় আসবে বলেও দাবি করেন তিনি।

অভিষেক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, একটি বুথেও বিজেপিকে মাথা তুলতে দেওয়া যাবে না। তৃণমূল কংগ্রেসকে তিনি ‘বিশুদ্ধ লোহার’ সঙ্গে তুলনা করে বলেন, যত আঘাত আসবে, দলের মনোবল ততই চাঙ্গা হবে। বিজেপিকে ‘বাংলা-বিরোধী জমিদার’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বিজেপির পরিকল্পনা মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার। এসআইআর ইস্যুতে আক্রমণ শানিয়ে তাঁর বক্তব্য, মানুষ ভোট দিয়েই বিজেপির বিরুদ্ধে এফআইআর করবে। ‘সোনার বাংলা’র প্রতিশ্রুতিকেও কটাক্ষ করেন তিনি। বিজেপিকে ‘জুমলা পার্টি’ বলে আক্রমণ করে অভিষেক অভিযোগ তোলেন, বিজেপি বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতিতে আঘাত করছে। গীতা পাঠের অনুষ্ঠানে চিকেন প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্বের পাঠ বিজেপির কাছ থেকে নেওয়ার দরকার নেই। কে কী খাবে, কী পড়বে, ফ্রিজে কী থাকবে সব কি দিল্লির বাবারা ঠিক করে দেবে, এই প্রশ্ন তুলে বিজেপিকে কটাক্ষ করেন তিনি।

বারুইপুরের সাগর সংঘের মাঠে তৈরি বিশাল মঞ্চ ও বিশেষ র‍্যাম্প নিয়েও বক্তব্য রাখেন অভিষেক। তিনি জানান, এই র‍্যাম্পে এদিন তিনজন ভোটারকে হাঁটিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, খসড়া ভোটার তালিকায় এই তিনজনকে মৃত দেখানো হয়েছে। মেটিয়াবুরুজ ও কাকদ্বীপ বিধানসভা কেন্দ্রের ওই তিন জীবিত ভোটারকে মঞ্চে এনে নির্বাচন কমিশনের তালিকায় গরমিলের অভিযোগ তোলেন তিনি। র‍্যাম্পে ‘ভূত’ হাটিয়ে এই ঘটনাকে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে তুলে ধরেন অভিষেক।বক্তৃতায় বিজেপি নেতাদের মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, “আমরা ‘জয় বাংলা’ বলি বলে আমাদের বাংলাদেশি বলা হয়।” অথচ দেশের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশি বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতিকে পাকিস্তানি বলা হয়েছে এই অভিযোগ তুলে বিজেপিকে আক্রমণ করেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য ও ফোনের অডিও শুনিয়ে বিজেপির অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক।

মহারাষ্ট্রে বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য বালুরঘাটের সাতজনকে জেলে পাঠানোর ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওই সাতজনের একজন বিজেপির বুথ সভাপতি গৌতম বর্মন। তাঁদের বাংলাদেশি দাগিয়ে জেলে পাঠানো হলেও বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার কোনও উদ্যোগ নেননি বলে অভিযোগ করেন অভিষেক। বিজেপি শাসিত রাজ্যেই বিজেপি সাংসদ নিজের দলের কর্মীকে রক্ষা করতে পারেননি এই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যে দল নিজের বুথ সভাপতিকেই রক্ষা করতে পারে না, তারা কীভাবে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করবে? আদালতের লড়াইয়ের মাধ্যমেই ওই বুথ সভাপতিকে বাড়ি ফেরানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। 

এসআইআর (স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন) ঘিরে আতঙ্কের আবহে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভোটার ও বিএলও-র মৃত্যুর খবর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও সরব হন অভিষেক। তিনি নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানান। পাশাপাশি বারুইপুরের মঞ্চে ‘এসআইআরে মৃত’ বলে দেখানো তিনজনকে হাজির করেন তিনি। র‍্যাম্পে তুলে আনা হয় মনিরুল মোল্লা, হরেকৃষ্ণ গিরি ও মায়া দাসকে। অভিযোগ, এসআইআর তালিকায় তাঁদের মৃত দেখানো হয়েছে, যদিও তাঁরা জীবিত। তাঁদের মধ্যে দু’জন মেটিয়াবুরুজের বাসিন্দা এবং একজন কাকদ্বীপের। আত্মবিশ্বাসী সুরে তিনি বলেন, “আমি কথা দিয়েছি, ২০২১-এর তুলনায় ২০২৬-এ তৃণমূলের ভোট বাড়বে। অন্তত একটা আসন হলেও বাড়বে"।

"রাহুলের খাতা দেখে হুবহু উত্তর টুকে দিলেন অভিষেক", নজিরবিহীন কটাক্ষ অধীরের
'১০০ দিনের কাজের কার্ড গুছিয়ে রাখুন, BJP এলে ২০০ দিনের কাজ', প্রতিশ্রুতি শুভেন্দুর
দিলীপ ঘোষ BJP-তে সক্রিয় হতেই থানায় ছুটলেন স্ত্রী রিঙ্কু, কারণ জানেন?
abhishek banerjee