/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/08/abhishek-2026-01-08-17-25-41.jpg)
Abhishek Banerjee: জনসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
হাতে গোনা মাত্র কয়েকটা মাস। তারপরই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। ভোটের ঠিক আগে পশ্চিম মেদিনীপুরে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভাকে কেন্দ্র করে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। মেদিনীপুরে জেলা সফরে এসে সভামঞ্চ থেকে বিজেপি ও সিপিএমকে একযোগে তীব্র আক্রমণ করেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
মৌনী অমাবস্যায় বিশেষ পদ্ধতি শনি-রাহু-কেতুর দোষ থেকে মুক্তি!জানুন শুভ সময়, নিশ্চিত প্রতিকার
ভাষণের শুরুতেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে অভিষেক বলেন, মেদিনীপুরের মানুষের যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখিয়েছে তাতে তিনি কৃতজ্ঞ। তিনি স্মরণ করান, ২০১১ সালের আগে এই জেলায় সিপিএমের হার্মাদেরা যেভাবে অত্যাচার চালিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে প্রথম রুখে দাঁড়িয়েছিলেন এই জেলার মানুষই। গড়বেতা, শালবনি, কেশপুর, চন্দ্রকোণা, ঘাটাল ও সবংয়ের মানুষ সুশান্ত ঘোষদের মতো নেতাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে এগিয়ে এসেছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সভামঞ্চ থেকে বিজেপিকে আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, মেদিনীপুরের মাটিতেই এক জন “গদ্দার” নিজের জেলযাত্রা বাঁচাতে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁর কটাক্ষ, পশ্চিম মেদিনীপুরে বিজেপির মডেল হল নীচে সিপিএমের হার্মাদ আর উপরে বিজেপির গদ্দার। যাঁরা এক সময় সিপিএম করে বাংলার হাজার হাজার মানুষকে ভীতসন্ত্রস্ত করেছিলেন, আজ তাঁরাই বিজেপির নেতা।
'আপনি তো দেবতাদেরও ছাড়ছেন না', মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাসের আগে মমতাকে তুলোধোনা শঙ্কর ঘোষের
অভিষেকের দাবি, গত প্রায় ২৫ বছরে কখনও কংগ্রেস, কখনও তৃণমূলের কর্মীদের উপর একের পর এক নির্মম অত্যাচার চালানো হয়েছে এই জেলায়। পুকুরে বিষ দেওয়া, ঘর বন্ধ করে রাখা, বাড়িতে আগুন লাগানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, মেদিনীপুরের ইতিহাস নতুন করে মনে করানোর প্রয়োজন নেই। যে কলেজ মাঠে সভা হচ্ছে, সেই মাঠ থেকেই দীনেশ গুপ্ত, প্রদ্যুৎকুমারের মতো ছাত্ররা স্বাধীনতা আন্দোলনে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
২০২০ সালের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, একই মাঠে এক জন নেতা তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পায়ে হাত দিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন, শুধু নিজের জেলযাত্রা বাঁচানোর জন্য। তিনি দাবি করেন, বাংলায় মা-মাটি-মানুষের সরকার প্রতিষ্ঠার পিছনে মেদিনীপুরের মানুষের বড় ভূমিকা রয়েছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই জেলার ১৫টি আসনের মধ্যে ১৩টিতে তৃণমূল জয় পেয়েছিল। খড়্গপুর সদর ও ঘাটালে অল্প ব্যবধানে পরাজয় হয়েছে। এবার লক্ষ্য ১২-৩ বা ১৪-১ নয়, ১৫-০ ফল করতে হবে।
মারকাটারি মেজাজে শীত! এবার কি ঝটপট বিদায়? জানুন হাওয়া অফিসের বড় আপডেট
সিপিএমকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, ৩৪ বছর ধরে যারা মানুষের উপর অত্যাচার চালিয়েছে, আজ তারাই বিজেপির নেতা। তাঁর কটাক্ষ, বোতলের ছিপি নতুন হলেও মদ পুরনো। শুধুমাত্র জার্সি বদল হয়েছে। আগে সিপিএমের হার্মাদ ছিল, এখন তারাই বিজেপির জল্লাদ। গড়বেতা থেকে সবং এই সব এলাকায় সিপিএমের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ গড়ে তুলেছিল এই জেলার মানুষই বলে দাবি করেন তিনি।
বিজেপিকে খোলা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিষেক বলেন, কোনও নেতার ক্ষমতা থাকলে উন্নয়নের খতিয়ান সামনে রেখে লড়াই হোক। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার, অন্যদিকে মোদীর সরকার। প্রকাশ্য বিতর্কে বসার আহ্বান জানা তিনি।
এদিন কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনকেও নিশানা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বাংলার বাড়ির টাকা, চালের টাকা, রাস্তার টাকা এবং সর্বশিক্ষা মিশনের টাকা আটকে রাখার অভিযোগ তোলেন তিনি। SIR প্রক্রিয়ার সময়সীমা ১৫ জানুয়ারি থেকে বাড়িয়ে ১৯ জানুয়ারি করা নিয়েও কেন্দ্র ও কমিশনের সমালোচনা করেন অভিষেক। তাঁর মন্তব্য, এই চার দিনে বিজেপির লোকজন যদি ১০টির বেশি ফর্ম নিয়ে ERO অফিসে যায়, তবে ডিজে শোনানোর নিদানও দেন অভিষেক।
ভোটার তালিকা নিয়েও নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, খসড়া তালিকায় জীবিত মানুষকে মৃত দেখানোর চেষ্টা চলছে। “রেখে দিলে আলসার, রেখে দিলে ক্যানসার”—এই ভাষায় কমিশনের পাশাপাশি কেন্দ্রকে কটাক্ষ করেন তিনি। পাশাপাশি যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে চার কোটি এবং গুজরাটে এক কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়ার প্রসঙ্গ টেনে বিজেপিকেও বেঁধেন তৃণমূলের সেনাপতি।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us