/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/28/abhishek-banerjee-2025-12-28-09-24-45.jpg)
কমিশনের বিরুদ্ধে এবার বড় পদক্ষেপের পথে তৃণমূল
Abhishek Banerjee: ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর) ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক মেজাজে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও লোকসভা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার তিনি নির্বাচন কমিশনকে (ইসিআই) চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দাবি করেন, 'প্রোজেনি ম্যাপিংয়ের' সময় ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ হিসেবে চিহ্নিত ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের একটি পৃথক তালিকা অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে ফের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, এসআইআর চলাকালীন যেসব ভোটারকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যেদিন খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়, সেদিনই নির্বাচন কমিশন জানায় যে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের ফর্মে লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি রয়েছে। তাহলে সেই তালিকা কোথায়? কেন কমিশন এখনও তা প্রকাশ করছে না? যদি সত্যিই বাংলায় এক কোটি রোহিঙ্গা থাকে, তাহলে তালিকা প্রকাশ করুন।” তিনি জানান, আগামী ৩১ ডিসেম্বর তিনি দিল্লিতে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
আরও পড়ুন- বিধানসভা ভোটের আগে বড় চমক! ওয়েইসির AIMIM-এর সঙ্গে জোটের প্রস্তাব হুমায়ুন কবীরের
উল্লেখ্য, বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে পশ্চিমবঙ্গের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয় ১৬ ডিসেম্বর। ওই খসড়া তালিকায় আগের তালিকা থেকে প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। খসড়া তালিকা প্রকাশের চার দিন আগে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, মোট ১ কোটি ৬৭ লক্ষ ভোটারের এনুমারেশন ফর্মে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ ধরা পড়েছে। এই প্রসঙ্গে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, “বুথ লেভেল অফিসারদের এই কাজ শেষ করতে প্রায় এক মাস সময় লেগেছে। খসড়া তালিকা প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কীভাবে কমিশন এই সংখ্যা নির্ধারণ করল? কোন জাদুবলে এই হিসাব করা হল?”তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক, যাঁকে তিনি 'সীমা খান্না' বলে উল্লেখ করেন, একটি ব্যক্তিগত চ্যাটে স্বীকার করেছেন যে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’র এই পরিসংখ্যান ভুল। অভিষেক বলেন, “আমার কাছে তাঁর বার্তার স্ক্রিনশট রয়েছে। এই মহিলা কে? কার নির্দেশে তিনি কাজ করছেন? আমি যদি মিথ্যা বলি, তিনি আমার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন। আমরা এই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টেও জমা দেব। কিন্তু তার আগে কমিশনকে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের নাম প্রকাশ করতেই হবে। কেন তাঁদের নাম বাদ যাচ্ছে, তা জানার অধিকার তাঁদের রয়েছে।”
প্রসঙ্গত, গত প্রায় ন’মাস ধরে একাধিকবার তৃণমূলের প্রতিনিধি দল দিল্লির নির্বাচন ভবনে কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। সর্বশেষ চলতি বছরের নভেম্বরে তৃণমূলের সাংসদদের একটি দল নির্বাচন কমিশনের পূর্ণ বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করে।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ হিসেবে চিহ্নিত ভোটারদের তালিকা সব রাজনৈতিক দলকে পাঠানো উচিত। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক দলগুলিও কমিশনের প্রকাশিত তথ্য যাচাই করার অধিকার আছে। তিনি দাবি করেন, 'তৃণমূলের কাছে এমন ১০০ জন ভোটারের তালিকা রয়েছে, যাঁদের খসড়া ভোটার তালিকায় মৃত দেখানো হয়েছে'। তাঁদের মধ্যে একজন ডানকুনির পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলরও রয়েছেন।
আরও পড়ুন-Migrant worker killing: ওড়িশায় বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক খুন, তদন্তে পড়শি রাজ্যে পুলিশ পাঠালেন মমতা
এছাড়াও, অন্য রাজ্যগুলিতে এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় গড়ে ৮.৭৬ শতাংশ থেকে ১২.৫৭ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে উল্লেখ করেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, অধিকাংশ রাজ্যে এই প্রক্রিয়ার সময়সীমা বাড়ানো হলেও পশ্চিমবঙ্গে তা করা হয়নি। “উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট বা অন্য রাজ্যগুলিতে একই প্রক্রিয়া চললেও সেখানে দল পাঠানো হয়নি। শুধু বাংলাকেই আলাদা করে নিশানা করা হচ্ছে,” বলে মন্তব্য করেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'পৃথক তালিকা প্রকাশ না করা হলে তিনি দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর ঘেরাওয়ের ডাক দেবেন। একইসঙ্গে তিনি জানান, আগামী ৩১ ডিসেম্বর তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং সেখানে এই দাবি সরাসরি তুলে ধরবেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও অভিযোগ করেন, তড়িঘড়ি করে এসআইআর প্রক্রিয়া চালানোর ফলেই রাজ্যের মানুষ চরম চাপের মধ্যে পড়েছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর সংক্রান্ত মানসিক চাপে মোট ৫১ জন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন, যার মধ্যে ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধেও সরব হন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা রাজ্যকে না দেওয়ার বিষয়ে কেন রাজ্যের নির্বাচিত বিজেপি লোকসভা সাংসদরা নীরব রয়েছেন। “ওঁরা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। তাই ভোটারদের হয়ে কথা বলার দায়িত্ব তাঁদেরও রয়েছে,” বলে মন্তব্য করেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে ২১ দিনের প্রচার অভিযান শুরু করতে চলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী ২ জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে। লক্ষ্য একটাই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে যাতে কোনও প্রকৃত ভোটারের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যায়।
দলীয় বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “২ জানুয়ারি থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াবেন, যাতে কোনও বৈধ ভোটার বঞ্চিত না হন এবং কোনও বাঙালিকে বিজেপি-নির্বাচন কমিশন জোটের দ্বারা অপমানিত, ভয় দেখানো বা হয়রানির শিকার হতে না হয়।” এই আন্দোলনের মাধ্যমে এসআইআর প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য অনিয়মের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলাই তৃণমূলের উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন- জেমসের কনসার্টে মৌলবাদীদের তাণ্ডব, বানচাল হল অনুষ্ঠান, ক্ষোভে ফুঁসলেন তসলিমা
এই ২১ দিনের কর্মসূচির সূচনা হবে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। এখানেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্র। সেখান থেকে তিনি আগামী ৩ জানুয়ারি আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলায় যাবেন। পর্যায়ক্রমে উত্তর দিনাজপুর, মালদা, কলকাতা, হুগলি-সহ কৃষ্ণনগর, মেদিনীপুর, কাঁথি, বনগাঁ, রানাঘাটের মতো একাধিক জেলায় প্রচার চালাবেন তিনি। আগামী ২২ জানুয়ারি হুগলিতে গিয়ে এই কর্মসূচির সমাপ্তি হবে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us