/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/08/abhishek-2026-01-08-17-25-41.jpg)
Abhishek Banerjee: জনসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
Abhishek Banerjee: 'মেয়ের কাছেই থাকবে বাংলা পারলে বিজেপি দিল্লি সামলা'। ভোটের আগে বিরাট হুঙ্কার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পাশাপাশি সিঙ্গুর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করল তৃণমূল কংগ্রেস।
SIR Hearing: সাধারণের পর এবার মমতার মন্ত্রিসভা! পরিবারের সদস্যসহ SIR শুনানিতে ডাক ডাকাবুকো মন্ত্রীর
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, 'সিঙ্গুর কখনও মিথ্যাচার সহ্য করে না এবং কর্পোরেট জমি দখলের রাজনীতিকে এই মাটিই একদিন রুখে দিয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে সিঙ্গুরের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাংলায় কোনও বিনিয়োগ আসছে না বলে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যকে তথ্য বিকৃতি এবং বাংলার মানুষকে অপমান বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূলের দাবি, সিঙ্গুর এখন আবার মূলধারার শিল্প মানচিত্রে ফিরেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মা-মাটি-মানুষ সরকার সিঙ্গুরে ১১.৩৫ একর জমির উপর ৫০০ কোটি টাকার অত্যাধুনিক ওয়্যারহাউস প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে অ্যামাজন ও ফ্লিপকার্টের মতো ই-কমার্স সংস্থার লজিস্টিক পরিষেবা আরও শক্তিশালী হবে।
দলীয় সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, এই শিল্প প্রকল্পের ফলে সিঙ্গুর ও আশপাশের এলাকার যুবকদের জন্য বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, বাস্তব তথ্য উপেক্ষা করে সিঙ্গুর নিয়ে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য না করে কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত বাংলার শিল্পোন্নয়নের প্রকৃত চিত্র দেখা।
এসবের মাঝে এবার বাংলায় ভোটার তালিকা সংশোধনে বড় মোড়! লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা অস্বচ্ছতার অভিযোগে মান্যতা দিল শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের এসআইআর (Special Intensive Revision) সংক্রান্ত নির্দেশের পরপরই বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বারাসতের এক জনসভা থেকে তিনি ঘোষণা করেন, “আজ কোর্টে হারালাম, এপ্রিলে ভোটে হারাব তৈরি থাকো।” হুঙ্কার তৃণমূল সেনাপতির। এদিন তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টতই ধরা পড়েছে আত্মবিশ্বাস ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত তৃণমূলের দাবিকে মান্যতা দিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে ভোটার তালিকার ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি লিস্ট’ প্রকাশ করতে হবে এবং বিএলএ-২ প্রতিনিধিরা শুনানিতে উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি যাঁদের শুনানির জন্য ডাকা হবে, তাঁদের রসিদ দেওয়ার কথাও আদালত বলেছে। তাঁর দাবি, এই রায়ের মাধ্যমে বিজেপির এসআইআর “খেলা শেষ” হয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, “এক কোটি মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিল বিজেপি। এই রায় মা-মাটি-মানুষের জয়, বাংলার জয়।”
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। সোমবার সেই মামলার শুনানিতে আদালত জানায়, নির্বাচন কমিশনকে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির আওতায় থাকা নামের তালিকা জনসমক্ষে আনতে হবে। কার নাম কেন বাদ যাচ্ছে বা কেন অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, তার কারণ স্পষ্ট করতে হবে।ভোটার তালিকা পরিমার্জন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে।
গতকাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সিঙ্গুরের ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় বিজেপিকে কড়া নিশানা করেন অভিষেক। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, “বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি। এটা উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ বা গুজরাট নয়। এই মাটি স্বাধীনতা আন্দোলন আর নবজাগরণের পথ দেখিয়েছে।” মোদীর ‘পাল্টানো দরকার’ স্লোগানকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন,“পরিবর্তন দরকার ঠিকই, কিন্তু বাংলা বদলাবে না। বদলাবে দিল্লি আর গুজরাট"।
নদিয়ার চাপড়ায় এক রোড শোতেও অভিষেক একই সুরে বিজেপিকে আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, কখনও নোটবন্দির নামে মানুষকে লাইনে দাঁড় করানো হয়েছে, কখনও নাগরিকত্বের প্রমাণ চাওয়া হচ্ছে মানুষ কী পরবে, কী খাবে, কার সঙ্গে কথা বলবে, সবই কি বিজেপি ঠিক করবে? এই প্রশ্ন তুলে তিনি বিজেপিকে ‘দিল্লির জমিদার’ আখ্যা দেন।
SIR শুনানি ও ফর্ম জমা ঘিরে রণক্ষেত্র লালবাগ ও দুর্গাপুর, পুলিশ গাড়ি ভাঙচুর, দফায় দফায় সংঘর্ষ
এসআইআর প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করেই অভিষেক বলেন, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের একাংশ মিলে বাংলায় লক্ষ লক্ষ মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্র করছে। তবে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “আপনারা সময়, জায়গা ঠিক করুন। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে হাজির থাকব। এক এক করে সব প্রশ্নের জবাব দিতে তৈরি"।
বক্তব্যের শেষে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের লক্ষ্যও স্পষ্ট করেন অভিষেক। তিনি জানান, তৃণমূল কংগ্রেসের লক্ষ্য ২৫০টির বেশি আসন জয় করা এবং বিজেপিকে ৫০টির নীচে নামিয়ে আনার তৃণমূল কংগ্রেসের লক্ষ্য। তাঁর কথায়, “গতবার বলেছিলাম বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়। এবারও যত আক্রমণই হোক, বাংলা থাকবে তার মেয়ের সঙ্গেই।”


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us