/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/28/abhishek-banerjee-2025-12-28-09-24-45.jpg)
Abhishek Banerjee: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল সাজাতে সোমবার নজরুল মঞ্চে দলের সংগঠকদের নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের সভার মূল লক্ষ্য ছিল তফসিলি জাতি (SC) ও উপজাতি (ST) অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে দলের ভিত মজবুত করা। সেখান থেকেই অভিষেক ঘোষণা করেন, ২০২৬-এর নির্বাচনে বিজেপিকে যদি ৫০-এর নিচে নামিয়ে আনা যায়, তবে ২০২৯ সালের আগেই দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারের পতন নিশ্চিত।
তপসিলির সংলাপ: বুথ স্তরে জনসংযোগের নির্দেশ
রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ৮৪টি আসন সংরক্ষিত। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১০০-র বেশি আসনে নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করেন তফসিলি ভোটাররা। তাঁদের কাছে পৌঁছাতে এদিন থেকে ‘তপসিলির সংলাপ’ কর্মসূচির সূচনা করেন অভিষেক। দলীয় কর্মীদের কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, "আগামী ২ মাস মাঠ-ময়দান ছাড়া চলবে না।প্রতিটি বুথে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হবে।জয়ের ব্যবধান ৪০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রাখতে হবে।"
অভিষেক মনে করিয়ে দেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তফসিলি মহিলাদের মাসে ১৭০০ টাকা করে দিচ্ছে, যা পাঁচ বছরে ১ লক্ষ ২ হাজার টাকায় দাঁড়ায়। এই খতিয়ান প্রতিটি দরজায় পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
SIR ও ভোটার তালিকা নিয়ে আক্রমণ
এদিন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন এসআইআর (SIR) মামলা এবং প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ (বিচারবিভাগীয় বিবেচনাধীন) রাখা নিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন অভিষেক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "যাঁদের ভোটে প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন, সেই সাধারণ মানুষ যদি আজ আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনে থাকেন, তবে প্রধানমন্ত্রী কেন থাকবেন না?" এমনকি ভোটার তালিকায় নামের বানানে ভুল নিয়েও তিনি ক্ষোভ উগরে দেন।
আরও পড়ুন-ভোটের আগেই নিরাপত্তার বজ্র আঁটুনি! কোন জেলায় কত বাহিনী?
বিজেপির রথযাত্রাকে কটাক্ষ
বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ বা রথযাত্রাকে বিদ্রূপ করে অভিষেক বলেন, “ফাল্গুন মাসে রথ হয় বলে আগে শুনিনি। ৭০টা বিধায়ক নিয়ে যদি রথে চড়তে হয়, তবে বেশি আসন পেলে কি চারতলা রথ বানাত?”
তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর রসিকতাপূর্ণ পরামর্শ, “ওদের রথ যখন এলাকা দিয়ে যাবে, তখন ওদের একটু মাছ-মাংস খাইয়ে আপ্যায়ন করবেন। ওরা রথে থাকলেও তৃণমূল কিন্তু পথেই থাকবে। আর ওই রথেই ওদের ‘উল্টো রথ’ বা বিদায় ঘণ্টা বাজবে।”
আরও পড়ুন-আকাশে যুদ্ধের মেঘ: ওলটপালট কলকাতার আন্তর্জাতিক উড়ান, ৪৪ হাজারে দুবাইয়ের টিকিট!
২০২৬-এর লক্ষ্য: ২৫০ আসন
বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারকে ব্রিটিশ শাসনের সঙ্গে তুলনা করে অভিষেক বলেন, ছাব্বিশের নির্বাচন আসলে ২০২৯-এর ‘খুঁটিপুজো’। তাঁর দাবি, মে মাসে মানুষই যোগ্য জবাব দেবে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল ২৫০-এর বেশি আসন পেয়ে চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় ফিরবে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us