/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/15/iran-crisis-airspace-closure-air-india-indigo-travel-advisory-2026-01-15-09-02-39.jpg)
প্রতীকী ছবি।
Aircraft grounded: গত বছরের ভয়াবহ স্মৃতি এখনও টাটকা। তার মধ্যেই ফের এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India) বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার (Boeing 787 Dreamliner) বিমানের ইঞ্জিন ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচে যান্ত্রিক গোলযোগের অভিযোগ উঠল। লন্ডন থেকে বেঙ্গালুরুগামী (London-Bengaluru flight) একটি ফ্লাইটের পাইলট এই ত্রুটির কথা রিপোর্ট করার পরই নড়েচড়ে বসেছে কর্তৃপক্ষ। ঝুঁকি না নিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই ওই বিমানটিকে বসিয়ে দেওয়ার (grounded) সিদ্ধান্ত নিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
'সেফটি ম্যাটারস ফাউন্ডেশন' সূত্রে খবর, ৯ বছরের পুরনো বোয়িং ৭৮৭ (রেজিস্ট্রেশন VT-ANX) বিমানটির বাঁদিকের ইঞ্জিনের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন পাইলট। ইঞ্জিন চালু করার সময় দু'বার চেষ্টা করেও সুইচটিকে 'RUN' পজিশনে লক করা যায়নি। সামান্য চাপ দিলেই সুইচটি স্লিপ করে 'CUTOFF' মোডের দিকে সরে যাচ্ছিল। উল্লেখ্য, এই সুইচটিই ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে। ওড়ার সময় এই সুইচ আচমকা বন্ধ হয়ে গেলে মাঝ আকাশে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
এয়ার ইন্ডিয়ার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, "পাইলটের কাছ থেকে সুইচের সম্ভাব্য ত্রুটির রিপোর্ট পাওয়ার পরই আমরা বিমানটিকে গ্রাউন্ড করেছি। বিষয়টি ডিজিসিএ (DGCA)-কে জানানো হয়েছে। বিমানের মূল প্রস্তুতকারক সংস্থা (OEM) বোয়িং-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে যাতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই সমস্যা খতিয়ে দেখা হয়। যাত্রীদের সুরক্ষা আমাদের কাছে সবার আগে।" বোয়িং-এর তরফেও জানানো হয়েছে, তারা এই পর্যালোচনায় এয়ার ইন্ডিয়াকে সহায়তা করছে।
উসকে দিল আমেদাবাদ দুর্ঘটনার স্মৃতি
এই ঘটনা গত বছরের জুন মাসে আমেদাবাদে ঘটে যাওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার (AI-171) কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। সেই দুর্ঘটনায় ২৬০ জন যাত্রীর প্রাণ গিয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছিল, টেক অফের ঠিক পরেই দুটি ইঞ্জিনের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ আচমকা 'RUN' থেকে 'CUTOFF' হয়ে যাওয়ায় ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ককপিট ভয়েস রেকর্ডারেও শোনা গিয়েছিল, এক পাইলট অপরজনকে জিজ্ঞেস করছেন কেন তিনি ফুয়েল কাট অফ করলেন, জবাবে অন্যজন জানান তিনি তা করেননি।
আরও পড়ুন-Trump-Modi: "আপনাকে পাশে চাই", মোদীকে চিঠি লিখে কী প্রস্তাব দিলেন ট্রাম্প? জানলে গর্ব হবে
প্রশ্ন চিহ্ন ও নজরদারি
২০১৮ সালেই আমেরিকার ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) বোয়িং ৭৮৭-এর এই নির্দিষ্ট সুইচের লকিং মেকানিজমের সমস্যা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিল। কিন্তু তখন তা বাধ্যতামূলক না হওয়ায় এয়ার ইন্ডিয়া সহ অনেক সংস্থাই গুরুত্ব দেয়নি। গত বছরের দুর্ঘটনার পর ডিজিসিএ-র নির্দেশে সমস্ত বিমানে তল্লাশি চালানো হয়। এয়ার ইন্ডিয়া দাবি করেছে, তখন তাদের ফ্লিটে কোনও সমস্যা পাওয়া যায়নি।
সেফটি ম্যাটারস ফাউন্ডেশনের বক্তব্য, একই মডেলের বিমানে বারবার একই ধরণের গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়া অত্যন্ত উদ্বেগের। ডিজিসিএ এবং এয়ার ইন্ডিয়াকে অবিলম্বে স্বচ্ছ তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে এবং পাইলটদের সতর্ক করতে হবে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us