/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/09/aitc-mps-dharna-amit-shah-office-delhi-2026-01-09-09-43-06.jpg)
ইডি অভিযানের পালটা আজ অ্যাকশনে তৃণমূল
কয়লা পাচার মামলায় গতকাল আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি অভিযানের পালটা আজ অ্যাকশনে তৃণমূল। দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দফতরের সামনে ধর্নায় বসেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের ৮ সাংসদ। জানা গিয়েছে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, শতাব্দী রায়, মহুয়া মৈত্র, বাপি হালদার, সাকেত গোখলে, প্রতিমা মণ্ডল, কীর্তি আজাদ এবং ডা. শর্মিলা সরকার।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবেই আইপ্যাকে অভিযান? তৃণমূলের অভিযোগে কী জানালো ইডি?
তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন ইস্যুতে কেন্দ্রের ভূমিকার প্রতিবাদ জানাতেই এই ধর্ণা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে দিল্লি পুলিশ ও প্রশাসন। এপ্রসঙ্গে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, "সারা দেশ দেখল ডাকাত দলের সর্দার অমিত শাহের অঙ্গুলিহেলনে কীভাবে ইডি ১০ বছরের পুরনো একটি মামলায় ইডি আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি চালিয়েছে। ১০ বছরের পুরনো নথি এখন কি আপনারা আইপ্যাকের অফিস বা প্রতীক জৈনের বাড়িতে পাবেন নাকি আগামী নির্বাচনে তৃণমূলের রণকৌশল আপনারা পাবেন, মানুষ কিছু বোঝে না? বাংলার মানুষ কি বোকা? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাঘের বাচ্চা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া কোন নেতার ক্ষমতা নেই ইডির কাছ থেকে নথি বার করে আনার। যেটা বার করে আনার দরকার সেটা বার করে এনেছেন। ইডির কোন অধিকার নেই বিজেপির দালাল হয়ে আমাদের নথি হাতিয়ে নেওয়া"। এদিকে শেষ পাওয়া খবর অনুসারে দিল্লি পুলিশ আন্দোলনরত তৃণমূলের প্রতিনিধিদের ধর্নাস্থল থেকে চ্যাংদোলা করে বাইরে টেনে হিঁচড়ে বের করে দেয়।
রাজ্যপালকে সরাসরি খুনের হুমকি, ইডি অভিযানের পাল্টা আজ প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী
এদিকে গতকালের অভিযান কোনভাবেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত নয়। সাফ জানিয়েছে ইডি। একই সঙ্গে মমতার বিরুদ্ধে 'নথি ছিনতাইয়ের' অভিযোগ ইডির, দু'তরফেই মামলা দায়ের হাইকোর্টে। কয়লা পাচার মামলার তদন্তে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এবং রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের দপ্তরে চালানো তল্লাশি নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই করা হয়েছে এবং এর পিছনে কোনও রাজনৈতিক অভিসন্ধি নেই বলে দাবি করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এক বিবৃতিতে ইডি জানিয়েছে, এটি আর্থিক তছরুপ সংক্রান্ত একটি নিয়মিত তদন্তের অংশমাত্র।
ইডি জানিয়েছে, ২০২০ সালে অনুপ মাজি ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে সিবিআই যে এফআইআর দায়ের করেছিল, তার ভিত্তিতেই তারা মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে উঠে আসে, অনুপ মাজি পশ্চিমবঙ্গের ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ECL)-এর আওতাধীন এলাকা থেকে অবৈধভাবে কয়লা উত্তোলন করে বাঁকুড়া, বর্ধমান, পুরুলিয়া সহ রাজ্যের একাধিক জেলার কারখানা ও শিল্প তালুকে তা সরবরাহ করত। এই অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিল একটি হাওয়ালা চক্র, যার মাধ্যমেই কয়েকশো কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে তদন্তে প্রাথমিক তথ্য মিলেছে।
ইডির দাবি, এই হাওয়ালা চক্রের সঙ্গে আই-প্যাকের আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। সেই সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের ছ’টি এবং দিল্লির চারটি জায়গায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, লাউডন স্ট্রিটে আই-প্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চলাকালীন গোটা প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবেই এগোচ্ছিল। তবে সেই সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন এবং ইডি আধিকারিকদের কাছ থেকে নথিপত্র ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস 'ছিনিয়ে' নিয়ে যান বলে অভিযোগ। এরপর মুখ্যমন্ত্রী আই-প্যাকের দপ্তরেও যান, সেখানেও পুলিশ কর্মীরা জোরপূর্বক তথ্যপ্রমাণ সরিয়ে নিয়েছে বলে দাবি ইডির।
IPAC raid Kolkata: আইপ্যাক তল্লাশিতে 'বাধা', ফাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, আদালতের দ্বারস্থ ED
এই ঘটনার ফলে তদন্ত গুরুতরভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে বলেও ইডি তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই তল্লাশির কড়া সমালোচনা করে ইডির পদক্ষেপকে 'রাজনৈতিক প্রতিহিংসা' বলে আখ্যা দিয়েছেন। এদিকে, বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ইডি আধিকারিকদের কাছ থেকে নথিপত্র ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই তাঁর ভাবমূর্তির কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিয়েছেন।” তাঁর দাবি, এই ঘটনার মধ্য দিয়েই সাধারণ মানুষের মনে তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য বড় ঘোষণা! হেল্পলাইন চালু করলেন অভিষেক
শমীক ভট্টাচার্য আরও বলেন, রাজ্যে প্রতিটি তদন্ত আদালতের নির্দেশে হচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে এইভাবে ফাইল ও হার্ডডিস্ক সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল। তাঁর অভিযোগ,মুখ্যমন্ত্রী অপরাধীদের এবং নিজের দলকে আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীকে যেভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, তা নজিরবিহীন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, তদন্তে এইভাবে হস্তক্ষেপ করা মুখ্যমন্ত্রীর পুরনো অভ্যাস। তাঁর মতে, এই ঘটনা রাজ্যে আইনশাসনের পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us