/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/24/rajasthan-aravalli-hills-controversy-illegal-mining-protests-2025-12-24-17-07-07.jpg)
সুপ্রিম কোর্টের ২০২৫ সালের নভেম্বরের সিদ্ধান্তের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে।
Aravalli Hills Controversy: রাজস্থানের আরাবল্লী পাহাড় ঘিরে বিতর্ক ক্রমশ তীব্রতর হচ্ছে। সিরোহি, উদয়পুর ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে অবৈধ খনন ও নির্মাণ কার্যকলাপকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের মধ্যে সংঘাত বাড়ছে। অভিযোগ, পাহাড় কেটে খনি ও বেআইনি নির্মাণের ফলে আরাবল্লীর প্রাকৃতিক কাঠামো ও বাস্তুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বিচারে গাছ কাটা ও খননের ফলে জলসংকট, মাটির ক্ষয় এবং পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা আরও গভীর হতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের ২০২৫ সালের নভেম্বরের সিদ্ধান্তের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। পরিবেশ মন্ত্রকের সুপারিশ মেনে আদালত আরাবল্লী পর্বতমালার নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করে জানায়, সমুদ্রপৃষ্ঠ নয়, ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০০ মিটার উচু যে শৃঙ্গগুলি, সেগুলিকেই পর্বত বলে গণ্য করা হবে। সেই পাহাড়ই সুরক্ষার আওতায় থাকবে। পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্তের ফলে আরাবল্লীর প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা আইনি সুরক্ষার বাইরে চলে যেতে পারে।
এই ইস্যু এখন আর শুধু রাজস্থানে সীমাবদ্ধ নেই। হরিয়ানা ও দিল্লিতেও আরাবল্লী খনির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। সিরোহি ও উদয়পুরের গ্রামবাসীরা দাবি করেছেন, পাহাড়ি বনাঞ্চল ও প্রাকৃতিক জলাধার তাঁদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অবৈধ খনন বন্ধ না হলে জলস্তর আরও নেমে যাবে এবং কৃষি ও দৈনন্দিন জীবনে বড় সংকট তৈরি হবে। পরিস্থিতির প্রতিবাদে সোশ্যাল মিডিয়ায় #AravaliProtection হ্যাশট্যাগে প্রচার চলছে।
এদিকে রাজ্য প্রশাসন জানিয়েছে, অবৈধ খননের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সিরোহি জেলার প্রশাসন ও পুলিশ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় পরিদর্শন চালিয়ে বেআইনি খনন বন্ধে পদক্ষেপ করেছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এই উদ্যোগ এখনও পর্যাপ্ত নয়।
এই প্রেক্ষাপটে আজ থেকে মাউন্ট আবুতে নতুন করে শুরু হচ্ছে ‘আরাবল্লী বাঁচাও’ আন্দোলন। সমাজকর্মী নির্মল চৌধুরীর নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই পদযাত্রায় প্রায় এক হাজার কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে আরাবল্লী পর্বতমালার পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, আরাবল্লী অঞ্চলে অবৈধ কাঠ কাটা ও খনন অব্যাহত থাকলে মাটির ক্ষয়, জলাভাব এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও তীব্র হবে। সেই সঙ্গে থর মরুভূমির বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রাচীন পর্বতমালার অস্তিত্বও সংকটে পড়বে। তাই পরিবেশ সুরক্ষা ও স্থানীয় মানুষের অধিকার দু’টিকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে আরাবল্লী রক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।
আরও পড়ুন- 'আর কতদিন এভাবে হিন্দুদের পুড়ে মরতে হবে'? ইউনূসের বিরুদ্ধে সরাসরি হুঙ্কার লেখিকা তসলিমা নাসরিনের
আরও পড়ুন-ওসমান হাদি খুনে এবার ইউনূসের বিরুদ্ধেই অভিযোগের আঙ্গুল ভাই ওমরের, তুলকালাম বাংলাদেশে
আরও পড়ুন- হিন্দু যুবক পুড়িয়ে মারার ঘটনায় ঘরে বাইরে প্রবল চাপে ইউনূস, ড্যামেজ কন্ট্রোলে এবার বড় পদক্ষেপ
আরও পড়ুন-'যদি সত্যিই ধর্মনিরপেক্ষ হতেন', প্রার্থীপদ বাতিল হতেই হুমায়ুনকে তুলধোনা নিশার
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us