/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/28/ajit-pawar-plane-crash-2026-01-28-12-08-45.jpg)
অজিত পাওয়ার থেকে বিজয় রূপানি, আর কোন কোন বিশিষ্ট নেতার মৃত্যু হয় বিমান দুর্ঘটনায়?
Ajit Pawar Plane Crash News: বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ারের মৃত্যু প্রকাশ্যে আসায় ফের একবার আলোচনায় উঠে এসেছে ভারতে বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর ইতিহাস। গত সাত মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয় বিমান দুর্ঘটনা যেখানে কোনও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর সামনে এল। এর আগে ২০২৫ সালের জুন মাসে গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানির মৃত্যু হয় বিমান দুর্ঘটনায়।
বুধবার সকালে বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ও এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ারের। বারামতিতে জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতি নির্বাচনী প্রচারের একাধিক সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথেই তাঁর বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন- কোন সংস্থার বিমানে ভ্রমণ করছিলেন অজিত পাওয়ার? দামই বা কত?
ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে বিমান বা হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সাতজন বিশিষ্ট নেতার মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজন মুখ্যমন্ত্রীর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। এই ঘটনাগুলি সময়ে সময়ে দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
১৯৬৫ সালে গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বলবন্তরাই মেহতা বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের সময় কচ্ছের রান অঞ্চলের উপর দিয়ে পরিদর্শনকালে পাকিস্তানের গুলিতে তাঁর বিমান ভূপাতিত হয়। এই দুর্ঘটনায় মেহতা, তাঁর স্ত্রী, তিন কর্মচারী, একজন সাংবাদিক ও দুইজন ক্রু মেম্বারের মৃত্যু হয়। তিনিই ভারতের প্রথম রাজনীতিবিদ যিনি বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন।
১৯৮০ সালের ২৩ জুন কংগ্রেস নেতা সঞ্জয় গান্ধীর মৃত্যু হয় একটি বিমান দুর্ঘটনায়। দিল্লিতে একটি স্টান্ট করার সময় তাঁর উড়োজাহাজটি ভেঙে পড়ে। ওই দুর্ঘটনায় সঞ্জয় গান্ধী ও তাঁর সহযাত্রী সুভাষ সাক্সেনা প্রাণ হারান।
২০০১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা মাধবরাও সিন্ধিয়ার মৃত্যু হয় বিমান দুর্ঘটনায়। কানপুরে একটি সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে তাঁর বিমানটি ভেঙে পড়ে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৫৬ বছর।
২০০২ সালে লোকসভার তৎকালীন স্পিকার জি.এম.সি. বালাযোগীর মৃত্যু হয় একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায়। অন্ধ্রপ্রদেশে একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় তাঁর হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। ওই দুর্ঘটনায় বালাযোগীর নিরাপত্তা আধিকারিক ও পাইলটও প্রাণ হারান।
২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই. রাজশেখর রেড্ডির মৃত্যু হয় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায়। নাল্লামালা অরণ্যের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর হেলিকপ্টারটি ভেঙে পড়ে।
২০২৫ সালের ১২ জুন গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানির মৃত্যু হয় বিমান দুর্ঘটনায়। আহমেদাবাদ থেকে টেকঅফের পর এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান ভেঙে পড়ে। রূপানি পরিবারসহ লন্ডন যাচ্ছিলেন বলে জানা যায়। পরে মৃতদের তালিকায় তাঁর নাম প্রকাশিত হয়।
২০১১ সালে অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ড. দর্জি খান্ডুর মৃত্যু হয় বিমান দুর্ঘটনায়। তাওয়াং থেকে রাজধানী ইটানগরের পথে তাঁর বিমান নিখোঁজ হয়ে যায়। পরে দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৫৬ বছর।
এই ঘটনাগুলি একের পর এক সামনে আসায় ফের প্রশ্ন উঠছে দেশে ভিআইপি বিমানযাত্রার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুন- ৩৫ মিনিটের উড়ান, তারপরই রাডার থেকে উধাও: বারামতি বিমান বিপর্যয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us