/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/22/al-falah-university-2025-11-22-13-44-19.jpg)
সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়?
Al Falah University: আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাস মডিউলের অভিযোগ ঘিরে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন প্রায় ৬০০ মেডিক্যাল পড়ুয়া। ১০ নভেম্বর লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১৫ জনের মৃত্যুর পরই প্রতিষ্ঠানটির উপর শুরু হয়েছে জোরদার নজরদারি। তার আগে পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়টি ছিল ইউজিসি স্বীকৃত, NAAC-অ্যাক্রেডিটেশন। ক্যাম্পাসজুড়ে ঝলমলে প্রচারপত্রে ‘প্রিমিয়ার মেডিক্যাল কলেজ’-এর পরিচয়ই ফুটে উঠত। কিন্তু বিস্ফোরণের দায়ে একের পর এক গ্রেফতারি বদলে দিয়েছে ছবিটা। হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ড. উমর উন নবি, বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি চালিয়েছিলেন, ড. মুজাম্মিল শাকিলের ভাড়া বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া বিপূল বিস্ফোরক এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জাওয়েদ আহমেদ সিদ্দিকিকে ৪১৫ কোটি টাকার “proceeds of crime”-এর অভিযোগে ED হেফাজতে নেওয়া সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি রাতারাতি 'হোয়াইট কলার মডিউল'-এর আঁতুড়ঘর’-এ পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুন- কীভাবে ঘরে বসে ২ মিনিটেই SIR ফর্ম অনলাইনে ফিলআপ করবেন? জমা হয়েছে কিনা জানবেন কী করে?
পড়ুয়াদের মধ্যে এখন আতঙ্ক চরমে
এই পরিস্থিতিতে পড়ুয়াদের মধ্যে এখন আতঙ্ক চরমে। উত্তরপ্রদেশের এক পিজি MBBS ছাত্র ক্যাম্পাস ছাড়ার সময় NDTV-কে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের ভবিষ্যৎ কী হবে? পাঁচ বছরের NEET-এর লড়াই, লাখ লাখ টাকা খরচ—সবকিছুই শেষ হয়ে যাবে। যদি NMC স্বীকৃতি বাতিল করে দেয়, তবে এই ডিগ্রির কোন মূল্য থাকবে না"।
বিশ্ববিদ্যালয় তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হলেও, কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের সবকটি অর্থাৎ ১৫০টি MBBS আসন ইতিমধ্যেই পূর্ণ হয়েছে। ২০১৯ সালে অনুমোদন পাওয়া এই কলেজের ফি অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কম হওয়ায় পড়ুয়াদের আগ্রহ এখনও রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
এদিকে, প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীর বাবা রাজেশ শর্মা জানান, “আমার মেয়েকে ডাক্তার বানানোই ছিল স্বপ্ন। এখন কোথায় যাব? মাঝপথে কোনও বেসরকারি কলেজে ভর্তির সুযোগ নেই। সরকারি কলেজেও ভর্তির সুযোগ নেই। এখন কলেজ ছাড়লে এক বছর নষ্ট হবে, আর থাকলে NMC স্বীকৃতি গেলেই সব শেষ।”
আরও পড়ুন- বিয়ের মরসুমে সকাল সকাল বিরাট খুশির খবর, তুমুল সস্তা হল সোনার দাম, কলকাতার দর জানলে চমকে যাবেন
এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে NAAC অ্যাক্রেডিটেশন নিয়েও। ওয়েবসাইটে মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যাক্রেডিটেশন প্রদর্শনের অভিযোগে NAAC নোটিস পাঠানোর পর বিশ্ববিদ্যালয় ‘প্রযুক্তিগত ত্রুটি’ ও ‘অবহেলা’ বলে ক্ষমা চেয়ে তথ্যটি সরিয়ে নেয়। একইসঙ্গে, AIU-এর সদস্যপদও হারিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সন্ত্রাস মডিউলের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে NMC চার চিকিৎসক—ড. মুজাফ্ফর আহমেদ, ড. আদিল আহমেদ রাথর, ড. মুজাম্মিল গনাই এবং ড. শাহিন শাহিদকে চিরতরে Indian Medical Register থেকে বাদ দিয়েছে। UAPA-র মামলায় তাদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে হস্টেলে থাকা ৬০০-এর বেশি ছাত্রছাত্রী এখন একমাত্র ভরসা হিসেবে দেখছেন NMC-কে। “আমাদের ভবিষ্যৎ বাঁচানোর দায়িত্ব NMC-এর। অভিযুক্তদের কড়া শাস্তি হোক, তদন্ত হোক—সবই চাই। কিন্তু আমাদের ক্যারিয়ার নষ্ট করা যাবে না,” বলেন লখনউয়ের এক ফাইনাল ইয়ার ছাত্র। প্রয়োজনে অন্য কলেজে স্থানান্তর বা মর্জারের দাবিও তুলেছেন তারা।
আরও পড়ুন- "হিন্দু না থাকলে পৃথিবী থাকবে না", হিন্দুত্ব নিয়ে বিরাট মন্তব্য মোহন ভাগবতের
তদন্ত জোরদার করতে ফরিদাবাদ পুলিশ কমিশনার সতেন্দ্র কুমার গুপ্তা একটি SIT গঠন করেছেন। সন্ত্রাস মডিউলের তহবিল, বিস্ফোরকের উৎস, এবং আশপাশের গ্রামের বাসিন্দাদের জড়িত থাকার সম্ভাবনা—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই সমস্ত অনিশ্চয়তার মধ্যেও ক্লাস কোনওভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। এক সিনিয়র ফ্যাকাল্টি বলেন, “আমরাও ভয় পাচ্ছি, কিন্তু এই ছাত্রদের মাঝপথে ছেড়ে যাওয়া আরও বড় অপরাধ হবে।”
এখন তাকিয়ে রয়েছে সবাই—হরিয়ানা সরকারের রিপোর্ট, এবং কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র ও শিক্ষা মন্ত্রকের সুপারিশ হাতে পাওয়ার পর NMC কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেই দিকেই।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us