/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/14/hippo-2026-01-14-10-20-58.jpg)
Alipore Zoo news: চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গেছে, জলহস্তীটি অ্যান্টিবায়োটিক এবং তার স্নায়ু উদ্দীপক অন্যান্য ওষুধে ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছিল।
প্রায় ২০ দিন ধরে জলে বন্দি অবস্থায় থাকার পর অবশেষে আলিপুর চিড়িয়াখানার চার বছরের অসুস্থ জলহস্তীটি খাঁচার মোয়াট থেকে উঠে এল। স্বেচ্ছায় জল থেকে উঠে মোয়াটের ধারে উঠলেও, পায়ের দুর্বলতার কারণে কিছুক্ষণের মধ্যেই ফের জলে নেমে যায় প্রাণীটি। তবু এই ঘটনায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ও পশু চিকিৎসকেরা।
চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গিয়েছে, স্নায়বিক সমস্যায় ভুগছে জলহস্তীটি। বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শে তাকে অ্যান্টিবায়োটিক ও স্নায়ু উদ্দীপক ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি চলছে ইউভি ও ইনফ্রারেড রে থেরাপি। ভিটামিন বি১, বি৬ ও বি১২-ও দেওয়া হচ্ছে নিয়মিত। পশু চিকিৎসকদের মতে, ইনফ্রারেড থেরাপিতে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে এবং আগামী এক সপ্তাহ এই চিকিৎসা চলবে। তাঁদের আশা, আরও কয়েক দিনের মধ্যেই পায়ের শক্তি ফিরে পেয়ে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারবে জলহস্তীটি।
সূত্রের খবর, কংক্রিটের পথে হাঁটার সময় সামনের পায়ে আঘাত পেয়েছিল প্রাণীটি। সেই আঘাত থেকেই ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ হয়ে পায়ে ফোলা দেখা দেয়। দুর্বলতার কারণে সে জল থেকে উঠে আসতে পারছিল না। সাধারণত জলহস্তীরা বেশিরভাগ সময় জলে থাকলেও খাবারের জন্য মাঝেমধ্যে স্থলে ওঠে এবং সন্ধ্যায় রাতের আশ্রয়ে ফিরে যায়।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জল থেকে তুলে চিকিৎসা করাতে না পারায়, শুরুতে জলের ধারে ওষুধ মেশানো খাবার দেওয়ার চেষ্টা হয়। কিন্তু দুর্বলতার কারণে প্রাণীটি তীরে উঠতে না পারায় সেই পদ্ধতি কার্যকর হয়নি। দীর্ঘদিন জলে বন্দি থাকার ফলে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে।
আরও পড়ুন-Suntalikhola: কলকাতা থেকে কয়েক ঘণ্টায় অভূতপূর্ব এক ‘নির্জনতার রাজ্য’! চেনেন সুন্দরী সুনতালীখোলা?
পরিস্থিতি সামাল দিতে নন্দনকানন চিড়িয়াখানার এক চিকিৎসক-সহ বিভিন্ন চিড়িয়াখানার বিশেষজ্ঞ পশু চিকিৎসকদের নিয়ে একটি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়। তাঁদের পরামর্শেই এখন চলছে বিশেষায়িত চিকিৎসা।
উল্লেখ্য, এই জলহস্তীটিকে নন্দনকানন চিড়িয়াখানা থেকে আনা হয়েছিল আলিপুরে। বর্তমানে আলিপুর চিড়িয়াখানায় দু’টি জলহস্তী রয়েছে, যার মধ্যে একটি বৃদ্ধা স্ত্রী জলহস্তী।
আরও পড়ুন-West Bengal weather: মাঘের শুরুতেই ফের তাণ্ডব দেখাবে শীত! হুড়মুড়িয়ে নামবে পারদ, কাঁপবে গোটা বাংলা
২০২৪ সালে আলিপুরে এক ৩৫ বছরের স্ত্রী জলহস্তীর মৃত্যু হয়েছিল দাঁতের অস্ত্রোপচারের সময়। অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া নীচের ক্যানাইন দাঁত নাকের পাশে ত্বক ফুটো করে গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল। মুখ খুললেই রক্তপাত হতো এবং ক্ষত ম্যালিগন্যান্ট হয়ে উঠেছিল বলে সূত্রের দাবি।
তার এক মাস পর প্রজননের উদ্দেশ্যে নন্দনকানন থেকে একটি পুরুষ ও একটি স্ত্রী জলহস্তী আনা হয়। কিন্তু আলিপুরে আসার কয়েক দিনের মধ্যেই সেই স্ত্রী জলহস্তীর মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয় বলে চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গিয়েছে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us