/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/24/amartya-sen-raises-concerns-over-sir-process-in-west-bengal-2026-01-24-16-41-35.jpg)
বাংলায় চলমান SIR নিয়ে বোমা ফাটালেন অমর্ত্য সেন
পশ্চিমবঙ্গে চলমান ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। তাঁর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া “অতিরিক্ত তাড়াহুড়ো করে” চালানো হচ্ছে, যার ফলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বহু ভোটার তাঁদের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছেন না। এর ফলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৯২ বছর বয়সী অমর্ত্য সেন বলেন, “যথেষ্ট সময় নিয়ে এবং সতর্কতার সঙ্গে ভোটার তালিকার পর্যালোচনা করা হলে তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ভালো হতে পারে। কিন্তু বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে যা হচ্ছে, তা মোটেই সেই রকম নয়।” তাঁর মতে, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া যথাযথ সময় ও যত্ন নিয়ে হওয়া উচিত।
অমর্ত্য সেনের দাবি, SIR প্রক্রিয়া অত্যন্ত তাড়াহুড়োর মধ্যে সম্পন্ন করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ ভোটার হিসেবে তাঁদের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য নথিপত্র জমা দেওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছেন না। তাঁর কথায়, “এটি শুধু ভোটারদের প্রতি অন্যায় নয়, ভারতীয় গণতন্ত্রের প্রতিও অবিচার।”
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের আওতায় শুনানি শুরু হয় গত বছরের ডিসেম্বর মাসে। সেই সময় নির্বাচন কমিশনের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছিলেন, প্রায় ৩২ লক্ষ ‘আনম্যাপড’ ভোটার যাঁরা ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে কোনও যোগসূত্র প্রমাণ করতে পারেননি প্রথম পর্যায়ে শুনানির জন্য ডাকা হবে।
এই প্রক্রিয়া ঘিরে বিতর্ক আরও বেড়ে যায় যখন চলতি মাসের শুরুতে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন অমর্ত্য সেনকেও SIR শুনানির নোটিস পাঠিয়েছে। পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ বা তথাকথিত তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে তাঁকে শুনানির জন্য ডাকা হয়। অভিযোগ ছিল, তাঁর এবং তাঁর প্রয়াত মা অমিতা সেনের বয়স সংক্রান্ত তথ্যে অসঙ্গতি রয়েছে।
আরও পড়ুন-লেপ-কম্বল কি এবার সত্যিই আলমারিতে? রবিবার থেকেই আবহাওয়ায় বড় চমক!
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে অমর্ত্য সেন বলেন, এই প্রক্রিয়ায় সময়ের অভাব স্পষ্ট, এমনকি নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের মধ্যেও। তাঁর বক্তব্য, “অনেক সময় মনে হয়, নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের কাছেও যথেষ্ট সময় নেই।” তিনি জানান, শান্তিনিকেতন থেকে ভোট দেওয়ার অধিকার নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, যদিও সেখান থেকেই তিনি আগেও ভোট দিয়েছেন এবং তাঁর নাম, ঠিকানা-সহ সমস্ত তথ্য সরকারি নথিতে রয়েছে।
অমর্ত্য সেন আরও বলেন, তাঁর জন্ম গ্রামাঞ্চলে হওয়ায় তাঁর কাছে জন্ম শংসাপত্র নেই, যা ভারতের বহু গ্রামীণ নাগরিকের ক্ষেত্রেই সাধারণ ঘটনা। তবুও ভোটার হিসেবে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে তাঁকে অতিরিক্ত নথিপত্র জমা দিতে হয়েছে। তাঁর মতে, এই ধরনের জটিলতা ও সময়ের চাপ সাধারণ মানুষের জন্য আরও বড় সমস্যার কারণ হয়ে উঠছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে উদ্বেগজনক।
আরও পড়ুন- ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’-তে কত নাম বাদ? সুপ্রিম নির্দেশের পর আজই তালিকা প্রকাশ কমিশনের?


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us