কলকাতা থেকে শাহি গর্জনের মাঝেই দিল্লিতে মোদীর সঙ্গে দেখা করলেন অধীর, তুমুল চর্চা

বছর ঘুরলেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। তিনদিনের বাংলা সফরে এসে কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

বছর ঘুরলেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। তিনদিনের বাংলা সফরে এসে কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
Amit Shah, Mamata Banerjee, West Bengal politics, 2026 Assembly election, BJP Bengal government, corruption in West Bengal, illegal immigration issue, Adhir Ranjan Chowdhury, migrant workers issue, Prime Minister Narendra Modi meeting, Bengal development projects, Tol syndicate, law and order, West Bengal Congress, Bengali migrant workers, national security, Bengal election campaign

কলকাতা থেকে শাহি গর্জনের মাঝে দিল্লিতে মোদীর সঙ্গে দেখা করলেন অধীর

বছর ঘুরলেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। তিনদিনের বাংলা সফরে এসে কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ ও আইন-শৃঙ্খলা ইস্যুতে রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে “বিজেপি সরকার” গঠন করবে। একই দিনে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। বৈঠকে তিনি বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর নির্যাতনের বিষয়টি তুলে ধরেন।

Advertisment

আরও পড়ুন-Khaleda Zia death: প্রয়াত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, বড় সিদ্ধান্ত BNP-এর

কলকাতায় সংবাদ সম্মেলনে অমিত শাহ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে দুর্নীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে উন্নয়ন থমকে গেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর চালু করা সমস্ত কল্যাণমূলক প্রকল্প এখানে থমকে রয়েছে। সিন্ডিকেটের শিকার রাজ্যের সাধারণ মানুষ। গত ১৪ বছর ধরে ভয় এবং দুর্নীতি পশ্চিমবঙ্গের পরিচয়ে পরিণত হয়েছে।” তাঁর দাবি, বিজেপি সরকার গঠন হলে বাংলা তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে।

 অনুপ্রবেশ ইস্যুতে রাজ্যকে নিশানা করে অমিত শাহ প্রশ্ন তোলেন, “ত্রিপুরা, অসম, রাজস্থান, পাঞ্জাব, কাশ্মীর ও গুজরাটে অনুপ্রবেশ কেন আজ নিয়ন্ত্রণে? কারণ সেখানকার সরকার সহযোগিতা করেছে। পশ্চিমবঙ্গে জনসংখ্যার ভারসাম্য বদলাতে এবং ভোটব্যাঙ্ক মজবুত করতে অনুপ্রবেশকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।” তিনি বলেন, বাংলা সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়।

২০২৬ সালের সরকার গঠনের নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করে শাহ বলেন, “১৫ এপ্রিল ২০২৬-এ বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করবে। তখন বাংলার  গর্ব ও বাংলার সংস্কৃতিকে নতুন করে প্রতিষ্ঠা করা হবে।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিজেপির প্রতিষ্ঠাতা ডঃ শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির সঙ্গে বাংলার ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথাও।

আরও পড়ুন-SIR-এ নাম বাদ? কীভাবে নাম তুলবেন তালিকায়? বড় কৌশলের ঘোষণা মমতার

৩০ ডিসেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরে অমিত শাহ বলেন, “১৯৪৩ সালের এই দিনে বাংলার সন্তান নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু পোর্ট ব্লেয়ারে স্বাধীন ভারতের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। আজ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়কাল বাংলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তাঁর বক্তব্য, বাংলার মানুষ ভয়, দুর্নীতি ও কুশাসনের বদলে ঐতিহ্য, উন্নয়ন ও দরিদ্রকল্যাণের পক্ষে রায় দেবে।

এদিকে একই দিনে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। বৈঠকে তিনি বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরেন। অধীর রঞ্জনের দাবি, সারা দেশে বিশেষ করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্তা ও আক্রমণের ঘটনা বেড়ে চলেছে।

প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠির কথা উল্লেখ করে অধীর রঞ্জন বলেন, “তাদের একমাত্র অপরাধ, তারা বাংলা ভাষায় কথা বলেন। অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসন তাঁদের ভুল করে বাংলাদেশি বা অনুপ্রবেশকারী বলে ধরে হেনস্থা করছে।” তিনি জানান, সম্প্রতি ওড়িশায় এক বাঙালি শ্রমিককে নির্মমভাবে পিটিয়ে খুনের ঘটনাও ঘটেছে।

আরও পড়ুন- “২০২৬-এ সরকার বদল অবশ্যম্ভাবী!” নারী নিরাপত্তা থেকে শিল্পায়ন, তৃণমূলকে তুলোধনা অমিত শাহের

পশ্চিমবঙ্গ অভিবাসী কল্যাণ বোর্ডের তথ্য উদ্ধৃত করে অধীর রঞ্জন জানান, গত ১০ মাসে ১,১৪৩টি হয়রানির অভিযোগ জমা পড়েছে, যার বড় অংশই বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে ঘটেছে। এই ধরনের ঘটনা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

adhir choudhury modi shah