/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/29/anandapur-fire-bjp-tmc-blame-game-mamata-government-2026-01-29-10-31-58.jpg)
আনন্দপুরে অগ্নিকান্ডের ঘটনাকে 'ম্যান মেড' বলে কটাক্ষ শুভেন্দুর
আনন্দপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও পর্যন্ত ২৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। গত ২৬ জানুয়ারি ভোর প্রায় ৩টে নাগাদ আনন্দপুর এলাকায় পাশাপাশি থাকা দুটি গুদামে এই আগুন লাগে। সেই সময় গুদামের ভিতরেই ঘুমিয়ে ছিলেন শ্রমিকরা। নিহত ও নিখোঁজ সকলেই পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গাফিলতির কারণে মৃত্যুর অভিযোগে গুদামের মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগুন লাগার সঠিক কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দমকল বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া দেহ ও পরিচয় নিশ্চিত করতে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে।
এদিকে মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু স্বীকার করেন, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাফিলতি ছিল। তিনি জানান, যাঁরা অগ্নিনিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হবে। এদিকে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় মমতা সরকারকে নিশানা করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, সম্প্রতি দক্ষিণবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে ডিভিসির বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর ‘মানবসৃষ্ট’ শব্দ ব্যবহারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রেও কি সরকার দায় এড়াতে পারে। পাশাপাশি, অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর ঘটনাস্থল পরিদর্শন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলনেতা।
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, “এএমআরআই হাসপাতাল, বড়বাজারের পর এবার আনন্দপুর একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে, কিন্তু কোনও জবাবদিহি নেই। রাজ্যে কার্যত ‘নো গভর্নমেন্ট’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।” তাঁর মতে, আনন্দপুরের ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়, বরং সরকারের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও ব্যর্থতারই ফল।
তবে বিজেপির এই অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী প্রশ্ন তোলেন, বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে এমন দুর্ঘটনা ঘটলে বিজেপি নেতারা কি সেগুলিকেও ‘মানবসৃষ্ট’ বলবেন? তিনি বলেন, “গুজরাতে অগ্নিকাণ্ডে ২০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু বা বিহারে একের পর এক সেতু ভাঙার ঘটনাকে কি বিজেপি মানবসৃষ্ট বলে মানবে? বাংলায় কিছু ঘটলেই বিজেপি সেটাকে মানবসৃষ্ট বলে দাগাতে চায় এটাই তাদের বাংলাবিরোধী মানসিকতার প্রমাণ।”
আরও পড়ুন- বন্ধ ঘরে স্ত্রী-সন্তানদের রক্তস্নাত দেহ, পাশে ঝুলছেন গৃহকর্তা, তদন্তে পুলিশ
সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার জলাভূমি ভরাটের অনুমতি দিয়ে বেআইনিভাবে কারখানা গড়ে উঠতে দিয়েছে। তাঁর দাবি, কোনও রকম নজরদারি ছিল না, আর সেই চরম দায়িত্বহীনতার ফলেই নিরীহ মানুষের প্রাণ গেল। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “ইডির অভিযানের জায়গায় যেতে মুখ্যমন্ত্রী সময় পান, কিন্তু আনন্দপুরের দুর্ঘটনাস্থলে যাওয়ার সময় পেলেন না কেন?” অন্যদিকে, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট নির্মাণগুলি ২০০৬ সালে বামফ্রন্ট আমলে তৈরি হয়েছিল। যদিও সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী এই দাবি খারিজ করে বলেন, ২০০৬ সালে ওই এলাকায় কোনও পরিচিত মোমো ব্র্যান্ড বা এ ধরনের কারখানা ছিল না।
এই ঘটনায় অগ্নি সুরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট দুটি গুদামেই বাধ্যতামূলক অগ্নি সুরক্ষা ছাড়পত্র ছাড়াই চলছিল। ওই ভবনেই জনপ্রিয় খাদ্য সংস্থা ‘ওয়াও! মোমোস’-এর একটি গুদাম ছিল, যা নিয়ে শুরুতে বিতর্ক তৈরি হয়। তবে ‘ওয়াও! মোমোস’ একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগুন তাদের গুদাম থেকে লাগেনি। সংস্থার দাবি, পাশের একটি গুদাম থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে তাদের গুদামে পৌঁছয়। সংস্থার তরফে বলা হয়েছে, ফরেনসিক ও পুলিশি তদন্তে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে যে আগুনের সূত্রপাত পাশের গুদাম থেকেই হয়।
আরও পড়ুন- 'নোবেল শান্তি পুরষ্কার পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ', ভোটের আগে নীতিনের মন্তব্যে তোলপাড়, গর্জে উঠল তৃণমূল
‘ওয়াও! মোমোস’ জানিয়েছে, আনন্দপুরে তাদের প্রায় ১২ হাজার বর্গফুটের একটি ভাড়া নেওয়া গুদাম ছিল, যেখানে প্যাকেজিং সামগ্রী, বিভিন্ন পানীয় এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মজুত রাখা হত। সংস্থাটি আরও জানায়, যে বাড়িওয়ালার কাছ থেকে তারা গুদামটি ভাড়া নিয়েছিল, সেই বাড়িওয়ালার মালিকানাধীন ডেকোরেটরসের গুদাম থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে ।
আরও পড়ুন- ভোটের আগে দিল্লিতে ঝড়! হুঙ্কার মমতার, রাজধানীর রাজপথ দাপিয়ে বেড়াবেন তৃণমূল সুপ্রিমো


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us