/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/26/anandapur-factory-fire-2026-01-26-17-39-20.jpg)
জতুগৃহ আনন্দপুর! ১০ ঘন্টা পর ঘটনাস্থলে অরূপ বিশ্বাস
১০ ঘন্টা পর আনন্দপুরের মোমো কারখানায় পৌঁছান রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। ১২ ঘন্টা পরেও আসেননি দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। ইতিমধ্যে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে সাতজনের। নিখোঁজ কমপক্ষে ২০। গোটা এলাকায় নেমে এসেছে অদ্ভুত নীরবতা।
আনন্দপুরের মোমো কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ১০ ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছান রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। সোমবার দুপুর প্রায় ১টা নাগাদ তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে ঘটনার ১২ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। অগ্নিকাণ্ডের জেরে আনন্দপুর এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সর্বত্র কান্না আর আর্তনাদ।
পুলিশ ও দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, আনন্দপুরের ওই কারখানায় টানা ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আগুন জ্বলছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে এবং ২০ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। আগুনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কারখানার ভেতরে। উদ্ধারকাজ এবং আগুন নেভানোর চেষ্টা একসঙ্গে চলছে। ঘটনাস্থলে দমকলের ১৫টি ইঞ্জিন। ইতিমধ্যে জেসিবি নিয়ে চলছে কারখানার ভিতরে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে কারখানা পরিদর্শন করেন টালিগঞ্জের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। পরে তিনি নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের কাছ থেকে ঘটনার বিশদ তথ্য নেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অরূপ বিশ্বাস বলেন, “পরিস্থিতি সামাল দেওয়াটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দুটি সংলগ্ন গুদামে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে, তবে ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করতে সময় লাগবে।”
আরও পড়ুন-মুড়ি-মুড়কির মতো পড়ল বোমা, বিরিয়ানি কেনাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার, নামল র্যাফ, উত্তাল টিকিয়াপাড়া
কারখানার ভেতরে পাম তেলের ড্রাম থাকার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে কিছুটা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “এখন এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় নয়। পুলিশ, প্রশাসন ও দমকল বিভাগ বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। এই মুহূর্তে আমাদের প্রথম কাজ আগুন নেভানো এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। মানুষের জীবন বাঁচানোই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।”
দমকল বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, কারখানার ভেতরে থাকা বিপুল পরিমাণ পাম তেলের ড্রামের কারণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই অগ্নিকাণ্ডের পর কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শিল্প প্রতিষ্ঠানের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এদিকে, ঘটনাস্থলে দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর অনুপস্থিতি নিয়ে বিরোধীরা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলেছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষ করে বলেন, “সরকার ছুটিতে চলে গিয়েছে। সরকার থাকলে আগুন নেভানো সম্ভব, আর সরকার না থাকলে এমন দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকে।” তবে সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ যোগাযোগ করা হলে দমকলমন্ত্রী জানান, তিনি ঘটনার কথা জানেন এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ চলছে।বর্তমানে এলাকায় কড়া পুলিশি নজরদারি রাখা হয়েছে। নিখোঁজ শ্রমিকদের খোঁজে উদ্ধারকাজ চললেও পরিবারের সদস্যদের উৎকণ্ঠা ক্রমেই বাড়ছে।
আরও পড়ুন- প্রজাতন্ত্র দিবসে বিধ্বংসী আগুন খাস কলকাতায়, ঝলসে মৃত ৭, এখনও নিখোঁজ কমপক্ষে ২০, তুমুল চাঞ্চল্য


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us