/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/26/anandapur-momo-factory-fire-kolkata-missing-workers-2026-01-26-17-58-38.jpg)
চরম উৎকণ্ঠা ও শোকের আবহ
আনন্দপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর আগুন আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রণে এলেও কারখানার ভেতর থেকে এখনও ধিকধিক করে ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে। রবিবার গভীর রাতে আনন্দপুরের একটি নামী মোমো কারখানায় আগুন লাগে। পরে জানা যায়, ওই গুদামে শুধু মোমো উৎপাদনের কাজই নয়, একটি ডেকোরেটর সংস্থার কর্মীরাও কাজ করছিলেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় গোটা কারখানায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
আরও পড়ুন- প্রজাতন্ত্র দিবসে বিধ্বংসী আগুন খাস কলকাতায়, ঝলসে মৃত ৭, এখনও নিখোঁজ কমপক্ষে ২০, তুমুল চাঞ্চল্য
ঘটনার পর প্রথমে তিনজন নিখোঁজ বলে মনে করা হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিখোঁজের সংখ্যা বাড়তে থাকে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন নিরাপত্তারক্ষী। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সাত জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতায় একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। তার মধ্যে আনন্দপুরের এই কারখানার অগ্নিকান্ডের ঘটনাই সবচেয়ে ভয়াবহ। রবিবার রাত থেকে কারখানাটি জ্বলতে থাকে। সামনের অংশের আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও ভিতরের অংশে এখনও আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি সামাল দিতে ১৫টি দমকল ইঞ্জিন মোতায়েন করা হলেও দমকলকর্মীরা এখনও আগুনের উৎসস্থলে পৌঁছতে পারেননি। ধোঁয়ার ঘনত্ব বেশি থাকায় উদ্ধার ও তল্লাশি কাজ ব্যাহত হচ্ছে, যদিও দমকলের দাবি, আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
আরও পড়ুন- কালো ছাইয়ের মধ্যে পোড়া চামড়ার গন্ধ, ভয়াবহতার আনন্দপুরে শুধুই বিষন্নতা
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল, মোমো কারখানার তিনজন কর্মী নাইট শিফটে কাজ করছিলেন এবং আগুন লাগার সময় তাঁরা গুদামের ভিতরে আটকে পড়েন। পড়ে জানা গিয়েছে নিখোঁজের সংখ্যাটা কমপক্ষে ২০। এদিকে এক শ্রমিকের পরিবার অভিযোগ করেছে, শেষবার ফোনে কথা বলার সময় ওই কর্মী জানিয়েছিলেন, কারখানার গেট বাইরে থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
এই ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ কর্মীদের পরিবারে চরম উৎকণ্ঠা ও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। এখনও পর্যন্ত পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ও নিখোঁজের চূড়ান্ত সংখ্যা ঘোষণা না করায় অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পঙ্কজ হালদার তাঁদের মধ্যেই একজন, যিনি মোমো সংস্থার কর্মী হিসেবে রবিবার রাতে কারখানায় নাইট শিফটে কাজ করছিলেন। সোমবার সকাল থেকে জ্বলন্ত কারখানার সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষা করছেন। পঙ্কজের দাদুর চোখেমুখে আতঙ্ক স্পষ্ট। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “আমার নাতির কোনও খোঁজ নেই। দমকল বা পুলিশের কাছ থেকেও কোনও স্পষ্ট তথ্য পাচ্ছি না।”


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us