/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/26/anandapur-momo-factory-fire-six-workers-missing-2026-01-26-14-15-46.jpg)
বিধ্বংসী আগুন খাস কলকাতায়
প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে বিধ্বংসী আগুন। ঝলসে মৃত্যু হল সাত জনের। এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ ২০ । এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। প্রজাতন্ত্র দিবসের ভোরে ভয়াবহ আগুন কলকাতায়। আনন্দপুরে ফুড ডেলিভারি সংস্থার গোডাউন ভস্মীভূত। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের ১৫টি ইঞ্জিন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করলেও, ভেতরে বেশ কয়েক জন কর্মীর আটকে থাকার আশঙ্কায় তীব্র আতঙ্ক ছড়ায় গোটা এলাকায়। শেষ পাওয়া খবর অনুসারে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ঝলসে মৃত্যু হয়েছে সাত জনের। এখনও নিখোঁজ কমপক্ষে ২০।
আরও পড়ুন-সাহসিকতাকে স্যালুট! মহাকাশে ইতিহাস গড়া ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লাকে অশোক চক্রে প্রদান মোদী সরকারের
কলকাতার আনন্দপুরে একটি মোমো প্রস্তুতকারক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। গতকাল রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ আগুনের সূত্রপাত হয়। কয়েক ঘণ্টা পেরিয়েও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে দমকল সূত্রে জানা গেছে। এই ঘটনায় কারখানার ভেতরে কর্মরত ছয় জন শ্রমিকের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে সাত জনের। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ২০ জন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
দমকল দফতর জানিয়েছে, খবর পেয়ে অন্তত ১২টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে আগুনের তীব্রতার কারণে দমকলকর্মীদের কারখানার মূল অংশে প্রবেশ করতে বেগ পেতে হয়। সোমবার সকাল পর্যন্ত আগুন নেভানোর কাজ চলছিল এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও বেশ কিছুক্ষণ সময় লাগে।
ঘটনার সময় নাইট ডিউটিতে থাকা ছয় জন শ্রমিক কারখানার ভেতরেই ছিলেন বলে জানা যায়। আগুন লাগার পর থেকে তাঁদের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই কারখানার অন্যান্য কর্মীরাও ঘটনাস্থলে ভিড় জমান।
দমকল সূত্রে জানানো হয়েছে, কারখানার ভেতরে বিপুল পরিমাণ পাম অয়েল এবং গ্যাস সিলিন্ডার মজুত থাকায় আগুন মুহূর্তের মধ্যেই ভয়াবহ রূপ নেয়। এই দাহ্য সামগ্রীর কারণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে দমকল দ্রুত পৌঁছালেও প্রথমদিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ভোরের দিকে আংশিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। তাঁদের দাবি, ফোনে কোনওভাবেই প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। একটি ফোন এখনও রিং হচ্ছে বলে জানা গেলেও কেউ ধরছেন না। এক নিখোঁজ শ্রমিকের এক আত্মীয়ের বর্ণনায় উঠে এসেছে হৃদয়বিদারক ছবি। তিনি বলেন, “রাতে হঠাৎ ও আমাকে ফোন করে জানায়, দমবন্ধ হয়ে আসছে। বলেছিল, ‘আমার মনে হয় আমি বাঁচব না। কারখানায় আগুন লেগেছে। পাঁচ মিনিটের মধ্যে যদি কেউ আমাকে বাঁচাতে না আসে, আমি মারা যাব।’ এর পর থেকে আর কোনও যোগাযোগ নেই। আমরা দমকলে খবর দিয়েছি। তাঁরা চেষ্টা করছেন, কিন্তু কারখানার ভেতরে ঢোকা না পর্যন্ত কিছু নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।”
এদিকে, মোমো প্রস্তুতকারক সংস্থার এক কর্মী এই ঘটনার জন্য একটি ডেকোরেটর সংস্থাকে দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, কারখানার পাশেই ডেকোরেটরদের সরঞ্জাম রাখা হয়েছিল, যা নিয়ে বারবার সতর্ক করা হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “কারখানার ভেতরে দাহ্য সামগ্রী রয়েছে, তাই পাশেই এই ধরনের সরঞ্জাম রাখা বিপজ্জনক। আমরা বহুবার বলেছিলাম, কিন্তু মালিক কথা শোনেননি।”
ওই কর্মী আরও জানান, আগুন লাগার পর তিনি নাইট ডিউটিতে থাকা শ্রমিকদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। তাঁর কথায়, “তাঁরা বলেছিলেন, বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। তার পর থেকে আর কোনও যোগাযোগ নেই।”
স্থানীয় বাসিন্দারাও এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, এর আগেও ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল এবং তাঁরা বারবার প্রশাসনকে সতর্ক করেছিলেন, বিশেষ করে কারখানার আশপাশে আবাসিক বাড়ি থাকায়। এক বাসিন্দা বলেন, “তখন কেউ গুরুত্ব দেয়নি। আজ তার ফলেই এত বড় বিপর্যয় ঘটল।”
এই অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে দমকল ও উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। এদিন দুপুর ১টা নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। এদিকে দমকলমন্ত্রীর দেখা না মেলায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'সরকার ছুটিতে গিয়েছে'।
পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্তে নেমেছে
ঘটনার খবর পেয়ে নিহতদের পরিবার ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর, পরিবারগুলি শোকাহত হয়ে পড়ে। পুলিশ মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে। আগুন লাগার সঠিক কারণ এবং নিরাপত্তার ত্রুটিগুলিও তদন্ত করা হচ্ছে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us