/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/26/anandapur-warehouse-fire-missing-workers-search-2026-01-26-17-48-56.jpg)
কালো ছাইয়ের মধ্যে পোড়া চামড়ার গন্ধ, ভয়াবহতার আনন্দপুরে শুধুই বিষন্নতা
চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কালো ছাই, পুড়ে যাওয়া গুদাম ও কারখানায় পোড়া চামড়ার গন্ধ। দুর্ঘটনার প্রায় বারো ঘণ্টা পরেও এমনই ভয়াবহ ছবি ধরা পড়েছে আনন্দপুরের নাজিরাবাদের গুদামে। চারিদিকে দমকল ও পুলিশের কড়া পাহারা, ‘ডোন্ট ক্রস’ টেপ। গতকাল ভোর ৩টা ৩০ মিনিটে আগুন লাগার পর সোমবার বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
আরও পড়ুন-প্রজাতন্ত্র দিবসে বিধ্বংসী আগুন খাস কলকাতায়, ঝলসে মৃত ৭, এখনও নিখোঁজ কমপক্ষে ২০, তুমুল চাঞ্চল্য
দমকল সূত্রে জানা গেছে, কারখানার ভেতরে অন্তত তিনটি জায়গায় আগুন ছড়িয়েছিল। ভিতরে আটকে পড়া শ্রমিকদের কোনও নির্দিষ্ট সন্ধান এখনও মেলেনি। এখন পর্যন্ত সাতটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, নিখোঁজ অন্তত ২০ জন। তারা জীবিত না মৃত? তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পুড়ে যাওয়া গুদামে তল্লাশি চালিয়েও নিখোঁজদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। দমকলকর্মীরা ভিতরে আটকে পড়াদের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট কোনও তথ্য দিতে না পারায় পরিবারের সদস্যদের উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে।
ঘটনাস্থলের বাইরে ভেঙে পড়েছেন নিখোঁজদের স্বজনেরা। ২৫ ও ৩০ বছর বয়সি দুই মহিলা প্রায় অজ্ঞান হওয়ার মত অবস্থায়, কখনও জ্ঞান ফিরলে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। নিখোঁজ স্বামীদের কোনও খোঁজ নেই। কেউ কেউ ভোরে স্বামীর ফোন পেয়েছিলেন, কেউ আবার কোনও খবরই পাননি। আগুন লাগার খবর পেয়ে তাঁরা ছুটে এসেছিলেন কর্মস্থলে, কিন্তু পৌঁছে দেখেন সব ফোন বন্ধ।
আরও পড়ুন- মুড়ি-মুড়কির মতো পড়ল বোমা, বিরিয়ানি কেনাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার, নামল র্যাফ, উত্তাল টিকিয়াপাড়া
পরিবারের সদস্যদের দাবি, সকাল থেকে নিখোঁজদের সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। ‘ডু নট ক্রস’ লেখা টেপের ওপারে দাঁড়িয়ে তাঁরা অপেক্ষা করছেন কোনও খবরের আশায়। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তাঁদের দাবি, রবিবার রাতে গুদামের ভিতরে একটি পিকনিক চলছিল। ফলে ভিতরে থাকা মানুষের সংখ্যা ২০ নয়, কমপক্ষে ৩০ জন হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুব্রত দাঁ সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁর এক আত্মীয় ডেকোরেটরের ওই গুদামে কাজ করেন। তিনি বলেন, “ভেতরে ঢুকে দেখা গেছে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সারি সারি পড়ে আছে পোড়া দেহের অংশ। অনেকে বলছেন, ভেতরে প্রায় ৩০ জন ছিল। দমকল আসার আগেই যারা বেরিয়ে পড়তে পেরেছিল, তারা পিছনের রাস্তা ধরেই পালিয়েছে।” তাঁর পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন ভাই পঙ্কজ হালদার, যিনি ওই গুদামেই কাজ করতেন এবং সেদিন রাতের ডিউটিতে ছিলেন।
পঙ্কজ হালদারের পরিবারের দাবি, ভোরে আগুন লাগার পর তিনি স্ত্রীকে ফোন করেছিলেন। এরপর পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে বাইরে তাঁর বাইক দেখতে পেলেও তাঁর কোনও খোঁজ পাননি। পরিবারের এক সদস্য জানান, “শেষবার কথা বলার সময় তিনি বলেছিলেন, দেয়াল ভাঙার চেষ্টা করছেন। তারপর থেকে আর কোনও যোগাযোগ হয়নি।” দমকল আধিকারিকদের কাছ থেকেও এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট কোনও তথ্য মেলেনি। নিখোঁজ শ্রমিকদের ভাগ্যে কী আছে? তা জানতে উৎকণ্ঠায় প্রহর গুনছেন পরিবারগুলি।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us