/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/17/idol-2026-01-17-08-22-01.jpg)
Sen Era Sculpture: উদ্ধার বহু প্রাচীন বিষ্ণু-মূর্তি।
East Burdwan News: পুকুরের মাটি কাটার সময় যন্ত্রের ডগায় উঠে এল প্রায় হাজার বছরের প্রাচীন কষ্টিপাথরের বিষ্ণুমূর্তি। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের রায়নার পলাসন গ্রামের সাঁইপাড়ায়। মাটির নিচ থেকে এই মহামূল্যবান পুরাকীর্তি উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বর্তমানে মূর্তিটি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় স্থান পেয়েছে।
কীভাবে মিলল মূর্তি?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পলাসন গ্রামের সাঁইপাড়ার 'বাসাপুকুর'টি দীর্ঘদিন ধরে মজে ছিল। সম্প্রতি পুকুরটির মালিক সংস্কারের উদ্যোগ নেন। সেই মতো দিন কয়েক আগে মাটি ও পাঁক তোলার জন্য মেশিন নামানো হয়। খোঁড়াখুঁড়ি চলাকালীনই যন্ত্রের ডগায় উঠে আসে কালো কষ্টিপাথরের ওই প্রাচীন বিষ্ণুমূর্তি।
উদ্ধার ও হস্তান্তর
মূর্তিটি পাওয়ার পরই তার অধিকার নিয়ে পুকুর মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রায়না থানার পুলিশ। তারা মূর্তিটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এরপর শুক্রবার বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মিউজিয়ামের কর্মীরা রায়না থানা থেকে মূর্তিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় নিয়ে যান।
আরও পড়ুন- West Bengal Weather: ভরা মাঘেই কি শীতের বিদায়ঘণ্টা? কবে থেকে চড়বে পারদ? দিনক্ষণ জানাল হাওয়া অফিস
ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বিশেষজ্ঞদের মত
মূর্তিটি প্রসঙ্গে বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালার অধিকর্তা তথা বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন কিউরেটর রঙ্গনকান্তি জানা বলেন, "মূর্তিটি একাদশ-দ্বাদশ শতকের সেন আমলের বলেই মনে করা হচ্ছে।" তিনি মূর্তির গঠনশৈলী ব্যাখ্যা করে জানান, বিষ্ণুদেবের নিচের ডান হাতে পদ্ম ও উপরের ডান হাতে চক্র রয়েছে।
আরও পড়ুন-বাবার পরিচয় দিতে না পারার ভয়, SIR আতঙ্কে শেষমেশ বিষপান বধূর
উপরের বাঁ হাতে গদা এবং নিচের বাঁ হাতে শঙ্খ বিদ্যমান। দুই পাশে রয়েছেন দেবী লক্ষ্মী ও সরস্বতী। রঙ্গনবাবুর মতে, প্রাচীনকালে রায়নার বিস্তীর্ণ অংশে বিষ্ণু উপাসনা প্রচলিত ছিল, যা এই মূর্তি উদ্ধারের ঘটনা ফের প্রমাণ করল।
মূর্তির বর্তমান অবস্থা
শুক্রবার মূর্তিটি সংগ্রহ করতে যান বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মিউজিয়ামের কর্মী শ্যামসুন্দর বেরা। তিনি জানান, মূর্তিটি কষ্টিপাথরের তৈরি। এর উচ্চতা ৩৩ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ১৩ ইঞ্চি। তবে মাটি কাটার যন্ত্রের আঘাতেই সম্ভবত মূর্তির একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে মূর্তির বাঁদিকের অংশ, নাক ও বাঁ চোখের ক্ষতি হয়েছে।
আরও পড়ুন-'বিজেপির লোকেরা ERO অফিসে গেলে DJ শোনানোর দাওয়াই', SIR-এর সময়সীমা বাড়ানোয় কমিশনকে তুলোধোনা অভিষেকের
শ্যামসুন্দরবাবু আরও বলেন, "গত বছরও রায়না থানা এলাকা থেকে একই রকম দুটি প্রাচীন মূর্তি উদ্ধার হয়েছিল, যা বর্তমানে আমাদের সংগ্রহশালায় রয়েছে।" ইতিহাস ও পুরাতত্ত্ববিদদের মতে, পাল-সেন যুগের ধর্মীয় ও শিল্প ঐতিহ্য সম্পর্কে গবেষণায় এই মূর্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us