/indian-express-bangla/media/media_files/WA2KVZVe1rvqjgKnqNGq.jpg)
arijit singh: অরিজিৎ সিং স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গীতের জীবন থেমে যাচ্ছে না।
Arijit Singh: বলিউডের 'প্লেব্যাক' থেকে সরে দাঁড়ালেও অরিজিৎ সিং স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গীতের জীবন থেমে যাচ্ছে না। চলচ্চিত্রের নির্দিষ্ট কাঠামোর বাইরে বেরিয়ে এবার তিনি স্বাধীন সঙ্গীতের জগতে মনোনিবেশ করতে চান। প্রায় দুই দশক আগে রিয়েলিটি শো ‘ফেম গুরুকুল’-এর মঞ্চ থেকে উঠে আসা এই শিল্পীর প্লেব্যাক থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত চলচ্চিত্র ও সঙ্গীত মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। লক্ষ লক্ষ হৃদয়ে রাজত্ব করা এই গায়কের পথচলা সহজ ছিল না, বরং তা ছিল সংগ্রাম, প্রত্যাখ্যান এবং ধৈর্যের এক দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প।
Arijit Singh: ‘আমি সংগীত ছাড়ছি না’, জিয়াগঞ্জ থেকে বিশ্বমঞ্চ! কেমন ছিল অরিজিৎ সিংয়ের পথ চলা?
২০০৫ সালে সনি টিভিতে সম্প্রচারিত ‘ফেম গুরুকুল’-এ অংশ নিয়েছিলেন অরিজিৎ সিং। গুরু রাজেন্দ্র প্রসাদ হাজারীর তত্ত্বাবধানে প্রতিযোগিতায় নামলেও, সেই সময় তাঁর কণ্ঠের গভীরতা বিচারক ও দর্শকদের পুরোপুরি মুগ্ধ করতে পারেনি। গান ছাড়াও স্টাইল ও উপস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া সেই শো-তে তিনি প্রয়োজনীয় তথাকথিত ‘এক্স-ফ্যাক্টর’-এর অভাবে শীর্ষ পাঁচে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন এবং ষষ্ঠ স্থানে থেকে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়েন।
শো চলাকালীনই তাঁর প্রতিভা নজরে আসে প্রখ্যাত পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালির। তিনি অরিজিতকে কাজের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং ‘সাওয়ারিয়া’ ছবির জন্য একটি গানও রেকর্ড করান। তবে ছবির চিত্রনাট্যে পরিবর্তনের কারণে সেই গান আর প্রকাশ পায়নি। এরপর বাড়ি না ফিরে অরিজিৎ মুম্বইয়ে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং আন্ধেরিতে একটি ছোট ঘর ভাড়া করে শুরু হয় তাঁর কঠিন লড়াই। গান গাওয়ার সুযোগ না পেয়ে তিনি প্রীতম, বিশাল-এর মতো সঙ্গীত পরিচালকদের সঙ্গে মিউজিক প্রোগ্রামার ও সহকারী হিসেবে কাজ করতে থাকেন। আজ যিনি বিলাসবহুল গাড়ির মালিক, এক সময় তাঁকে লোকাল ট্রেন বা সাইকেলে চড়েই স্টুডিওতে যেতে হতো।
Arijit Singh: বলিউডে বড় ধাক্কা! প্লেব্যাক সিঙ্গিং ছাড়ছেন অরিজিৎ সিং, কী বললেন শিল্পী?
২০১১ সালে ‘মার্ডার ২’ ছবির ‘ফির মহব্বত’ গান তাঁকে পরিচিতি দিলেও প্রকৃত সাফল্য আসে ২০১৩ সালে। মোহিত সুরি পরিচালিত ‘আশিকি ২’-এর ‘তুম হি হো’ গানটি অরিজিৎ সিংকে রাতারাতি আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়। সেই গান ঘরে ঘরে, মোবাইলের কলার টিউন থেকে প্রেমিক মনে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ‘চান্না মেরেয়া’, ‘কবীর’, 'কেসারিয়া’র মতো একের পর এক হিট গান তাঁকে এমন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়, যা খুব কম শিল্পীর পক্ষেই সম্ভব।
এক সময় রিয়েলিটি শো-তে পরাজিত হওয়া এই শিল্পীই আজ সবচেয়ে সফলদের একজন। ‘ফেম গুরুকুল’-এর বিজয়ীরা আজ অনেকটাই আড়ালে চলে গেলেও, ষষ্ঠ স্থান অধিকারী অরিজিৎ সিং হয়ে উঠেছেন এক আন্তর্জাতিক সুপারস্টার। তাঁর সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে ধরা হয় তাঁর সরলতা, সঙ্গীতের প্রতি তাঁর গভীর যোগসূত্র এবং সরল জীবনদর্শনকে। খ্যাতির শীর্ষে থেকেও তিনি সাধারণ জীবনযাপনেই স্বচ্ছন্দ। এমনকি প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণাতেও তিনি নিজেকে ‘শিক্ষার্থী’ হিসেবেই তুলে ধরেছেন। অরিজিৎ সিংয়ের এই যাত্রা প্রমাণ করে, সাময়িক পরাজয়ই কখনও কখনও হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় জয়ের সূচনা।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us