/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/21/asha-workers-detained-en-route-to-bengal-health-department-hq-amid-plans-to-intensify-protests-2026-01-21-14-54-13.jpg)
আশাকর্মীদের বিক্ষোভে রণক্ষেত্র রাজপথ
ASHA workers Protest: বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে মিছিল করে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের সদর দফতর স্বাস্থ্য ভবনের দিকে যাওয়ার পথে বুধবার একাধিক আশাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতেই এই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ন্যূনতম মাসিক ভাতা বৃদ্ধিসহ একাধিক দাবিতে ২৩ ডিসেম্বর থেকে কর্মবিরতি পালন করছেন রাজ্যের Accredited Social Health Activists (ASHA) কর্মীরা। আন্দোলনকারীদের একাংশের অভিযোগ, বুধবার ভোর থেকেই শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশনের বাইরে ব্যারিকেড বসিয়ে পুলিশ আশাকর্মীদের আটকে দেয়। বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রেনে করে আসা বহু আশাকর্মীকে স্টেশন চত্বরেই দাঁড়িয়ে বা প্ল্যাটফর্মে বসে প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়।
কী অভিযোগ?
পশ্চিম দিনাজপুর থেকে আসা এক আশাকর্মীর অভিযোগ, “সকাল সাড়ে ছ’টা থেকেই আমাদের হাওড়া স্টেশন থেকে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না।” পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, সকালে স্বাস্থ্য ভবনের কাছ থেকেও একাধিক আশাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। তাঁরা সেখানে জড়ো হয়ে আন্দোলন আরও তীব্র করার চেষ্টা করছিলেন বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আশাকর্মীদের আটক করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের একাংশের অভিযোগ, বুধবার ভোর থেকেই শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশনের বাইরে ব্যারিকেড বসিয়ে পুলিশ আশাকর্মীদের আটকে দেয়। ট্রেনে করে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বহু আশাকর্মীকে স্টেশন চত্বরেই আটকে রাখা হয়। কেউ কেউ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে বসে প্রতিবাদে শামিল হন। আশাকর্মীদের অভিযোগ, “সকাল সাড়ে ছ’টা থেকেই আমাদের হাওড়া স্টেশন থেকে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না।”
#WATCH | ASHA workers from across West Bengal protest at Sealdah railway station, demanding a hike in their wages
— ANI (@ANI) January 21, 2026
An ASHA worker says, "We are demanding a fixed salary of Rs 15,000 per month as compared to Rs 5000 only. We will continue our protest until our demand is met."
The… pic.twitter.com/a969baELaa
শিয়ালদা থেকে বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে ধর্মতলায়
বেলা গড়াতেই শিয়ালদা থেকে বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে ধর্মতলায়। পুলিশের সঙ্গে বচসা, ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন হাজার হাজার আশাকর্মী। নিজেদের দাবি-দাওয়া আদায় ও আটক আশাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে রাজপথ দখলের হুঁশিয়ারি আশাকর্মীদের। সরকারি তরফে আশ্বাস না মিললে রাজপথ না ছাড়ার হুঙ্কার। ধর্মতলা থেকে মৌলালী, শিয়ালদা থেকে সল্টলেক বুধবার কলকাতার দখল নিলেন আশাকর্মীরা।
বুধবার সকাল থেকেই দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। স্বাস্থ্য ভবনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে আসার সময় আশাকর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল পরিস্থিতি কলকাতা থেকে জেলা। দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে আশাকর্মীদের উত্তেজনা-বচসা ছড়ায়। নিজেদের দাবি-দাওয়া আদায়ে এদিন পথে নামেন হাজার হাজার আশাকর্মী। সেখান থেকেই সরকার বদলের হুঁশিয়ারিতে ওঠে স্লোগান।
ধর্মতলা থেকে সল্টলেক সপ্তাহের কাজের দিন কলকাতার দখল নেন আশাকর্মীরা। এপ্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "বর্বর সরকার, ইতর পুলিশ। গোটা বাংলার মানুষ দেখছেন। আর কদিন এই সরকার আছে। বাংলার দিকে দিকে মহিলা আশাকর্মীদের উপর যেভাবে অত্যাচার করা হয়েছে তা ভাবা যায় না"
কোন কোন দাবিতে বিক্ষোভ?
ভাতা বৃদ্ধি, মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং অন্যান্য ৮ দফা দাবিতে রাজ্যের আশা কর্মীরা বুধবার স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমের সঙ্গে বৈঠকের জন্য সল্ট লেকের স্বাস্থ্য ভবনের দিকে রওনা হন। তবে সকাল থেকেই স্বাস্থ্য ভবনের দিকে যাওয়ার পথে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন আন্দোলনকারীরা।
শিয়ালদহ স্টেশনে পৌঁছাতেই তাঁদের আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এরই পালটা স্লোগান বিক্ষোভ শুরু হয়। আশা কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, সল্টলেক যাওয়ার পথে স্বাস্থ্য কর্মীদের বাধা দিচ্ছে শাসকদলের পুলিশ। উত্তর দিনাজপুর জেলা সম্পাদক ও সভাপতির ওপরও 'হাউস অ্যারেস্টের' অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।
শিয়ালদায় বাধা পেয়ে এস এন ব্যানার্জী হয়ে ধর্মতলায় অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন আশাকর্মীদের একাংশ। পাশাপাশি হাওড়া থেকে আরেকটি মিছিল পুলিশি ঘেরাটোপ পেরিয়ে ডোরিনা ক্রসিংয়ের সামনে জমায়েত শুরু করেন। স্তব্ধ হয়ে পড়ে কলকাতা। থমকে যায় যান চলাচল। মোতায়েন করা হয় বিপুল পুলিশ কর্মী।
আরও পড়ুন- উত্তাল সন্দেশখালি, বিডিও অফিসে তুলকালাম, যথেচ্ছ ভাংচুর, তৃণমূলকে নিশানা বিজেপির
গত রাত থেকেই স্বাস্থ্য ভবনের সামনে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ব্যারিকেড, লোহার জাল ও গার্ড্রেল দিয়ে চত্বর ঘিরে রাখা হয়েছে। তবুও আন্দোলনে অনড় রয়েছেন আশা কর্মীরা।
উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা থেকে সকাল থেকেই ট্রেনে চড়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে আসতে শুরু করেন বহু আশা কর্মী। মূলত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলি থেকে বিপূল সংখ্যক আশা কর্মীরা শিয়ালদা স্টেশনে জমায়েত হন।
পুলিশি বাধার অভিযোগ
অভিযোগ আন্দোলনরত আশা কর্মীদের দেখলেই পুলিশ বাধা দিচ্ছে। ধরা-পাকড় চলছে, কিছু কর্মীকে আটকও করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও অন্যান্য স্থানে পাল্টা বিক্ষোভও শুরু হয়েছে। আন্দোলনরত আশা কর্মীরা জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
আরও পড়ুন- মাঝ আকাশে ভয়ঙ্কর বিপদের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট, কোনও মতে বড়সড় বিপদ থেকে রক্ষা পেলেন ট্রাম্প
মাসিক ভাতা ন্যুনতম ১৫,০০০ টাকার করার পাশাপাশি মাতৃত্বকালীন ছুটি ও অন্যান্য সুবিধা আদায়ের দাবিতে সরব আশাকর্মীরা। বর্তমানে তাদের মাসিক ভাতা ৫,২৫০ টাকা, পাশাপাশি অতিরিক্ত ২,০০০ টাকা দেওয়া হয় বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী চন্দ্রীমা ভট্টাচার্য্য। পাশাপাশি আজকের এই কর্মসূচীর সঙ্গে রাজনৈতিক যোগ দেখছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি অভিযোগ করেছেন, আশা কর্মীদের রাজনৈতিক ভাবে ব্যাবহার করা হচ্ছে।
এদিকে এর পালটা পশ্চিমবঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ইসমতারা খাতুন বলেন, কর্মীরা ইতিমধ্যে ৩৮ দিন ধরে কর্মবিরতি পালন করছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, “আমাদের কর্মবিরতি চলবে যতক্ষণ না আমাদের দাবিগুলি পূরণ হয়।”
বর্ধমান থেকে আসা এক আন্দোলনকারী আশাকর্মী বলেন, “আমাদের বৈঠকের জন্য ডাকা হয়েছে। তা সত্ত্বেও কেন আমাদের স্বাস্থ্য ভবনে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে? রাজ্যে প্রায় ৮০ হাজার আশাকর্মী রয়েছেন। আমাদের পরিবার এবং যাঁরা আমাদের পরিষেবা পান, তাঁরাও আমাদের পাশে রয়েছেন।”
আরও পড়ুন- বাংলাদেশে মেধাবী হিন্দু কলেজ পড়ুয়ার রহস্য মৃত্যু, অবশেষে বিরাট পদক্ষেপ নিয়েই নিল ভারত
এর আগেও একাধিকবার আন্দোলন
উল্লেখ্য, এর আগেও ৮ জানুয়ারি আশাকর্মীরা স্বাস্থ্য ভবন পর্যন্ত মিছিল করেন এবং ১২ জানুয়ারি ফের সেখানে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবি, পারফরম্যান্সভিত্তিক ভাতার বদলে নির্দিষ্ট মাসিক বেতন চালু করতে হবে। পাশাপাশি ন্যূনতম মাসিক ভাতা ১৫,০০০ টাকা এবং কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলে ৫ লক্ষ টাকার বিমা কভার দেওয়ার দাবিও জানিয়ে আসছেন তাঁরা।
এদিকে, কলকাতার সল্টলেকের স্বাস্থ্য ভবন চত্বরে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় যান চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। মঙ্গলবার রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য আইনশৃঙ্খলার কথা উল্লেখ করে আশাকর্মীদের স্বাস্থ্য ভবনের দিকে মিছিল না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us