/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/25/ayodhya-ram-mandir-dharmadhwaja-2025-11-25-12-57-56.jpg)
'এই ধর্মীয় পতাকা শতাব্দী প্রাচীন স্বপ্নের বাস্তবায়নের প্রতীক...'
Ram Mandir Flag Hoisting Modi speech: 'এই ধর্মীয় পতাকা শতাব্দী প্রাচীন স্বপ্নের বাস্তবায়নের প্রতীক...'। রাম মন্দিরের আজ ঐতিহাসিক ধর্মীয় পতাকা উত্তোলনের এভাবেই ভাষণে রামমন্দির নির্মাণের সংগ্রামকাহিনীকে আরও এক তুলে রাম মন্দির নির্মাণে যারা প্রাণপাত করেছেন তাদের স্যালুট জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
প্রধানমন্ত্রী এদিন তাঁর ভাষণে বলেন, "আজ, সমগ্র ভারত,সমগ্র বিশ্ব রামে পরিপূর্ণ। প্রতিটি রাম ভক্তের হৃদয়ে আজ অতুলনীয় তৃপ্তি। অসীম কৃতজ্ঞতা। অপরিসীম আনন্দ। আজ সেই যজ্ঞের সমাপ্তি ঘটল, যার আগুন ৫০০ বছর ধরে জ্বলেছিল। আজ, ভগবান রামের শক্তি এই ধর্মধ্বজের আকারে মহান রাম মন্দিরের চূড়ায় অবস্থান করছেন।"
অযোধ্যায় রাম মন্দিরের পতাকা উত্তোলনের পর কোটি কোটি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও বলেন, "আজ শতাব্দীর ক্ষত নিরাময় হয়েছে। শতাব্দীর যন্ত্রণার অবসান ঘটছে, এবং সংকল্প পূর্ণ হচ্ছে। রাম মন্দিরের উপরে উড়ন্ত এই পতাকাটি ভারতীয় সভ্যতার নবজাগরণের 'প্রতীক'। এই পতাকাটি শতাব্দী ধরে লালিত একটি স্বপ্নের মূর্ত প্রতীক।"আজ সমগ্র ভারত, সমগ্র বিশ্ব রামে পরিপূর্ণ। শতাব্দীর ক্ষত নিরাময় হচ্ছে। শতাব্দীর যন্ত্রণা সান্ত্বনা পাচ্ছে। শতাব্দীর সংকল্প সাফল্য অর্জন করছে। আজ মন্দিরে ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এই পতাকা কোটি কোটি সনাতনীর অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। জীবন গেলেও প্রতিশ্রুতি ভাঙা উচিত নয়।
আরও পড়ুন- নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়, বঙ্গোপসাগরে নতুন বিপদের ইঙ্গিত, বঙ্গে প্রভাব কতটা? এই সপ্তাহেই বাড়বে শীত?
প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর ভাষণে বলেন, আমাদের এমন একটি সমাজ তৈরি করা উচিত যেখানে থাকবে না কোন দারিদ্র্য। এই ধর্মীয় পতাকা আগামী যুগে যুগে সমগ্র মানবতার কাছে শ্রী রামের আদেশ এবং অনুপ্রেরণা বহন করবে। তিনি আরও বলেন, "২০৪৭ সালে যখন আমরা স্বাধীনতার ১০০ বছর উদযাপন করব, তখন আমরা একটি উন্নত ভারত গড়ে পারব। আমাদের বর্তমানের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথাও ভাবতে হবে। আমাদের দূরদর্শিতা নিয়ে কাজ করতে হবে। কারণ এই দেশটি তখনও ছিল যখন আমরা ছিলাম না, এবং যখন আমরা থাকব না তখনও থাকবে"।
অযোধ্যায় আজ রচিত হল এক নয়া ইতিহাস। রাম মন্দিরের চূড়ায় প্রথমবারের মতো ধর্মধ্বজা উত্তোলনের মুহূর্তে পুরো রামনগরী ভাসল উৎসবের আবহে। অভিজিৎ মুহূর্তের শুভ সময়ে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পতাকা উত্তোলন করেন এবং হাত জোড় করে ভগবান রামের প্রতি প্রণাম জানান। তিনি এই অনুষ্ঠানকে ভারতের “সাংস্কৃতিক নবজাগরণের প্রতীক” বলে উল্লেখ করেন।
‘শতাব্দীর ক্ষত নিরাময় হচ্ছে’ — প্রধানমন্ত্রী মোদী
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “আজ অযোধ্যা শহর ভারতের সাংস্কৃতিক চেতনার আরেকটি ঐতিহাসিক সমাপ্তির সাক্ষী। শ্রী রাম মন্দিরের চূড়ায় পতাকা উত্তোলনের এই মুহূর্তটি অনন্য এবং বিশেষ। এই ধর্মধ্বজা কেবল একটি পতাকা নয়, এটি ভারতীয় সভ্যতার নবজাগরণের প্রতীক, শতাব্দী ধরে চলা স্বপ্নের বাস্তব রূপ।”
তিনি আরও যোগ করেন, “শতাব্দীর যন্ত্রণা আজ অবসান হচ্ছে। শতাব্দীর সংকল্প আজ সফল হয়েছে। ৫০০ বছর ধরে জ্বলতে থাকা যজ্ঞের আজ সমাপ্তি ঘটল—এক মুহূর্তের জন্যও যা বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত হয়নি।” প্রধানমন্ত্রী মোদী পতাকার প্রতীকী অর্থ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, “গেরুয়া রঙ ত্যাগ ও শক্তির প্রতীক। পতাকায় খোদাই করা ‘ওঁ’ এবং সূর্যবংশের প্রতীক রাম রাজ্যের গৌরব বহন করে। এই পতাকা সংগ্রাম থেকে সৃষ্টির কাহিনি, সাধুদের সাধনার ফসল এবং সমাজের অংশগ্রহণের ঐতিহাসিক বার্তা বহন করে চলবে ।”
‘দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বান’
দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আসুন আমরা এমন একটি সমাজ গড়ে তুলি যেখানে দারিদ্র্য থাকবে না, কেউ অসহায় থাকবে না। যারা কোনও কারণে মন্দিরে আসতে পারেন না এবং দূর থেকেই পতাকাকে প্রণাম করেন, তাঁরাও সমান পুণ্য লাভ করবেন। এই ধর্মধ্বজা রাম লালার জন্মস্থানের এক চিরন্তন আলোকচিহ্ন, যা যুগ যুগ ধরে মানুষের কাছে শ্রী রামের আদেশ ও অনুপ্রেরণা পৌঁছে দেবে।”অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি রামভক্তকে শুভেচ্ছা জানান।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us