/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/05/humayun-kabir-2025-12-05-14-05-51.jpg)
হুমায়ুন বিড়ম্বনায় ল্যাজেগোবরে তৃণমূল
আগামী ২২ ডিসেম্বর বহরমপুর অচলের ডাক দিয়ে প্রশাসনকে ‘হিলিয়ে দেওয়ার’ হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূলের সাসপেন্ড বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। শনিবার সন্ধ্যায় বেলডাঙ্গার বাবরি মসজিদের ভিত্তি স্থাপন স্থানে দাঁড়িয়ে এক জনসভায় তিনি বলেন, মুর্শিদাবাদে তৃণমূলকে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে জবাব দেওয়ার সময় এসেছে। তাঁর দাবি, কলকাতার বিভিন্ন এলাকা মেটিয়াবুরুজ, তপসিয়া, খিদিরপুর সহ শহরের মুসলমান সমাজ তাঁর আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে।
হুমায়ুন কবীর আরও বলেন, গত শনিবার যেভাবে হাজারে হাজারে মানুষ বন্যার ঢলের মতো জমায়েত হয়েছিল, তেমনই ২২ ডিসেম্বর আরও বড় জমায়েত হবে। তাঁর ঘোষণায় জানান, ওই দিন যত বাসের প্রয়োজন হবে, বাস সিন্ডিকেট থেকে ভাড়া করে তিনি ব্যবস্থা করবেন। পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অন্যান্য ছোট খাটো যানবাহন বহরমপুরমুখী হবে বলেও জানান তিনি।
প্রশাসনের উদ্দেশে কড়া ভাষায় হুমায়ুন কবীর বলেন, ২২ ডিসেম্বর বহরমপুর সম্পূর্ণ অচল করে দেওয়া হবে এবং সেদিন প্রশাসনের কোনও কাজকর্ম চলতে দেওয়া হবে না। তাঁর সঙ্গে যারা থাকবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে যদি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়, তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে থানা ঘেরাওয়ের কর্মসূচি নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, ওই দিন কোনও অফিসারকে রাস্তায় নামতে বা কোনও ধরনের সরকারি মুভমেন্ট করতে দেওয়া হবে না।
হুমায়ুন কবীরের এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রশাসন ও শাসকদলের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদ জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
উল্লেখ্য, অযোধ্যায় ১৯৯২ সালের বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনার ৩৩তম বর্ষপূর্তির দিনেই মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা ও রেজিনগরের মধ্যবর্তী এলাকায় শনিবার (৬ ডিসেম্বর, ২০২৫) ‘বাবরি মসজিদ’-এর শিলান্যাস অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বহিষ্কৃত তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান ঘিরে গোটা জেলায় উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।
দুপুর প্রায় ১২টা নাগাদ কোরান পাঠের মাধ্যমে শিলান্যাস অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। স্থানীয় সূত্রের খবর, এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বেলডাঙায় কয়েকশো কিলোমিটার দূর থেকেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ ভিড় জমান। মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, বেলডাঙায় যে মসজিদ নির্মিত হবে তা অযোধ্যার বাবরি মসজিদের আদলে তৈরি করা হবে, যদিও আকারে তা তুলনামূলকভাবে ছোট হবে। তিনি বলেন, এটি তাঁদের ধর্মীয় অধিকার এবং শান্তিপূর্ণভাবেই এই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
বাবরি মসজিদের শিলান্যাস ঘিরে চলা বিতর্কের মধ্যেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন হুমায়ুন কবীর। তিনি জানান, তিনি নিজের ধর্মে বিশ্বাসী হলেও অন্য ধর্মের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল। তবে একই সঙ্গে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কেউ যদি মসজিদের একটি ইটও সরানোর চেষ্টা করে, তাহলে তিনি শহিদ হতে প্রস্তুত হলেও তা হতে দেবেন না। হুমায়ুন কবীর আগেই জানিয়েছেন, এই মসজিদ নির্মাণের মোট বাজেট প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। এত বড় অঙ্কের অর্থের জোগান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তাঁর দাবি, অর্থের কোনও অভাব হবে না এবং ইতিমধ্যেই এক ‘বড় ব্যবসায়ী’ ৮০ কোটি টাকা অনুদানের আশ্বাস দিয়েছেন।
আরও পড়ুন- 'বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে', SIR আতঙ্কে আত্মঘাতী, খসড়া তালিকা প্রকাশের আগে বাংলায় তোলপাড়
২ লাখ ছাড়ালো রূপার দাম, আজ ৫ কেজি রূপা কিনলে ২০৩০-এ কত রিটার্ন? পরিমাণ শুনলে চমকে যাবেন
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us