/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/05/shatabdi-2025-12-05-19-02-22.jpg)
Shatabdi Roy: শতাব্দী রায়।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাভাষী নাগরিকদের হেনস্থার অভিযোগ ঘিরে শুক্রবার লোকসভা উত্তপ্ত হয়ে উঠল। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে না দেওয়ার অভিযোগ তুলে একযোগে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা। তাঁদের দাবি, সংসদের ভিতরে বাংলার মানুষকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু উত্থাপন করতে দেওয়া হচ্ছে না। বীরভূমের তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায় এদিন বিজেপি নেতা-কর্মীদের পাকিস্তানে পাঠানোর কথা বলেন।
তৃণমূলের অভিযোগ, বিভিন্ন রাজ্যে বাংলায় কথা বললেই বাঙালিদের “বাংলাদেশি” বলে অপমান করা হচ্ছে। এই বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, “বাংলাদেশি সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের আটক করা হচ্ছে”, এটা বাঙালির অপমান।
শুক্রবার লোকসভায় এই বিষয়টি তুলে ধরতে গিয়ে বীরভূমের তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, “ওড়িশায় বাংলাদেশি সন্দেহে ৪৪৪ জন বাঙালিকে আটক করা হয়েছে। এদের অধিকাংশই মালদা, মুর্শিদাবাদ ও বীরভূমের বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা এক মহিলাকেও আটক করা হয়েছিল।”
উল্লেখ্য, ওই অন্তঃসত্ত্বা মহিলা সোনালী বিবি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শুক্রবারই বাংলাদেশ থেকে মালদা সীমান্ত হয়ে ভারতে ফিরছেন বলে জানা গিয়েছে।
শতাব্দী রায় বক্তব্য রাখতে শুরু করতেই শাসক দল BJP-র সাংসদরা তীব্র আপত্তি জানান এবং ওয়েল অব দ্য হাউসে নেমে পড়েন বলে অভিযোগ। তুমুল শোরগোলে তাঁর বক্তব্য কার্যত থমকে যায়। এর পরেই সমস্ত তৃণমূল সাংসদ একজোট হয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা অভিযোগ তোলেন, বাঙালিদের মানহানি নিয়ে সংসদে মুখ খুলতে দেওয়া হচ্ছে না।
অবশেষে চাপের মুখে অধ্যক্ষ শতাব্দী রায়কে পুনরায় বক্তব্য রাখার সুযোগ দেন। দ্বিতীয় দফায় বক্তব্যে তিনি আরও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন,
“যদি বাংলায় কথা বললেই কাউকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়, তাহলে বিজেপির নেতা–কর্মীরা হিন্দি বা উর্দু বললে তাঁদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দিন!”
বাংলা ভাষা ও বাঙালি পরিচয় নিয়ে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতির সংঘাত শুক্রবার ফের জোরালো হয়ে উঠল সংসদ ভবনের ভিতরেই।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us