/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/21/kolkata-book-fair-2026-2026-01-21-19-07-50.jpg)
দ্বিতীয় বারের মত বইমেলায় অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ, ১৫ বছর পর চিনের প্রত্যাবর্তন
kolkata book fair 2026: দ্বিতীয় বছরের মতো এবছরও কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় অনুপস্থিত থাকছে বাংলাদেশ। ফলে হতাশ সাহিত্যপ্রেমী ও প্রকাশক মহল। ঐতিহ্যগতভাবে কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশের প্রকাশকদের অংশগ্রহণ ছিল নিয়মিত, যা বিপুল পাঠক টানত এবং বাংলাদেশের লেখকদের বই বিক্রিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত।
আরও পড়ুন- ২১ বছরের হৃতিকার সঙ্গে সাতপাক হিরণের! ডিভোর্স বিতর্কে বিধায়কের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কি বিশ বাঁও জলে?
তবে ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও তার পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রেক্ষিতে গত বছর যেমন বাংলাদেশ অংশ নিতে পারেনি, তেমনই ২০২৬ সালেও সেই ধারা বজায় থাকছে। মঙ্গলবার পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের (Publishers and Booksellers Guild) সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বাংলাদেশ এবছর অংশগ্রহণের আগ্রহ দেখিয়েছিল, কিন্তু আমরা তাদের অনুমতি দিতে পারছি না।”
কলকাতায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট সূত্রেও জানানো হয়েছে, স্থানীয় স্তরে অংশগ্রহণের আগ্রহ ছিল। তবে ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, “ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের সবুজ সংকেত ছাড়া গিল্ড কোনও দেশের অংশগ্রহণ অনুমোদন করতে পারে না। সেই অনুমোদন না আসায় বাংলাদেশ এবছর বইমেলায় থাকছে না। যদিও কোনও স্টল যদি বাংলাদেশের বই প্রদর্শন করতে চায়, তাতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই।”
এদিকে এবছর বইমেলায় অনুপস্থিত থাকছে আরও এক পরিচিত অংশগ্রহণকারী দেশ আমেরিকা। জানা গিয়েছে, বাজেট বরাদ্দ সংক্রান্ত সমস্যার কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবছর অংশ নিচ্ছে না। অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো বইমেলায় অংশ নিচ্ছে ইউক্রেন এবং ১৫ বছর পর প্রত্যাবর্তন করছে চিন। এবছরের থিম কান্ট্রি হিসেবে থাকছে আর্জেন্টিনা।
কলকাতার সল্টলেকে স্থায়ী বইমেলা প্রাঙ্গণে ২২ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হতে চলেছে ৪৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা। বইমেলার উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন আর্জেন্টিনার রবীন্দ্রনাথ গবেষক গুস্তাভো কানজোব্রে, আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মারিয়ানো আগুস্তিন কউচিনো এবং বিশিষ্ট লেখক স্বপ্নময় চক্রবর্তী।
এবছর গিল্ডের আজীবন সাহিত্য সম্মান (২ লক্ষ টাকা) প্রদান করা হবে স্বপ্নময় চক্রবর্তীকে। দুর্গাপুজোর পর বাংলার সবচেয়ে বড় উৎসব হিসেবে পরিচিত এই বইমেলায় প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। এবছর প্রায় এক হাজার স্টল থাকছে, যার মধ্যে ফুড স্টলও রয়েছে। উত্তম কুমারকে নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনী থাকছে এবং ভূপেন হাজারিকা, সলিল চৌধুরী ও মহাশ্বেতা দেবীর জন্মশতবর্ষ উদযাপন করা হবে।
বইমেলাকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। বিধাননগর পুরসভার আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই মেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সেন্ট্রাল পার্ক সংলগ্ন এলাকায় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া হাওড়া থেকে করুণাময়ী পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা রাত ১০টা পর্যন্ত চালু থাকবে, যাতে দর্শনার্থীদের যাতায়াতে কোনও অসুবিধা না হয়।
সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণে কিছু ঘাটতি থাকলেও, নতুন দেশ ও সাহিত্যিক আয়োজন নিয়ে এবছরের কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা যে পাঠক ও সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হতে চলেছে, সে বিষয়ে আশাবাদী আয়োজকরা।
আরও পড়ুন-উত্তাল সন্দেশখালি, বিডিও অফিসে তুলকালাম, যথেচ্ছ ভাংচুর, তৃণমূলকে নিশানা বিজেপির


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us