হিন্দু যুবককে মেরে জ্বালিয়ে দেওয়ায় বিশ্বমঞ্চে মুখ পুড়ল ইউনূসের, প্রবল সমালোচনার মুখে এবার বিরাট পদক্ষেপ

বাংলাদেশে হিন্দু যুবককে গণপিটুনি, হত্যা ও দেহ জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই ঘটনাকে তিনি “বর্বর ও অমানবিক” বলে উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশে হিন্দু যুবককে গণপিটুনি, হত্যা ও দেহ জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই ঘটনাকে তিনি “বর্বর ও অমানবিক” বলে উল্লেখ করেন।

author-image
Sayan Sarkar
New Update
Bangladesh mob lynching, Hindu youth lynched in Bangladesh, Mymensingh lynching case, Dipu Chandra Das murder, 7 arrested in Bangladesh lynching, Yunus interim government statement, religious violence in Bangladesh, minority killing Bangladesh, RAB arrests lynching case, Bangladesh law and order, communal violence Bangladesh, Bangladesh unrest news

বড় পদক্ষেপ ইউনূসের

বাংলাদেশে হিন্দু যুবককে গণপিটুনি, হত্যা ও দেহ জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ময়মনসিংহ জেলায় সংঘটিত এই ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে অবশেষে কঠোর অবস্থান নিল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

Advertisment

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, নিহত যুবকের নাম দীপু চন্দ্র দাস (২৭)। তিনি একজন হিন্দু যুবক। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে মহম্মদ ইউনূস জানান, দীপুকে নির্মমভাবে মারধর করা হয় এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে তিনি “বর্বর ও অমানবিক” বলে উল্লেখ করেন।

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) জানিয়েছে,এই মামলায় এখন পর্যন্ত সাতজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মহম্মদ লিমন সরকার (১৯), মহম্মদ তারিক হোসেন (১৯), মহম্মদ মানিক মিয়া (২০), ইরশাদ আলী (৩৯), নিজুম উদ্দিন (২০), আলমগীর হোসেন (৩৮) এবং মহম্মদ মিরাজ হোসেন আকন (৪৬)।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, র‍্যাব-১৪-এর একটি দল ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সমন্বিত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনে আরও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটে, যখন তরুণ ছাত্রনেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে উত্তেজনা ও হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল। উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় আততায়ীরা হাদির মাথায় গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এর পরেই ঢাকা সহ একাধিক শহরে সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়।

হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জানিয়েছে, “নতুন বাংলাদেশে এই ধরনের হিংসার কোনও স্থান নেই।” সরকার আরও  স্পষ্ট করেছে, এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনা হবে।

ইউনূস প্রশাসন দেশবাসীর প্রতি শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে গুজব ও উসকানি থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলেও জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সহিংসতার সময় সাংবাদিক ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দফতরে হামলার ঘটনার নিন্দা করেছে সরকার। বিশেষ করে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রশাসন।

আরও পড়ুন- ওসমান হাদি খুনে প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল কোথায়? কী জানালেন বাংলাদেশ পুলিশের এই কর্তা?

আরও পড়ুন-খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে বড় আপডেট, কী জানালেন ব্যক্তিগত চিকিৎসক?

Muhammad Yunus