/indian-express-bangla/media/media_files/2025/03/03/xgk7259w2Ya3lrldBwpK.jpg)
সাত মাসে ১১৬ হিন্দু খুন, HRCBM-এর রিপোর্ট সামনে আসতেই প্রবল অস্বস্তিতে ইউনূস
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিংসার ঘটনা ভয়াবহ আকার নিয়েছে বলে দাবি করল মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনরিটিজ (HRCBM)। সংস্থাটির সদ্য প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মাত্র সাত মাসে ২০২৫ সালের ৬ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশজুড়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তত ১১৬ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকেই এই হিংসার ঘটনা দেশব্যাপী মারাত্মক রূপ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন- জেলেই মৃত্যু কোলে ঢলে পড়লেন জনপ্রিয় গায়ক প্রলয় চাকি, বিরাট প্রশ্নের মুখে ইউনূসের ভূমিকা
HRCBM-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডগুলি বাংলাদেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগ এবং অন্তত ৪৫টি জেলায় ছড়িয়ে রয়েছে। ফলে এই হিংসাকে বিচ্ছিন্ন বা নির্দিষ্ট কিছু এলাকার সমস্যা বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলেই মত সংগঠনটির। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়াবহ হিংসার এ এক ভয়ানক অধ্যায়।
প্রতিবেদনে এই হিংসার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন কোনও নতুন ঘটনা নয়, বরং প্রায় আট দশক ধরে চলে আসা এক ধারাবাহিক সংকট। ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা থেকে শুরু করে ১৯৫০, ১৯৬৪ ও ১৯৭১ সালে ব্যাপক হিংসা, উৎখাত ও সম্পত্তি দখলের ঘটনা ঘটে। স্বাধীনতার পরেও ১৯৮৯, ১৯৯০, ২০০১, ২০০৪, ২০১২, ২০১৫, ২০২১, ২০২৪ এবং বর্তমানে ২০২৫ সালেও একই ধরনের হিংসা দেখা গেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। HRCBM-এর মতে, এই ঘটনাগুলি প্রমাণ করে যে এটি কোনও বিচ্ছিন্ন অশান্তি নয়।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, মোট মৃত্যুর ৪৮.৩ শতাংশই লক্ষ্যভিত্তিক হামলা। গণপিটুনিতে প্রাণ হারিয়েছেন ১০.৩ শতাংশ, সন্দেহজনক বা অজ্ঞাত কারণে মৃত্যু হয়েছে ১২.৯ শতাংশের। পুলিশি হেফাজতে বা পুলিশি অত্যাচারে মৃত্যু হয়েছে ৬.৯ শতাংশ ক্ষেত্রে, আর সেনা বা অন্যান্য রাষ্ট্রীয় বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৮.৬ শতাংশ মানুষ।
HRCBM স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডগুলিকে সাধারণ অপরাধ বলে খাটো করে দেখা যায় না। সংগঠনটির দাবি, এই হিংসা দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও জনসংখ্যাগত বদলের সঙ্গে যুক্ত। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৪৬ সালে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশ, যা ২০২০ সালে নেমে এসেছে ৯ শতাংশেরও নিচে। এই দীর্ঘমেয়াদি পতন প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলা হিংসার প্রতিফলন বলে দাবি করা হয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, বহু ক্ষেত্রে খুন হওয়ার আগে তাদের হুমকি, ভয় দেখানো বা সামাজিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। অনেক গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে চুরি বা ধর্ম অবমাননার মতো ঘটনা যাচাই না করে স্রেফ অভিযোগের ভিত্তিতে। পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু এবং পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাও নথিভুক্ত করেছে HRCBM।
প্রতিবেদনে ডিসেম্বর ২০২৫-এ দীপু চন্দ্র দাস নামে এক সংখ্যালঘু যুবকের গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে তাঁকে পিটিয়ে মারা হয় বলে দাবি। এই ঘটনায় সংখ্যালঘু সমাজে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংগঠনটির অভিযোগ, এ ধরনের ঘটনায় পুলিশ সময়মতো হস্তক্ষেপ করতে ব্যর্থ হয়, ফলে গণহিংসাকে পরোক্ষভাবে মদত দেওয়া হচ্ছে বলে সমাজের কাছে এক বার্তা যাচ্ছে।
এছাড়াও বিচারব্যবস্থার গুরুতর দুর্বলতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে রিপোর্টে। HRCBM-এর অভিযোগ, অনেক সময় পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকার করেছে বা সঠিক তদন্ত করে না। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও আইনি কারণে অপরাধীরা অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নিহতদের অনেকেই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী, ফলে তাঁদের মৃত্যুর পর পরিবারগুলি চরম আর্থিক ও সামাজিক সংকটে পড়ছে, যা সংখ্যালঘুদের প্রান্তিক অবস্থাকে আরও গভীর করছে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us