/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/29/bangladesh-politics-quran-sunnah-law-mirza-fakhrul-taslima-nasrin-2025-12-29-11-22-30.jpg)
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্ম ও আইনকে ঘিরে বিতর্ক আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
Bangladesh Crisis: বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্ম ও আইনকে ঘিরে বিতর্ক আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পরিবেশ যখন উত্তপ্ত, ঠিক সেই সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেন যে 'কোরান ও সুন্নাহ'র বাইরে দেশে কোনও আইন প্রণয়ন করা হবে না। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
রবিবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ধর্মীয় পণ্ডিতদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে প্রচার করছে যে বিএনপি কোরান ও সুন্নাহভিত্তিক আইন চায় না। এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল বলে দাবি করে তিনি জানান, বিএনপি বরাবরই কোরান ও সুন্নাহর আদর্শের মধ্যেই থাকতে চেয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “ইসলাম শান্তির ধর্ম, আমরাও শান্তি চাই। এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।”
বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ মুসলিম এবং দেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি রক্ষায় বিএনপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তাঁর অভিযোগ, দলটির বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল দাবি করেন, বাংলাদেশ একটি সংকটজনক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “অশুভ শক্তি” দেশজুড়ে বিভ্রান্তি, আন্দোলন ও অস্থিরতা সৃষ্টি করার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়েছে, অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ব্যাংক লুট হয়েছে এবং বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার জন্য এমন সব আইন প্রণয়ন করা হয়েছে,যা মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নির্বাচন ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, অতীতে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি ধর্মীয় পণ্ডিতদের গ্রেপ্তার, নির্যাতন এমনকি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত কার্যকর করা হয়েছে। তিনি ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের উল্লেখ করে দাবি করেন, ওই সময় প্রায় দু হাজার ছাত্র গুলিতে নিহত হয়েছিল, যার ফলে ঢাকার রাজপথ রক্তাক্ত হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে “মিথ্যা মামলায়” দীর্ঘ ছয় বছর কারাবন্দি রাখা এবং তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ার বিষয়টিও সামনে আনেন।
এদিকে, বিএনপির এই অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা করেছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘মুসলিম টুপি’ পরে বিএনপি জামাতের য়েও বড় দল হতে চাইছে। তাঁর মতে, শরিয়া আইন প্রয়োগ হলে নারী ও অমুসলিমরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তসলিমা নাসরিন আরও বলেন, কোনও “সভ্য দেশে” ধর্মীয় আইন চালু নেই। তাঁর দাবি, ধর্মীয় আইন মানবাধিকারবিরোধী, নারী ও সমতার বিরুদ্ধে, বিজ্ঞান ও আধুনিকতার পরিপন্থী এবং সমাজে ঘৃণা, হিংসা ও বৈষম্যকে উসকে দেয়। এই ধরনের আইন প্রয়োগ হলে নারী, সংখ্যালঘু এবং প্রগতিশীল চিন্তাবিদদের অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ণ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন-দীপু চন্দ্র দাস, অমৃত মণ্ডল হত্যাকাণ্ড নিয়ে ওয়াইসির বড় বক্তব্য, কী বলেছেন জানেন?
আরও পড়ুন-টাটা-এর্নাকুলাম এক্সপ্রেসে ভয়াবহ আগুন! দুটি বগি পুড়ে ছাই...একজন নিহত, আহত একাধিক
আরও পড়ুন- BLO death: স্কুলঘরেই ঝুলন্ত দেহ BLO-প্রধান শিক্ষকের, সুইসাইড নোটে ‘অমানবিক চাপ’-এর অভিযোগ
আরও পড়ুন- ১ জানুয়ারি মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারের অফিস ঘেরাওয়ের ডাক, পুলিশি অ্যাকশনের বিরুদ্ধে সরব হুমায়ুন
আরও পড়ুন-শীতের সুনামিতে কাঁপছে বাংলা, বর্ষশেষে আবহাওয়ার আরও বড় চমক? তুষারপাতের সতর্কতা!
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us