‘বাংলাদেশ এই অবস্থায় থাকবে না, আবার উত্থান ঘটবে’, 'বোমা' ফাটালেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র আন্দোলন বিদ্রোহে রূপ নিলে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে আসেন। সেই সময় থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলেছে, কিন্তু স্থিতিশীলতা আসেনি।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র আন্দোলন বিদ্রোহে রূপ নিলে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে আসেন। সেই সময় থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলেছে, কিন্তু স্থিতিশীলতা আসেনি।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
hasina on yunus.

‘বাংলাদেশ এই অবস্থায় থাকবে না, আবার উত্থান ঘটবে’, বোমা ফাটালেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

‘বাংলাদেশ এই অবস্থায় থাকবে না, আবার উত্থান ঘটবে’, বোমা ফাটালেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

Advertisment

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র আন্দোলন বিদ্রোহে রূপ নিলে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে আসেন। সেই সময় থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলেছে, কিন্তু স্থিতিশীলতা আসেনি। বর্তমানে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে এবং ১৩ নভেম্বর রায় ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। কাকতালীয়ভাবে, একই দিনে শেখ হাসিনার বিলুপ্ত আওয়ামী লীগ “ঢাকা লকডাউন” কর্মসূচির ডাক দিয়েছে, যা নতুন রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি করেছে। এরই মাঝে বাংলাদেশের বহিষ্কৃত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া ইমেল সাক্ষাৎকারে বলেন, “দিল্লিতে আমি স্বাধীনভাবে আমার দিন কাটাতে পারি এবং যেটা করতে চাই তা করতে পারি, সীমার মধ্যে।” তিনি আরও জানান, তিনি ফের বাংলাদেশে ফিরে যেতে আগ্রহী, তবে তার দেশে ফিরে আসার আগে বাংলাদেশের অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন।

শেখ হাসিনা বর্তমানে দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে অবস্থান করছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, ভারতে তিনি নিজেকে নিরাপদ মনে করেন। বাংলাদেশের একাধিক মামলায় রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হলেও, তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন যে দেশ বর্তমানে “মৌলবাদীদের দখলে”। তাঁর দাবি, অন্তর্বর্তী সরকার ও সামরিক বাহিনীর চাপে বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিপন্ন। 

Advertisment

 নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের ওপরও রাজনৈতিক ও সামরিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে। ইউনুসকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী কর হাসিনা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, চরমপন্থীরা ইউনুসকে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মুখ হিসেবে ব্যবহার করছে, যাতে তারা সংখ্যালঘুদের উপর হামলা চালাতে এবং দেশের সংস্থাগুলিকে 'উদারপন্থা' থেকে বিচ্যুত করতে পারে।

তিনি ১০ নভেম্বর দিল্লির লাল কেল্লার কাছে হওয়া বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। “সোমবার নিরীহ মানুষের উপর হওয়া হামলায় আমি হতবাক। বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে ভারতের বন্ধুদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জানাই। আমরা আশা করি যে, এই নৃশংস ঘটনার জন্য দায়ী যারা তাদের দ্রুৎ বিচারের আওতায় আনা হবে”।  

শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের বিক্ষোভের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, শুরুতে এই বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল এবং  সিভিল সার্ভিস চাকরির কোটা চালু করার প্রতিক্রিয়ায় শুরু হয়। কিন্তু পরে চরমপন্থীরা সেই বিক্ষোভকে হিংসাত্মক বিক্ষোভে পরিণত করে। সরকারি ভবন ও থানা আগুনে ভস্মীভূত হয়, অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং সন্ত্রাসবাদীদের মুক্তি দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “ফরেনসিক প্রমাণ রয়েছে এই ষড়যন্ত্রের পিছনে রয়েছে বিদেশি শক্তি।”

শেখ হাসিনা জানান, তার সরকার পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে মোকাবিলা করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। তিনি বলেন, “আমার একটাই দুঃখ , তদন্ত কমিটি হিংসার যে আসল কারণ খুঁজে বের করেছিল, ইউনুস সেই তথ্য প্রমাণকেই লোপাট করেন। পরবর্তীতে তিনি এই সন্ত্রাসবাদীদেরই  ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে তুলে ধরেন । দেশের প্রতি আবেগ ভালবাসা ও নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমাকে দেশে ছেড়ে চলে আসতে হয়েছিল।” 

তিনি তার বিরুদ্ধে করা ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। তার বক্তব্য, “আমার ১৫ বছরের মেয়াদকালে দেশের অর্থনীতি ৪৫০% বৃদ্ধি পেয়েছিল। যদি আমার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ সত্যিই হত, তাহলে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যেত।”

শেখ হাসিনা আরও বলেছেন, “ইউনুস চরমপন্থীদের সমর্থন করছেন, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা প্রদানে ব্যার্থ। ভারতের প্রতি শত্রুমনোভাব পোষণ করছেন। এটি  আমাদের সম্পর্ক ও অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। ভারত একটি বিশ্বাসযোগ্য ও ভরসার প্রতিবেশী দেশ চায় সেটা  তখনই সম্ভব হবে যখন বাংলাদেশে জনগণ দ্বারা নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।”

তিনি দেশের যুবসমাজ এবং আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রতি “শান্ত থাকার, ধৈর্য ধরার বার্তা দেন। পাশাপাশি তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের গণতন্ত্রে বিশ্বাস রাখার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, "আমরা আমাদের সমর্থকদের অধিকার ও জনগণের কল্যাণের জন্য আইনগত, কূটনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ পন্থায় লড়াই চালাব।” 

শেখ হাসিনা শেষবারে বাংলাদেশে উন্নয়ন ও পুনর্নির্মাণের উপর জোর দেন। তিনি বলেন, আমার শাসককালে “খাদ্য উৎপাদন চারগুণ বৃদ্ধি করেছি, দারিদ্র্য কমিয়েছি, নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে কাজ  করেছি। তবে আজ দেশের সেই অগ্রগতি অতীত। বাংলাদেশ এই অবস্থায় থাকবে না। আমাদের দেশের মানুষ ধৈর্যশীল। আমরা আগের মতোই আবার দেশের উত্থান ঘটাব।”

আরও পড়ুন-বঙ্গ রাজনীতিতে নক্ষত্রপতন, প্রয়াত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তথা তৃণমূলের দাপুটে নেতা

আরও পড়ুন- SBI, HDFC, ICICI থেকে BOB, সমস্ত ব্যাঙ্কের ওয়েবসাইটে বিরাট বদল আনল RBI, কেন দ্রুত এই পরিবর্তন? 

আরও পড়ুন- দিল্লির পর এবার বাংলায় উদ্ধার বিপূল পরিমাণ বিস্ফোরক, চূড়ান্ত চাঞ্চল্যে তোলপাড় 

আরও পড়ুন-কোথায় কবে কখন হামলার ছক ছিল? দিল্লির বিস্ফোরণের তদন্তে নেমে চোখ কপালে NIA-এর  

Sheikh Hasina