/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/19/bangladesh-violence-2025-12-19-12-00-06.jpg)
ইউনূসকে ইনকিলাব মঞ্চের হুঁশিয়ারি
Osman Hadi Death: সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের নেতা ওসমান হাদি মারা গেছেন। সিঙ্গাপুরের বিদেশমন্ত্রকের অফিসিয়াল বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, শারিফ ওসমান হাদি তাঁর মাথায় গুলির আঘাতের কারণে গুরুতর জখম হন ও পরে মারা গিয়েছেন। এদিকে ওসমান হাদির মৃত্যুতে দেশ জুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগের অফিসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। একহিন্দু যুবককে পুড়িয়ে মারার বিরাট অভিযোগে উত্তাল হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।
হাদি ছিলেন শেখ হাসিনার বিরোধী আন্দোলন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর সদস্য। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হতে চলা নির্বাচনে তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালাচ্ছিলেন। ইনকিলাব মঞ্চ ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় কেন্দ্রবিন্দুতে আসে, যা শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার পদত্যাগে অবদান রাখে। দলটিকে অনেকেই কট্টরবাদী বা উগ্রবাদী হিসেবে চিহ্তি করেছে। শুরু থেকে হাদির দল আওয়ামী লিগ ভাঙার প্রচেষ্টায় ছিল। ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণের পরও ইউনুস সরকার দলটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে এবং জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ করে।
এদিকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, ছাত্রনেতার হত্যা মামলায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। ইউনুস তাঁর ভাষণে বলেন, “আজ আমি অত্যন্ত দুঃখজনক সংবাদ নিয়ে আপনার সামনে এসেছি। জুলাই আন্দোলনের ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শারিফ ওসমান হাদি আমাদের মধ্যে নেই।”
হাদির মৃত্যুতে বাংলাদেশে এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে তিনি বলেন, “হামলাকারীকে দ্রুত খুঁজে বের করা হবে।” তিনি সব নাগরিকের কাছে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। ইউনুস হাদিকে “পরাজিত শক্তি ও ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসীদের শত্রু” আখ্যা দেন এবং বলেন, “বিপ্লবীদের ভীত করার জন্য তাদের সমস্ত কুপ্রচেষ্টা পুরোপুরি ব্যর্থ হবে।”ইনকিলাব মঞ্চ দাবি করেছে, হামলার সঙ্গে যারা যুক্ত যদি তারা ভারতে পালিয়ে গিয়ে থাকে, তবে বাংলাদেশ সরকারের উচিত অবিলম্বে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা। সংগঠনের মতে, এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে শরীফ ওসমান হাদির উপর হামলা চালানো হয়। নামাজ শেষে রিকশায় করে বাড়ি ফেরার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুষ্কৃতিরা তাঁর মাথা লক্ষ্য করা গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ছয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর ১৮ ডিসেম্বর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
সিঙ্গাপুর থেকে হাদির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়। ঢাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষ রাস্তায় নেমে আসে এবং বিভিন্ন এলাকায় হিংসার ঘটনা ঘটে। দুটি সংবাদপত্রের অফিসে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক এলাকায় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস নাগরিকদের শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন- তিন ছেলের পরিবারে ‘চতুর্থ ছেলে’! খসড়া তালিকায় নাম দেখে হতবাক বৃদ্ধা
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us