/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/24/bankura-bjp-neta-bari-agnikandho-suvendu-adhikari-tmc-abhijog-2026-01-24-18-41-32.jpg)
বিজেপি কর্মীকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা! গর্জে উঠলেন শুভেন্দু
Suvendu Adhikari:পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় বিজেপি নেতার বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, এই ঘটনার নেপথ্যে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। তাঁর দাবি, বিরোধী কণ্ঠরোধ করতেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন।
তুখোড় বুদ্ধির জের, এলোপাথাড়ি গুলির মাঝেই প্রাণরক্ষা তিন শিশুর, শিউরে ওঠা কাণ্ড কোথায় জানেন?
শনিবার বাঁকুড়ার ওন্দা এলাকায় গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বিজেপির স্থানীয় আইটি সেলের সমন্বয়ক তাপস বারিকের পুড়ে যাওয়া কাঁচা বাড়ি পরিদর্শন করেন। জানা গিয়েছে, ২২ জানুয়ারি গভীর রাতে প্রায় দু’টো নাগাদ ওই বাড়িতে আগুন লাগে এবং মুহূর্তের মধ্যেই পুরো বাড়ি ভস্মীভূত হয়ে যায়। শুভেন্দুর দাবি, এটি কোনও দুর্ঘটনা নয়, বরং বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি ভাঙতেই পরিকল্পিত ও প্রাণঘাতী আক্রমণ।
কী বললেন শুভেন্দু?
বিরোধী দলনেতা বলেন, এলাকায় তাপস বারিকের সক্রিয়তার ফলে বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছিল, যা দেখে তৃণমূল আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তাঁর অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ‘সনাতন সংস্কৃতি’র সমর্থক ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সি বিজেপি কর্মীদের লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালানো হচ্ছে। শুভেন্দু আশঙ্কা প্রকাশ করেন, প্রশাসন এই ঘটনাকে শর্ট সার্কিট বা গ্যাস লিকের ফল বলে দেখিয়ে প্রকৃত দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা করতে পারে।
ফের SIR নিয়ে কমিশনকে নিশানা, আরও বেপরোয়া তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম
তদন্ত নিয়েও একাধিক গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, ঘটনার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পরে ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়, অগ্নিকাণ্ডের দিন কোনও প্রাথমিক তদন্তই হয়নি। এমনকি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ত্রিপল বা কম্বলের মতো ন্যূনতম ত্রাণও দেওয়া হয়নি। আগেও হুমকি পাওয়া সত্ত্বেও কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। পুলিশের বিরুদ্ধে শাসক দলের নির্দেশে কাজ করার অভিযোগও করেন তিনি।
এদিন প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, কেন্দ্র সরকার পশ্চিমবঙ্গের জন্য প্রায় ৪০ লক্ষ বাড়ির অনুমোদন দিয়েছিল, যার জন্য বরাদ্দ ছিল প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু রাজ্য সরকারের ব্যর্থতায় এখনও বহু দরিদ্র পরিবার জরাজীর্ণ ঘরে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। তাঁর দাবি, এই প্রকল্প সঠিকভাবে রূপায়িত হলে তাপস বারিকের পরিবারকে এমন বিপদের মুখে পড়তে হতো না।
ফের SIR নিয়ে কমিশনকে নিশানা, আরও বেপরোয়া তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম
শুভেন্দু অধিকারী জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে তাপস বারিকের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, বিজেপির তরফে বাড়ি মেরামত, দোকান নতুন করে চালু করার জন্য আর্থিক সহায়তা, সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। ঘটনার পর গ্রাম ছাড়তে চেয়েছিলেন তাপস বারিক, তবে দলের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে তাঁকে গ্রামেই থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভোররাতে আগুন লেগেছে ঠিকই, তবে এখনও আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। তাঁর প্রশ্ন, কারণ স্পষ্ট না হলে তৃণমূলকে দোষারোপ করা হচ্ছে কেন। পাল্টা তিনি দাবি করেন, কেন্দ্র সরকার যদি আবাস যোজনার টাকা আটকে না রাখত, তবে পরিবারটি ইতিমধ্যেই পাকা বাড়ি পেত। এদিকে শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, পুলিশি তদন্তে অগ্রগতি না হলে পরবর্তীদের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিন কার্যত পুলিশ-প্রশাসনকে ডেডলাইন বেধে দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।
আরও পড়ুন- ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’-তে কত নাম বাদ? সুপ্রিম নির্দেশের পর আজই তালিকা প্রকাশ কমিশনের?


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us