কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী!প্রতিশ্রুতি মতই অ্যাকশন, বারাসাত কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ প্রশাসনের

বারাসত মেডিক্যাল কলেজের মর্গে রাখা মৃতদেহ থেকে এক যুবকের চোখ চুরির অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসরে নেমেছেন।

বারাসত মেডিক্যাল কলেজের মর্গে রাখা মৃতদেহ থেকে এক যুবকের চোখ চুরির অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসরে নেমেছেন।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
Mamata Banerjee Bhai Phonta, Bengali Chief Minister song, Bhai Phonta 2025, Mamata social media post, Mamata Banerjee creative work, Bengali festival song, Bhai Dooj wishes, Mamata Banerjee music, tribute to Sunil Gangopadhyay, Mamata new song release,মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাইফোঁটা গান, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী গান, ভাইফোঁটা ২০২৫, মমতা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, মমতা সৃজনশীলতা, বাংলার উৎসব গান, ভাইফোঁটার শুভেচ্ছা, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় শ্রদ্ধা, নতুন গান প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুর ও লেখা

Mamata Banerjee: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বারাসত মেডিক্যাল কলেজের মর্গে রাখা মৃতদেহ থেকে এক যুবকের চোখ চুরির অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবারই তদন্তের নির্দেশ দেন। নির্দেশ অনুসারে, বুধবার বারাসত মেডিক্যাল কলেজে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্তের পর দেহ তুলে দেওয়া হয়েছে পরিবারের হাতে। পাশাপাশি ঘোষণা মতই 
মুখ্যমন্ত্রী মৃতের পরিবারের একজনকে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার  ভিত্তিতেই বুধবার মৃত যুবকের বাড়িতে পৌঁছে যায় চাকরির নিয়োগপত্র। রাজ্য পুলিশের এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতিম সরকার সন্ধ্যায় যুবকের বাড়িতে গিয়ে মৃতের মা কৃষ্ণা ঘোষের হাতে ভূমি সংস্কার দফতরের চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও, প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে ক্ষোভ কিছুটা শান্ত হয়েছে।

Advertisment

আরও পড়ুন-  বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের পোস্টার লাগতেই হট্টগোল!

উল্লেখ্য বারাসত মেডিক্যাল কলেজের মর্গে মৃতদেহের একটি চোখ 'চুরি' হওয়ার  অভিযোগ ঘিরে সোমবার উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ জানাতে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয় আটকে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের পরিবারের সদস্যরা। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে যশোর রোডে আটকে মমতার কনভয়। SIR ইস্যুতে মতুয়াদের পাশে দাঁড়াতে সোমবার ঠাকুরনগরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে ফেরার সময়ই যশোর রোডে মৃতদেহের চোখ চুরির অভিযোগে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বারাসতের কাজীপাড়ার বাসিন্দা মৃত প্রীতম ঘোষের আত্মীয়রা। পরিবারের অভিযোগ, প্রীতমের দেহ নিতে মর্গে গেলে তারা দেখতে পান একটি চোখ নেই। এরপরই পরিবারের তরফে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করে বিক্ষোভ শুরু করেন আত্মীয়রা।

বিক্ষোভ থামাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান বিরাট পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি জেনে মৃতের পরিবারকে আশ্বস্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “ADG সাউথ বেঙ্গল সুপ্রতিম সরকার পরিবার থেকে সমস্ত তথ্য নেবেন। তার ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হবে। যদি কারও দোষ প্রমাণিত হয়, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে"। মৃতের পরিবারের সদস্যকে চাকরি দেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার সত্যতা মিললে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। ৩৪ বছর বয়সি প্রীতম ঘোষের দেহ থেকে কীভাবে চোখ উধাও হল, তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়।

Advertisment

আরও পড়ুন- Partha Chattopadhyay: বিচারকের তোপে জামিন ঝুঁকিতে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সতর্ক করল আদালত 

  পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাসতের বাসিন্দা প্রীতম ঘোষ রবিবার পথ দুর্ঘটনায় মারা যান। পরিবারের অভিযোগ দুর্ঘটনার পরে হাসপাতালে আনার সময় প্রীতমের দুটি চোখই অক্ষত ছিল। কিন্তু পরের দিন ময়নাতদন্তের পর দেহ নিতে গেলে তারা দেখতে পান একটি চোখ নেই। এরপরই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার পর দ্রুত ব্যাবস্থা নেয় প্রশাসন। প্রতিশ্রুতি মতই গোটা ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি মৃতের মাকে চাকরির নিয়োগ পত্রও তুলে দেওয়া হয় গতকাল। 

যদিও ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে বিজেপির তরফে মমতাকে নিশানা করে লেখা হয়েছে,বিজেপির তরফে এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে লেখা হয়েছে, "শোকাহত একটি পরিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অভিযোগ করে যে বারাসাত মেডিক্যাল কলেজের কর্তৃপক্ষ তাঁদের মৃত আত্মীয়ের চোখ চুরি করে নিয়েছে! সরকারি হাসপাতালে অনিয়ম, চিকিৎসায় গাফিলতি ও অঙ্গ সংক্রান্ত দুর্নীতি নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠলেও তা স্বীকার করার বদলে পরিবারকে চুপ করাতে চাকরির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরকারি হাসপাতাল থেকে অঙ্গ পাচার বাংলায় নতুন কিছু নয়। কোভিডকাল থেকে শুরু করে একাধিক ঘটনার মাধ্যমে বারবার উঠে এসেছে কীভাবে বাংলার হাসপাতালগুলোতে অঙ্গ চুরি, নকল ভ্যাকসিন দেওয়া, এমনকি ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ব্যবহারের মতো গুরুতর ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে ! কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় থেকেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসব রোখার কোনও পদক্ষেপ নেননি"। 

আরও পড়ুন-Sonarpur News: সোনারপুরে দুঃস্বপ্ন! রাতের ভয়াবহতা ধরা পড়ল ভোরে, দুই কিশোরের নিথর দেহ উদ্ধার

mamata Barasat