মৃতদেহ থেকে উধাও চোখ, ভয়ঙ্কর অভিযোগে মমতার কনভয় আটকে বেনজির প্রতিবাদ, মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা বিজেপির

এবিষয়ে হাসপাতালের তরফে চিকিৎসক অভিজিৎ সাহা (এমএসভিপি বারাসাত মেডিকেল কলেজ) জানিয়েছেন, আমার কাছে বাড়ির লোকজন এসেছিলেন। আমি লিখিত অভিযোগ জমা দিতে বলেছি।

এবিষয়ে হাসপাতালের তরফে চিকিৎসক অভিজিৎ সাহা (এমএসভিপি বারাসাত মেডিকেল কলেজ) জানিয়েছেন, আমার কাছে বাড়ির লোকজন এসেছিলেন। আমি লিখিত অভিযোগ জমা দিতে বলেছি।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
barasat morgue eye theft, barasat medical college controversy, pritam ghosh death, eye missing allegation, mamata banerjee convoy protest, jessore road protest, west bengal hospital negligence, bengal organ theft allegation, barasat morgue irregularities, SIR issue west bengal, mamata banerjee news, BJP reaction bengal, barasat hospital scandal, west bengal political tension, organ trafficking allegations bengal, morgue eye missing case, west bengal live news, TMC vs BJP bengal, barasat medical college eye missing, bengal health system crisis

মৃতদেহের চোখ উধাও! বারাসত হাসপাতালের মর্গে চাঞ্চল্য, মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় আটকে পরিবারের বিক্ষোভে Photograph: (ছবি-মোবারক কোরাইসি)

বারাসত মেডিক্যাল কলেজের মর্গে মৃতদেহের এক চোখ 'চুরি' হওয়ার  অভিযোগ ঘিরে সোমবার উত্তেজনা ছড়াল। অভিযোগ জানাতে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয় আটকে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের পরিবারের সদস্যরা। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে যশোর রোডে আটকে থাকে কনভয়।

Advertisment

SIR ইস্যুতে মতুয়াদের পাশে দাঁড়াতে আজ ঠাকুরনগরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে ফেরার সময়ই যশোর রোডে মৃতদেহের চোখ চুরির অভিযোগে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বারাসতের কাজীপাড়ার বাসিন্দা মৃত প্রীতম ঘোষের আত্মীয়রা।পরিবারের অভিযোগ, প্রীতমের দেহ নিতে মর্গে গেলে তারা দেখতে পান একটি চোখ নেই। এরপরই পরিবারের তরফে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করে বিক্ষোভ শুরু করেন আত্মীয়রা।

“আমার সঙ্গে খেলতে এসো না!”, বনগাঁর সভা থেকে বিজেপিকে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

Advertisment

বিক্ষোভ থামাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান বিরাট পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি জেনে মৃতের পরিবারকে আশ্বস্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “ADG সাউথ বেঙ্গল সুপ্রতিম সরকার পরিবার থেকে সমস্ত তথ্য নেবেন। তার ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হবে। যদি কারও দোষ প্রমাণিত হয়, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে"। মৃতের পরিবারের সদস্যকে চাকরি দেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার সত্যতা মিললে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। ৩৪ বছর বয়সি প্রীতম ঘোষের দেহ থেকে কীভাবে চোখ উধাও হল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাসতের বাসিন্দা প্রীতম ঘোষ রবিবার পথ দুর্ঘটনায় মারা যান। পরিবারের অভিযোগ দুর্ঘটনার পরে হাসপাতালে আনার সময় প্রীতমের দুটি চোখই অক্ষত ছিল। কিন্তু পরের দিন ময়নাতদন্তের পর দেহ নিতে গেলে তারা দেখতে পান একটি চোখ নেই।

Weekend Trip: ‘গোপন সমুদ্র’ আর লুকিয়ে নেই! কলকাতার কাছে অনিন্দ্যসুন্দর সি-বিচ উইকেন্ড ট্রিপে ঝড় তুলছে!

এবিষয়ে হাসপাতালের তরফে  চিকিৎসক অভিজিৎ সাহা (এমএসভিপি বারাসাত মেডিকেল কলেজ) জানিয়েছেন, আমার কাছে বাড়ির লোকজন এসেছিলেন। আমি লিখিত অভিযোগ জমা দিতে বলেছি। লিখিত অভিযোগ জমা পড়লে আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করব। এর পর পরিবারের লোকজন মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখান। উনিও নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশ দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী তদন্ত শুরু হয়েছে"। 

Suvendu Adhikari: পুলিশের মঞ্চে ‘মমতা চাই’ ধ্বনি! শুভেন্দুর বিস্ফোরক ভিডিও প্রকাশে তোলপাড় রাজ্য

এদিকে পরিবারের তরফে ওঠা ভয়ঙ্কর অভিযোগকে ঘিরে চড়তে শুরু করেছে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ। বিজেপির তরফে এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে লেখা হয়েছে, "শোকাহত একটি পরিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অভিযোগ করে যে বারাসাত মেডিক্যাল কলেজের কর্তৃপক্ষ তাঁদের মৃত আত্মীয়ের চোখ চুরি করে নিয়েছে! সরকারি হাসপাতালে অনিয়ম, চিকিৎসায় গাফিলতি ও অঙ্গ সংক্রান্ত দুর্নীতি নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠলেও তা স্বীকার করার বদলে পরিবারকে চুপ করাতে চাকরির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরকারি হাসপাতাল থেকে অঙ্গ পাচার বাংলায় নতুন কিছু নয়। কোভিডকাল থেকে শুরু করে একাধিক ঘটনার মাধ্যমে বারবার উঠে এসেছে কীভাবে বাংলার হাসপাতালগুলোতে অঙ্গ চুরি, নকল ভ্যাকসিন দেওয়া, এমনকি ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ব্যবহারের মতো গুরুতর ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে ! কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় থেকেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসব রোখার কোনও পদক্ষেপ নেননি"। 

Barasat medical college