/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/12/2-nipah-virus-cases-detected-in-bengal-centre-mobilises-response-team-2026-01-12-20-38-04.jpg)
কোভিডের থেকেও ভয়ঙ্কর, রাজ্যে নিপা ভাইরাসের থাবা?
Nipah virus West Bengal: নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ এবার বাংলায়। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে দুই নার্সকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তাঁদের একজন পুরুষ ও অন্যজন মহিলা। দু’জনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
দু’জনেরই রক্তের নমুনা পাঠানো হয়েছে আইসিএমআর-এর অধীন অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS), কল্যাণীর ভাইরাস রিসার্চ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরিতে। পরীক্ষার রিপোর্ট ইতিমধ্যেই রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের সদর দফতর স্বাস্থ্য় ভবনে পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, নিপা ভাইরাসের উচ্চ মৃত্যুহার ও দ্রুত সংক্রমণের সম্ভাবনার কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরা, এমনকি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিবও রাজ্যের মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং রাজ্য স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
আক্রান্ত সন্দেহভাজন দুই নার্সই সেই বেসরকারি হাসপাতালের কর্মী, যেখানে তাঁরা বর্তমানে ভর্তি। মহিলা নার্সের বাড়ি নদিয়ার কল্যাণীতে এবং পুরুষ নার্সের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায়। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং শুরু করেছে।
সূত্রের খবর, মহিলা নার্স প্রায় ১০ দিন আগে কাটোয়ায় নিজের বাড়িতে যান এবং সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে তাঁকে কাটোয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকেও শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাঁকে বারাসতের ওই বেসরকারি হাসপাতালে আনা হয়। বর্তমানে তিনি আইসিইউ-তে ভর্তি। পুরুষ নার্সও ভেন্টিলেটরে রয়েছেন এবং তাঁর অবস্থাও সংকটজনক। দু’জনকেই সম্পূর্ণ আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
নিপা ভাইরাস কী?
নিপা ভাইরাস একটি অত্যন্ত মারাত্মক জুনোটিক ভাইরাস, যা প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে। এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মৃত্যুহার প্রায় ৪০ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত।
মানুষের শরীরে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রথম ধরা পড়ে ১৯৯৮-৯৯ সালে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে, যেখানে মোট ২৭৬ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। ভারতে ২০০১ ও ২০০৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ ও প্রতিবেশী বাংলাদেশে নিপার প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। পরে কেরলে ২০১৮, ২০১৯ ও ২০২১ সালেও একাধিকবার এই ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে।
আরও পড়ুন- Chungthang: সিকিমের হৃদয়ে এক লুকোনো রত্ন চংথাং! আধুনিকতার ছোঁয়া ছাড়া চিনুন পাহাড়ি জীবন
নিপা ভাইরাসের প্রাকৃতিক বাহক হল প্টেরোপাস প্রজাতির বৃহৎ ফলখেকো বাদুড়, যাদের ‘ফ্লাইং ফক্স’ বলা হয়। এই ভাইরাস শূকরদের শরীরেও সংক্রমণ ঘটাতে পারে। নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সাধারণত জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, বমি, গলা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা যায়। গুরুতর ক্ষেত্রে মাথা ঘোরা, তন্দ্রাচ্ছন্নতা, চেতনা পরিবর্তন, তীব্র এনসেফালাইটিস, শ্বাসকষ্ট ও খিঁচুনিও হতে পারে।
আরও পড়ুন- ভিন রাজ্যে ফের বাঙালি হেনস্থা, মুম্বইয়ে খুন, ওড়িশায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ, গর্জে উঠল তৃণমূল
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) নিপা ভাইরাসকে অগ্রাধিকারভুক্ত রোগ হিসেবে চিহ্নিত করলেও এখনও পর্যন্ত এই রোগের জন্য কোনও নির্দিষ্ট ওষুধ বা অনুমোদিত চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। চিকিৎসকেরা সাধারণত রিবাভিরিনের মতো ব্রড-স্পেকট্রাম অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ব্যবহার করে উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা করে থাকেন।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us