/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/25/beldanga-alauddin-sheikh-death-suicide-police-report-2026-2026-01-25-11-20-25.jpg)
বেলডাঙ্গা হিংসা নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র দেখছে বিজেপি
ঝাড়খণ্ডে গত সপ্তাহে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় যে হিংসাত্মক বিক্ষোভ ছড়িয়েছিল, সেই পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখ আত্মহত্যাই করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। মৃত শ্রমিকের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের তদন্তে খুন বা কোনও ধরনের ষড়যন্ত্রের প্রমাণ মেলেনি বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।
মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের এক বিবৃতিতে শনিবার জানানো হয়েছে, আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর পর তদন্তের অংশ হিসেবে এক সাব-ইন্সপেক্টর ঝাড়খণ্ডের পালামুতে গিয়েছিলেন। সেখানে ওই এলাকায় বসবাসকারী ৮ থেকে ১০ জন বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের বয়ান নেওয়া হয়। তবে তাঁদের কেউই খুনের কোনও ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন- ফিরল খোকন দাস হত্যার স্মৃতি, বাংলাদেশে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হল চঞ্চলকে, ফের প্রশ্নে হিন্দু সুরক্ষা
পুলিশ আরও জানিয়েছে, যিনি সিলিং ফ্যান থেকে আলাউদ্দিনের দেহ নামিয়েছিলেন, সেই কাসিম শেখের বয়ানও নেওয়া হয়েছে। তিনিও খুন বা অস্বাভাবিক কোনও ঘটনার ইঙ্গিত দেননি। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘অ্যান্টে-মর্টেম হ্যাঙ্গিং’ উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, মৃতদেহে কোনও আঘাত, ক্ষত, ফ্র্যাকচার বা মারধরের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ৩০ বছর বয়সী আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুকে ঘিরে গত ১৬ জানুয়ারি মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় ব্যাপক অশান্তি ছড়ায়। বহু মানুষ রাস্তায় নেমে রেললাইন ও জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন, যার জেরে কয়েক ঘণ্টা ধরে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
আরও পড়ুন-বিস্তর টালবাহানার পর মনিরুলের বিরুদ্ধে এবার FIR দায়ের, বিরাট বিপাকে তৃণমূলের দাপুটে বিধায়ক
এই ঘটনার পর তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব দাবি করেছিল, ভিন্রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের লক্ষ্য করেই হামলার ঘটনা ঘটেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত তদন্তের আবেদন জানান।
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে ওঠে। বিজেপির দাবি, বেলডাঙার হিংসা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। বিজেপি নেতা অমিত মালব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে অভিযোগ করেন, এই অশান্তি স্বতঃস্ফূর্ত নয় এবং এর নেপথ্যে রাজনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, কারা উপকৃত হল এবং কেন প্রশাসন সময়মতো পদক্ষেপ নিল না।
আরও পড়ুন-নেতাজীর চিতাভস্ম দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদনে কী জানিয়েছেন মোদী? ভোটের আগে বিরাট তথ্য ফাঁস
যদিও বিজেপির এই দাবির পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবির বলেন, প্রশাসনের উচিত ছিল ১৬ জানুয়ারিতেই স্পষ্ট করে বলা যে মৃত্যুটি আত্মহত্যা। তাঁর প্রশ্ন, প্রশাসনের এই দেরি কার স্বার্থে। এদিকে, মৃত আলাউদ্দিন শেখের বাবা এখনও আত্মহত্যার তত্ত্ব মানতে নারাজ। তাঁর দাবি, ছেলের দেহে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
প্রসঙ্গত, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষত বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হামলার অভিযোগ তুলে সাম্প্রতিক মাসগুলিতে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের দাবি, এই ধরণের ঘটনা বাঙালি পরিচয় ও ভাষার উপর আক্রমণেরই সামিল।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us