/indian-express-bangla/media/media_files/2025/10/27/humayun-2025-10-27-11-23-20.jpg)
Humayun Kabir: ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় আগামীকাল শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করবেন বলে ঘোষণা করেছিলেন ভরতপুরের সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। সেই ঘোষণার পর থেকেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। উত্তেজনার পারদ ছুঁয়েছে প্রশাসনের অন্দরেও। হুমায়ুনের এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ মহলে জারি হয়েছে কড়া সতর্কতা। শিলান্যাসের আগের দিন থেকেই এলাকায় টানটান উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
তৃণমূল নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই হুমায়ুন কবীরকে দল থেকে সাসপেন্ড করেছে। অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা। বৃহস্পতিবার বহরমপুরের জনসভা থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না করে হুমায়ুনকে “গদ্দার”, “মীরজাফর” বলে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। কিন্তু সমস্ত চাপ উপেক্ষা করে হুমায়ুন কবীর শিলান্যাস কর্মসূচিতে অনড়ই রয়েছেন।
এই প্রেক্ষিতে শুক্রবার দুপুরে বেলডাঙায় গিয়ে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় বসেন পুলিশ কর্মকর্তারা। রেজিনগরে হুমায়ুনের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বৈঠকে অংশ নেন হরিহরপাড়া থানার আইসি এবং রেজিনগর থানার আইসি। বৈঠকটি সম্পূর্ণ হয় বন্ধ ঘরে, নিরাপত্তা বলয়ের ভেতরে। সূত্রের খবর, অনুষ্ঠানের দিন আইনশৃঙ্খলা যেন বিঘ্নিত না হয়, তা নিশ্চিত করতেই হুমায়ুনের সঙ্গে আলোচনা করেছে পুলিশ।
এদিকে, শিলান্যাস অনুষ্ঠান ঘিরে পুলিশের পক্ষ থেকে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বেলডাঙায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত বাহিনী। এক জন পুলিশ সুপার এবং এক জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে বিশেষভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের। পাশাপাশি মোতায়েন হয়েছে ২৫০ জন RAF সদস্য, প্রায় ১০০ জন কনস্টেবল এবং প্রায় ১০০ জন পুলিশ অফিসার, যাদের মধ্যে রয়েছেন ডিএসপি, ইন্সপেক্টর, সাব-ইন্সপেক্টর সহ বিভিন্ন পদমর্যাদার আধিকারিক।
আরও পড়ুন-Malda News: খুনের মামলায় যুবককে থানায় আটকে নির্মম অত্যাচারের অভিযোগ! গ্রামে ক্ষোভের আগুন
সকলকেই বহরমপুরে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে এবং শিলান্যাসের দিন এলাকাজুড়ে বিশেষ নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কোনও উত্তেজনা ছড়াতে পারে। তাই পুরো এলাকা জুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং প্রতিটি সংবেদনশীল স্থানে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে।
হুমায়ুন কবীর আগেই ঘোষণা করেছেন, “যে–যা বলুক, ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদের শিলান্যাস হবেই।” তার এই অবস্থানটাই এখন প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us