/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/18/beldanga-protest-arrest-murshidabad-migrant-worker-death-2026-01-18-13-00-50.jpg)
বেলডাঙ্গা অশান্তির ঘটনায় পুলিশের জালে ৩০
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় গত ২ দিন অশান্তির প্রেক্ষিতে কড়া মন্তব্য করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাসপেণ্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। রবিবার তিনি বেলডাঙায় পথ অবরোধ ও বিক্ষোভের ঘটনার নিন্দা করে বলেন, এই ধরনের পরিস্থিতি কখনওই কাম্য নয় এবং বিষয়টিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি জানান।
হুমায়ুন কবীর বলেন, “এটা হওয়া উচিত ছিল না। এই ঘটনার দায়িত্ব প্রশাসনের নেওয়া উচিত। সাধারণ মানুষের প্রশাসনের উপর আস্থা রাখা দরকার।” তিনি জানান, শনিবারও কিছু বিক্ষোভকারী টানা চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা রাস্তা অবরোধ করে রাখে। তিনি নিজে সেখানে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলার এবং বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে তাঁর অভিযোগ, তাঁরা কোনও কথাই শোনেননি। “আমি তাদের সতর্ক করেছিলাম, এভাবে আন্দোলন করে কোনও লাভ হবে না। কিন্তু তারা কথা শোনেনি,” বলেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক।
#WATCH | Murshidabad, West Bengal | On violence erupting in Beldanga during the protests over the lynching of a man from West Bengal in Bihar, Former TMC MLA & JUP Chairman Humayun Kabir says, "...The common man should have trust in the administration...Some people have again… pic.twitter.com/Tqa0UnnI3o
— ANI (@ANI) January 18, 2026
প্রসঙ্গত, ঝাড়খণ্ডে আলাউদ্দিন শেখ নামে এক বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অভিযোগকে ঘিরেই মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা এলাকায় টানা বিক্ষোভ চলছে। শুক্রবার নিহত শ্রমিকের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা জাতীয় সড়ক ১২ অবরোধ করেন। পাশাপাশি শিয়ালদহ রেল ডিভিশনের অধীনে বেলডাঙায় রেললাইনের উপর টায়ার জ্বালিয়ে রেল চলাচল ব্যাহত করা হয়।
শনিবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা রাস্তা অবরোধ করে মৃত শ্রমিকের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি জানায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হিংসার জন্য ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’-কে দায়ী করেছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর খবর পেয়েই তিনি ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে কথা বলেন এবং মুখ্যমন্ত্রী উপযুক্ত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি নিহতের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর স্ত্রীকে সরকারি চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানান অভিষেক।
আরও পড়ুন- '৪০ বার ভাঙন রোধে বাংলাকে টাকা, লুট প্রতিবারই', দুর্নীতি ইস্যুতে সুর চড়ালেন প্রধানমন্ত্রী মোদী
গত শুক্রবার ও শনিবার পর পর দুদিন পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে বেলডাঙা যে উত্তাল হয়েছিল, অবোরোধ, ভাঙচুর, এমনকি আগুন, উত্তাল পরিস্থিতি সামাল দিতে গতকাল শনিবার পুলিশ লাঠি চার্জ করতে বাধ্য হয়, তারি পরিপেক্ষিতে এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে,আজ রবিবার সকাল ১০ টা নাগাদ রেজিনগর থানার বিভিন্ন এলাকায় রুটমাচ ও টহলদারি দিলেন, জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ, সঙ্গে ছিলেন এসডিপিও বেলডাঙ্গা উত্তম গড়াই, ওসি রেজিনগর উৎপল দাস সহ তার টিম।
এদিকে বেলডাঙ্গার অশান্তির ঘটনায় মোট ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার (এসপি) কুমার সানি রাজ। তিনি বলেন, “এখনও পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় পাওয়া ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে আরও কয়েকজন বিক্ষোভকারীর পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে।” এসপি জানান, ভিডিওর ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার প্রমাণ মিলেছে এমন আরও চার-পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। আইনি পদক্ষেপ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া, বাসচালকের উপর হামলা, রেল অবরোধ এবং রাস্তা আটকে রাখার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা রুজু করা হবে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং বর্তমানে জেলায় শান্তি ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরেছে।
#WATCH | West Bengal | Murshidabad SP Kumar Sunny Raj says, "...There was a road blockade there, and at Panchraha Mod, there was a railway blockade...Some people pelted stones at the police and vandalised a bus. There are no reports of any injuries so far...The police had to… pic.twitter.com/Q4gfABFBA1
— ANI (@ANI) January 17, 2026
রবিবার নিহত পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ইউসূফ পাঠান। শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি সমবেদনা জানান এবং তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ইউসূফ পাঠান বলেন, এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং মর্মান্তিক। তাঁর বক্তব্য, রাজ্য থেকে যাঁরা পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে অন্য রাজ্যে কাজ করতে যান, তাঁরা শুধু নিজেদের জীবিকার জন্যই নয়, সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাই এই ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা না ঘটাই কাম্য।
এদিন এলাকায় দেরিতে পৌঁছানো নিয়ে ওঠা অভিযোগ মানতে নারাজ তৃণমূল সাংসদ। বিষয়টি নিয়ে স্পষ্টভাবে তিনি জানান, তিনি এলাকাতেই ছিলেন এবং পরিস্থিতির উপর নজর রেখেছিলেন। পাশাপাশি তাঁর দাবি, এই ঘটনার পর থেকেই দলের জনপ্রতিনিধি ও বিধায়করা মাঠে নেমে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন এবং সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছেন।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us