/indian-express-bangla/media/media_files/2025/03/15/l6sVyrYJGXQCc4ovYZd4.jpg)
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
"বেলডাঙ্গায় যে ঘটনা ঘটছে তার ইন্ধন দিচ্ছে বিজেপির বাবুরা। অশান্তিতে মদত দিচ্ছে এক গদ্দারও। বিজেপির বিভাজনের রাজনীতি রুখতে হবে। বেলডাঙ্গায় গতকাল ও আজ আক্রান্ত হয়েছে সংবাদ মাধ্যম। আমাদের সংযত থাকতে হবে। বাবরি মসজিদ নিয়ে যারা রাজনীতি করছে সেই ২০১৯ সালে বিজেপির প্রার্থী ছিল। ধর্মে ধর্মে বিভাজনের রাজনীতি রুখতে হবে", বার্তা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় অশান্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বিজেপির বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, বেলডাঙায় যে অশান্তি ছড়ানো হচ্ছে তার পেছনে বিজেপির কিছু নেতার প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, " একজন “গদ্দার” এই পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিচ্ছে"। অভিষেকের স্পষ্ট বার্তা, ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতি রুখতেই হবে এবং আইন হাতে তুলে নিলে আখেরে লাভ হবে বিজেপিরই।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বেলডাঙায় টানা দু’দিন ধরে সংবাদমাধ্যমের উপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি সকলকে সংযত থাকার আবেদন জানিয়ে বলেন, বাবরি মসজিদ ইস্যুতে যে রাজনীতি করছে, তিনি অতীতে ২০১৯সালে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন। ধর্মে-ধর্মে বিভাজনের রাজনীতি বাংলার মাটিতে বরদাস্ত করা হবে না। সাফ বার্তা দেন অভিষেক।
ঝাড়খণ্ডে পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর প্রসঙ্গে অভিষেক জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছেন। ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি। তবে একই সঙ্গে অভিষেকের সতর্কবার্তা, আইন নিজের হাতে তুলে নিলে বিজেপি ও বিভাজন যারা চাইছেন সেই শক্তিরই লাভ হবে।
তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে, নিহত পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রীকে চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি পরিযায়ী শ্রমিকদের সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলাদা হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হচ্ছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “আমি সকলকে অনুরোধ করব এলাকার শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখুন। কোনওভাবেই বিজেপিকে অক্সিজেন দেওয়া যাবে না।” তিনি বহরমপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে সরাসরি নিশানা করেন এবং নাম না করে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকেও আক্রমণ করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ‘মীরজাফর’-এর প্রসঙ্গও।
ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে অভিষেক বলেন, যারা ধর্মের নামে মানুষকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে মুর্শিদাবাদকে একজোট হতে হবে। তাঁর দাবি, মুর্শিদাবাদ ঐক্যবদ্ধ থাকলে তৃণমূল কংগ্রেসকে ২৫০-র বেশি আসন পাওয়া থেকে কেউ আটকাতে পারবে না।
Beldanga Violence: ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে! বেলডাঙায় রুদ্রমূর্তি পুলিশের, লাঠিপেটায় সাফ জাতীয় সড়ক
এদিকে, শনিবার দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তপ্ত থাকে বেলডাঙার পরিস্থিতি। বিক্ষোভকারীরা ফের জাতীয় সড়ক-১২ এবং রেলপথ অবরোধ করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার সকালে বেলডাঙা স্টেশনের কাছে একটি রেলগেট ভাঙচুর করা হয় এবং রেল সিগন্যাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষ্ণনগর-লালগোলা শাখায় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জাতীয় সড়ক-১২-এর বড়ুয়া মোড়ে শ'য়ে শ'য়ে মানুষ জড়ো হওয়ায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বহু যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে পড়ে।
পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ কে দেউস্কর জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত আরপিএফ ও আরপিএসএফ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নতুন করে উত্তেজনার খবর পাওয়ায় বেলডাঙায় পুলিশি নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার সকালে ঝাড়খণ্ডে পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বেলডাঙায় হিংসা শুরু হয়। পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করে পরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। মৃতদেহ গ্রামে পৌঁছনোর পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাস্তা ও রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।
অন্যদিকে, দিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপি সাংসদ ও মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, মুর্শিদাবাদে জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে ট্রেন পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, একজন মহিলা সাংবাদিককে নৃশংসভাবে মারধর করা হয়েছে এবং বাংলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে। তিনি এও প্রশ্ন তোলেন মুর্শিদাবাদ কি বাংলার বাইরে'?
“বাংলায় মা-বোনেরা সুরক্ষিত নয়!” বেলডাঙার ঘটনা টেনে রাজ্যকে তীব্র আক্রমণ মোদীর
শুক্রবার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে জাতীয় সড়ক-১২ ও রেলপথ অবরোধ থাকায় হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন। বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের গাড়ি ও ট্রাফিক কিয়স্ক ভাঙচুর করা হয়। পাথর ছোঁড়ার ঘটনায় সাংবাদিকসহ অন্তত ১২ জন আহত হন। একজন মহিলা সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us