অভিষেকের ‘গদ্দার’ মন্তব্যে 'অ্যাকশনে' হুমায়ুন কবীর, তুললেন বিরাট অভিযোগ, কেঁপে উঠল রাজ্য-রাজনীতি

মুর্শিদাবাদে রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানালেন সাসপেন্ডেড তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীর।

মুর্শিদাবাদে রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানালেন সাসপেন্ডেড তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীর।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
Beldanga violence, বেলডাঙা অশান্তি, Abhishek Banerjee statement, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, Humayun Kabir reaction, হুমায়ুন কবীরের প্রতিক্রিয়া, TMC internal conflict, তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব, BJP conspiracy allegation, বিজেপির যোগসাজশের অভিযোগ, Murshidabad politics, মুর্শিদাবাদ রাজনীতি, TMC vs BJP Bengal, বাংলায় তৃণমূল বনাম বিজেপি, suspended TMC leader, সাসপেন্ডেড তৃণমূল নেতা, Beldanga unrest Murshidabad, মুর্শিদাবাদে বেলডাঙা অশান্তি, Abhishek Banerjee rally, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা, West Bengal Assembly Election 2026, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, হুমায়ুন কবীরের প্রতিক্রিয়া

মুর্শিদাবাদে রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানালেন সাসপেন্ডেড তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীর। এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, "আমাকে ‘গদ্দার’ আখ্যা দিয়ে বেলডাঙার অশান্তির দায় তার উপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।"

Advertisment

উল্লেখ্য, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় সাম্প্রতিক অশান্তির পিছনে বিজেপি ও বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীরের যোগসাজশ থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বহরমপুরে রোড'শো ও জনসভা থেকে তিনি এই অভিযোগ করেন এবং এলাকাবাসীকে কোনও প্ররোচনায় পা না দেওয়ার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন- '৪০ বার ভাঙন রোধে বাংলাকে টাকা, লুট প্রতিবারই', দুর্নীতি ইস্যুতে সুর চড়ালেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

বহরমপুরে জেলা সদর শহরে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বলেন, "বেলডাঙার ঘটনার পর দলের অন্দর ও বাইরের বহু মানুষ আমাকে ওই দিনের কর্মসূচি বাতিল করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।" তবে তিনি তা মানেননি। তাঁর বক্তব্য, “বেলডাঙার অশান্তির খবর পাওয়ার পর অনেকেই আমাকে আজকের রোডশো ও সভা না করতে বলেছিলেন। কিন্তু আমরা এগিয়ে গিয়েছি। কারণ, এই হিংসা বিজেপি ও এক গদ্দারের উসকানিতে হয়েছে। আজ সভা না করলে এই শক্তিগুলিই আরও সাহস পেত।”

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (abhishek banerjee) জানান, অভিযুক্ত ‘গদ্দার’-কে ইতিমধ্যেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং আগামী দিনে তার প্রকৃত চেহারা প্রকাশ্যে আনা হবে। নাম করে হুমায়ুন কবীরকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, "যারা মানুষে মানুষে বিভাজন সৃষ্টি করে, তাদের রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়াই উচিত।" বাবরি মসজিদের নাম করে যারা রাজনীতি করতে চায়, তারা পরাজিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন-মোদীর সিঙ্গুর সমাবেশই কী ভোটের আগে খেলা ঘোরাবে? মমতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবার 'স্ট্র্যাটেজি বদল' বঙ্গ বিজেপির?

কড়া জবাব হুমায়ুন কবীরের

অভিষেকের এই মন্তব্যের পরই ফুল 'অ্যাকশন' মোডে হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। তিনি স্পষ্ট করে জানান, তিনি কারও দয়ায় রাজনীতি করেন না এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। তাঁর দাবি, তিনি বরাবরই শোষিত, বঞ্চিত ও বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক মানুষের অধিকারের পক্ষে কথা বলে এসেছেন। যখনই তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন, তখনই তাঁকে আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে। মানুষের পাশে দাঁড়ানো যদি ‘গদ্দারি’ হয়, তবে সেই ‘গদ্দারি’ তিনি বারবার করবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বেলডাঙার অশান্তি প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবীর প্রশ্ন তোলেন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। তাঁর বক্তব্য, "রাজ্যের প্রশাসন ও পুলিশি ব্যবস্থা যাদের হাতে, তাদের ব্যর্থতা ঢাকতেই একজন জনপ্রতিনিধির ওপর দায় চাপানো হচ্ছে।" বেলডাঙায় অশান্ত পরিস্থিতির সময় প্রশাসন কেন সক্রিয় ভূমিকা নেয়নি, সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, তিনি সব সময় শান্তির পক্ষে থাকলেও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবেন না।

আরও পড়ুন-“বাংলায় মা-বোনেরা সুরক্ষিত নয়!” বেলডাঙার ঘটনা টেনে রাজ্যকে তীব্র আক্রমণ মোদীর 

মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে হুমায়ুন কবীর বলেন, "এই জেলার মানুষ সহজে বিভ্রান্ত হয় না।" তাঁর দাবি, "কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারের বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছেন বলেই তাঁকে থামানোর চেষ্টা চলছে।" তিনি বলেন, ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে জায়গা করে নিচ্ছে, যা দেখে বিরোধীরা আতঙ্কিত।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে হুমায়ুন কবীর বলেন, "শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে রাজনীতি করা সহজ, কিন্তু মাঠে নেমে মানুষের কষ্ট ভাগ করে নেওয়া অনেক কঠিন।" তাঁর অভিযোগ, যারা ভোটের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেয়, অথচ সংকটের সময় মুখ ফিরিয়ে নেয়, তারাই প্রকৃত ‘গদ্দার’।

শেষে তিনি মুর্শিদাবাদবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "সাধারণ মানুষের সমর্থনই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। মানুষের পাশে থাকলে কোনও হুমকি বা অপমান আমাকে দমাতে পারবে না।" তিনি জানান, এই লড়াই চলবে এবং মানুষের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

বেলডাঙার ঘটনা প্রসঙ্গে অভিষেক জানান, অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহিলা টেলিভিশন সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনাকেও তিনি 'গুরুতর' বলে উল্লেখ করেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দেন। তিনি আরও বলেন, "বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠান এবং স্থানীয় বিধায়ক মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন।" ওই শ্রমিকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বেলডাঙায় অশান্তি ও বিক্ষোভ ছড়ায়। অভিষেক জানান, রাজ্য সরকার মৃতের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য এবং তাঁর স্ত্রীকে একটি সরকারি চাকরির ঘোষণা করেছে।

আরও পড়ুন-'পালটানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার', স্লোগান তুলে তৃণমূলকে বিঁধে 'আসল' পরিবর্তনের ডাক, গর্জে উঠলেন মোদী 

বহরমপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরীকেও তীব্র আক্রমণ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে ‘বিজেপির ডামি প্রার্থী’ বলে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, "বাংলা ভাষাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর নিপীড়ন কিংবা SIR প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার মতো গুরুতর বিষয়গুলিতে অধীর চৌধুরী নীরব থেকেছেন।" ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক দাবি করেন, বিজেপির ‘এজেন্ট’-কে পরাস্ত করার আহ্বানে সাড়া দিয়ে মানুষ তাঁকে বিপুল ব্যবধানে হারিয়েছে। তাঁর দাবি, "২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ জেলার ২২টি আসনেই তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হবে।"

নির্বাচন কমিশনকেও আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, SIR প্রক্রিয়ার নামে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন মানুষের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে এবং তাই তা এখন ‘নির্যাতন কমিশনে’ পরিণত হয়েছে।

সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২৫০টির বেশি আসনে জয়ী হবে এবং বিরোধীদের স্বপ্ন পূরণ হবে না। পাশাপাশি কেন্দ্রের বিজেপি সরকার জল জীবন মিশন ও আবাস যোজনার মতো প্রকল্পের টাকা আটকে রেখেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে কেন্দ্র টাকা না দিলেও রাজ্য সরকার নিজস্ব তহবিল থেকেই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলে দাবি অভিষেকের। তিনি বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই ২০ লক্ষ মানুষ রাজ্যের উদ্যোগে বাড়ি পাবেন। মুর্শিদাবাদে নদীভাঙন নিয়েও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “আপনাদের টাকা বা আপনাদের নামে প্রকল্প আমাদের দরকার নেই” এই মন্তব্যে মোদী সরকারকে কটাক্ষ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন-বিলাসবহুল ভ্রমণের এক নয়া অধ্যায়, পাবেন বিমানের মত পরিষেবা, বন্দে-ভারত স্লিপারের ভাড়া কত? 
 

tmc abhishek banerjee Humayun Kabir Abhishek