/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/24/logical-discrepancy-2026-01-24-16-28-37.jpg)
‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’-তে কত নাম বাদ?
Bengal SIR: পশ্চিমবঙ্গে চলমান স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় চিহ্নিত হওয়া ভোটারদের নিয়ে দু’টি আলাদা তালিকা প্রকাশ করতে পারে নির্বাচন কমিশন। শনিবার ভারতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI) ‘আনম্যাপড’ (Unmapped) এবং ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ (Logical Discrepancy) সংক্রান্ত পৃথক তালিকা প্রকাশ করতে পারে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে, চলতি মাসের শুরুতে তৃণমূল কংগ্রেসের দায়ের করা এক মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে শুধুমাত্র ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ সংক্রান্ত তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল। তবে ২১ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন জানায়, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনেই এসআইআর প্রক্রিয়ায় চিহ্নিত ‘আনম্যাপড’ এবং ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ এই দুই ধরনের মামলার পৃথক তালিকা প্রকাশ করা হবে।
আরও পড়ুন- লেপ-কম্বল কি এবার সত্যিই আলমারিতে? রবিবার থেকেই আবহাওয়ায় বড় চমক!
যদিও শনিবার ভোর পর্যন্ত এই দু’টি তালিকা নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী রাত ১২টার মধ্যে প্রকাশ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। কারণ শুক্রবার রাত পর্যন্ত নয়াদিল্লিতে কমিশনের সদর দফতর থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)-এর দফতরে চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত তালিকা পৌঁছয়নি। তবে সিইও দফতর সূত্রের দাবি, শনিবারই নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর থেকে তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং এরপর তা সিইও দফতরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে।
এছাড়াও, এই দুই তালিকার হার্ড কপি ব্লক অফিস, গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষেত্রে পঞ্চায়েত অফিস এবং পুরসভা ও পুরনিগম এলাকায় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড অফিসে টাঙিয়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ‘আনম্যাপড’ ভোটার হলেন তাঁরা, যাঁরা ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে ‘সেলফ ম্যাপিং’ বা ‘প্রোজেনি ম্যাপিং’-এর মাধ্যমে কোনও যোগসূত্র স্থাপন করতে পারেননি। উল্লেখ্য, ২০০২ সালেই শেষবার পশ্চিমবঙ্গে এ ধরনের নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন হয়েছিল।
অন্যদিকে, ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ বলতে সেই সমস্ত ভোটারকে বোঝানো হচ্ছে, যেখানে প্রোজেনি ম্যাপিং-এর সময় পারিবারিক তথ্যের মধ্যে অস্বাভাবিক বা অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য ধরা পড়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে মোট ‘আনম্যাপড’ ভোটারের সংখ্যা ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৬ জন এবং ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ মামলার সংখ্যা ৯৪ লক্ষ ৪৯ হাজার ১৩২।
সিইও দফতরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ‘আনম্যাপড’ হিসেবে চিহ্নিত ৩১ লক্ষের বেশি ভোটারের মধ্যে দাবি ও আপত্তি শুনানির জন্য ডাকা হলেও শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৩ লক্ষ ভোটার হাজির হননি। কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, চূড়ান্তভাবে যদি এই ভোটাররা শুনানিতে উপস্থিত না হন, তাহলে তাঁদের নামও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এনুমারেশন পর্বে ইতিমধ্যেই প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারকে মৃত, স্থানান্তরিত অথবা ডুপ্লিকেট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। সেই কারণে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
দাবি ও আপত্তির শুনানি পর্ব শেষ হওয়ার শেষ তারিখ ৭ ফেব্রুয়ারি এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন নির্ধারিত রয়েছে ১৪ ফেব্রুয়ারি। তবে নির্বাচন কমিশনের ইঙ্গিত অনুযায়ী, প্রয়োজনে এই দুই সময়সীমাই বাড়ানো হতে পারে।
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরেই চলতি বছরের শেষে অনুষ্ঠিত হতে চলা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিনক্ষণ ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us