scorecardresearch

বড় খবর

নিয়োগ ‘দুর্নীতি’, কারও বাবা তৃণমূল নেতা, কারও স্বামী সিপিএম, কেউবা প্রাথমিক শিক্ষকদের নেতা!

প্রাথমিকে চাকরি খুইয়ে কেউ ঘরছাড়া, কেউ বা ঘরবন্দি, তিন জেলায় ঘুরে দেখল ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

Bengal teacher recruitment, Shock, denial at homes of those sacked by HC
এসপ্ল্যানেডে SSC চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভ। ফাইল ছবি।

রাভিক ভট্টাচার্য, অত্রি মিত্র ও জয়প্রকাশ দাস

রাজ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগে পাহাড়-প্রমাণ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কোর্টের নির্দেশে বেনিয়মের অভিযোগে চাকরি খুইয়েছেন শ’য়ে-শ’য়ে তরুণ-তরুণী। হাইস্কুল হোক বা প্রাথমিক, বঙ্গে ‘চাকরি-দুর্নীতি’ হয়েছে প্রায় সর্বত্রই। খোদ কলকাতা হাইকোর্ট শিক্ষকের চাকরিতে চূড়ান্ত ‘অনিয়ম’ দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছে। ২৭৩ জন প্রাথমিক শিক্ষকের নিয়োগ ঘিরেও অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গত মাসে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তাঁদের বরখাস্ত করা হয়। চাকরি খোয়ানো এই শিক্ষকদের অধিকাংশই আধা-শহর বা গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলিতে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

‘অনিয়মে’ চাকরি হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে যেমন রয়েছেন তৃণমূল পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যের ছেলে, তেমনই আছেন এক সিপিআই(এম) নেতার স্ত্রী, তৃণমূলের যুবনেতা, দুই ভাই এবং একটি বেসরকারি শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সেক্রেটারির স্ত্রী এবং তাঁরই দুই ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। এঁরা প্রত্যেকেই বেনিয়মে চাকরি পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। গত ১৩ জুন কলকাতা হাইোকার্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় শুধুমাত্র এই শিক্ষকদের বরখাস্তের নির্দেশ দেননি, ২০১৪ সালে শিক্ষকদের যোগ্যতা পরীক্ষা বা TET-এর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্তদের বিষয়েও সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরই এক সপ্তাহ পরে আদালত পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যান মানিক ভট্টাচার্যকে অপসারণের নির্দেশ দেয়।

শুধু শিক্ষক-শিক্ষিকার নিয়োগই নয়, গত নভেম্বর মাসে রাজ্যে স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)-এর মাধ্যমে গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মীদের নিয়োগের বিষয়েও সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ। মে মাসে ডিভিশন বেঞ্চও সিঙ্গল বেঞ্চের সেই নির্দেশ বহাল রাখে।

রাজ্যে বেনিয়মের অভিযোগে চাকরি যাওয়া মোট ২৭৩ প্রাথমিক শিক্ষকের মধ্যে ১২ জনের বাড়িতে গিয়েছিলেন দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিনিধিরা। তবে তাঁদের অধিকাংশেরই দেখা মেলেনি। ওই ১২ জনের পরিবারের সদস্যরাও ভয় ও লজ্জা পাওয়ার কথা বলেছেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম থাকতে পারে বলে তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ স্বীকারও করেছেন। একাধিক জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকরাও আদালতের নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে এতে যে শিক্ষকতার পেশায় যুক্ত থাকা সবার ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ন হয়েছে, তাও তাঁরা একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন।

আরও পড়ুন- স্কুলেও নজর মোদীর, শিক্ষকদের নিত্য হাজিরায় অভিনব পথ বাতলে দিলেন নমো!

হাওড়া:

হাওড়ার শ্যামপুরের চিলিয়ারা গ্রামের এক যুবকও বেনিয়মে চাকরি পেয়েছেন বলে অভিযোগ। তাঁর বাড়িতেও গিয়েছিলেন দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিনিধিরা। বছর ত্রিশের তনুময় মণ্ডলের বেনিয়মে চাকরি হয়েছি বলে অভিযোগ, কোর্টের নির্দেশে তিনি চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়েছেন। তনুময়ের খোঁজে তাঁর বাড়িতে গেলে বাবা রামপ্রসাদ মণ্ডল বললেন, ”ছেলে বাড়িতে নেই।” তনুময় হাওড়ার নওদা বোর্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।

বছর পঞ্চান্নের রামপ্রসাদ ২০০৩ সাল থেকে শ্যামপুরে তৃণমূল নেতৃত্বাধীন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য। তিনি বলেন, ”পাঁচ বছর পরেও একজনকে সরকারি চাকরি থেকে সরানো যেতে পারে? এমন ঘটনা আগে কখনও শুনিনি। আদালতের নির্দেশে আমরা হতবাক। শিক্ষক হওয়ার পরে আমার ছেলে ঋণ নিয়ে বাড়ি তৈরি শুরু করে। আদালতের নির্দেশের পর সেই কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। হয় তো কিছু দুর্নীতি আছে। কিন্তু আমার ছেলে এতে জড়িত নয়।”

শ্যামপুরের চিলিয়ারা গ্রাম থেকে আরও প্রায় ৬ কিলোমিটর দূরে রয়েছে মৌলা গ্রাম। এই গ্রামের দেবরাজ মণ্ডলের দোতলা বাড়ি। তিনি ন্যায়চক্র জোয়ারগরি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। তিনিও বাড়িতে নেই বলে তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। দেবরাজের বাবা নন্দ মণ্ডল, একজন অবসরপ্রাপ্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারী। তিনি বলেন, “ও বাড়িতে নেই। আমার স্ত্রী এবং আমি এখানে আছি। আমরা (আদালতের আদেশ) এ সম্পর্কে কিছুই জানি না। কিন্তু সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ের বিরুদ্ধে যাঁরা ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে আমার ছেলেও রয়েছে।”

দেবরাজ বা তাঁর পরিবারের সদস্যরা সেভাবে কিছু না জানালেও চাঞ্চল্যকর বয়ান দিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেবরাজেরই এক বন্ধু। তিনিও একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি বলেন, ”কেলেঙ্কারিটি আরও বড়। ২৭৩ জন প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরির বরখাস্তের প্রক্রিয়া সবে শুরু। এটি হিমশৈলের চূড়া মাত্র। আদালত এবং সিবিআই তাদের দায়িত্ব পালন করলে, শুধু প্রাথমিক নয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়েরও হাজার-হাজার শিক্ষক তাঁদের চাকরি হারাবেন। কেউ তাঁদের বাবা-মায়ের সূত্রে চাকরি পেয়েছেন, কেউ বা টাকার বিনিময়ে সরকারি স্কুলে চাকরি পেয়েছেন। কেউ মেনে নেবে না। কিন্তু এটাই সত্যি। এসএসসি কর্তাদের একটি অংশ, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বোর্ডের কর্মকর্তা এবং উচ্চপদস্থরা মিলে একটি প্রক্রিয়া তৈরি করেছেন, যাতে অবৈধ নিয়োগ করা যায়।”

মৌলা গ্রাম থেকে প্রায় ৫ কিমি দূরে রয়েছে দিহিবেরিয়া। এখানেই অনুপম মণ্ডল ও কৃশানু মণ্ডল নামে দুই ভাই অনিয়মে চাকরি পেয়ে পরে তা খুইয়েছেন বলে অভিযোগ। কনকলতা মান্না নামে একজন বয়স্ক মহিলা অনুপম-কৃশানুর দিদা। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিনিধি পরিচয় দিতেই বিব্রত বোধ করতে থাকেন তিনি। এমনকী বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন সাংবাদিকদের।

তবে তাঁদেরই এক প্রতিবেশী বললেন, “আমরা শুনেছি যে ওঁরা বেনিয়মে চাকরি পেয়েছিলেন। হাইকোর্টের নির্দেশের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে। ওঁদের বাবা একজন প্রাক্তন সেনাকর্মী, মা একজন নার্স। দুই ভাই বিবাহিত। আদালতের নির্দেশের পর এখন বাড়ির বাইরে ওঁদের আর তেমন দেখা যায় না।”

হুগলি:

হুগলির পাণ্ডুয়ার একটি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন প্রবীর মজুমদার। কোর্টের নির্দেশে তিনিও বরখাস্ত হয়েছেন। তিনি আবার তৃণমূলের প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের নেতা ছিলেন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাড়িতে গিয়েও তাঁর খোঁজ পায়নি। প্রবীরের বাবা সদানন্দ মজুমদারের আসবাবপত্রের দোকান রয়েছে। তাঁর কথায়, “২০১৪ সালে আমার ছেলে টেট দিয়েছিল। ২০১৭ সালে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের চাকরি পায়। তবে চাকরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানি না। ও আমাকে কিছুই বলেনি। শিক্ষক হওয়ার জন্য অবৈধ উপায় বেছে নেওয়ার চেয়ে আমার ছেলেকে ভিখারি হয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখতে পছন্দ করব। আমি বলছি না, যে সে একাজ করেছে। সংবাদমাধ্যম থেকেই জেনেছি। নিয়োগে কিছু দুর্নীতি আছে। দোষীদের শাস্তি হওয়া উচিত। কিন্তু প্রকৃত প্রার্থীদের চাকরি থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।”

প্রবীর বিবাহিত, তাঁর একটি সন্তানও রয়েছে। এই প্রসঙ্গ তুলে ধরে তাঁর বাবা বললেন, “এখন হঠাৎ করেই পরিবারের পুরো আর্থিক বোঝা আমার উপর পড়বে। আমি এটা মেনে নিলাম। কিন্তু যেটা মানতে পারছি না, তা হল সামাজিক লজ্জা। এই এলাকার সবাই বিষয়টি নিয়ে কথা বলছে। তাঁরা সবাই মনে করে আমার ছেলে চাকরি পাওয়ার জন্য ঘুষ দিয়েছে। এই সামাজিক লজ্জা অসহনীয়। আমার পরিবারের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে।”

পাণ্ডুয়া থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে বলাগড়ের পিয়ালি দাসও বেনিয়মে চাকরি পেয়েছেন বলে অভিযোগ। পিয়ালির স্বামী শান্তনু সমাদ্দার পেশায় একজন ব্যবসায়ী। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিনিধিদের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে দিতে চাননি তিনি। পিয়ালি সোমরাবাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন। তাঁর স্বামী বলেন, “আমার স্ত্রী আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে পারবে না। আমি অবাক হয়ে গিয়েছি। আমার স্ত্রী সংস্কৃতে স্নাতকোত্তর করেছেন। তারপরে টেটও দিয়েছে। আদালতের উচিত ছিল চাকরি বন্ধ করার আগে সব শিক্ষককে ডেকে তাঁদের কথা শোনা। আমার কিছু বলার নেই। প্লিজ যান।”

তবে বলাগড়ের ইঞ্চুরি গ্রামে গিয়ে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের টিম ধরে ফেলে ৩১ বছরের যুব তৃণমূলের নেতা রাহুল দেব ঘোষকে। তিনিও বেনিয়ম করেই চাকরি পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ। কোর্টের নির্দেশে তাঁরও চাকরি গিয়েছে। তিনি বললেন, “আমি দলীয় রাজনীতি বা আমার অবস্থান নিয়ে কিছু বলতে চাই না। এটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমি শুধু বলতে পারি শিক্ষকের চাকরি পাওয়ার পর আমি ব্যক্তিগত ঋণ নিয়েছিলাম। কীভাবে এখন সেই শোধ করব জানি না। আমি আর কিছু বলতে চাই না।”

বলাগড়ের তৃণমূল বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ”এটি বিচারাধীন বিষয়। যাঁরা চাকরি হারিয়েছেন তাঁরাও তো আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরি থেকে বরখাস্তের পর যে পদগুলি ফাঁকা হল, তা পূরণের জন্য আমি শিক্ষা দফতরের কাছে আবেদন করব। আমি কিছু নাম শুনেছি। মানুষ তাঁদের সম্পর্কে কথা বলছেন। কিন্তু আমি নিজে থেকে তদন্ত করিনি। আমার সেই অধিকারও নেই।”

পূর্ব বর্ধমান:

পূর্ব বর্ধমানের বেশ কয়েকজন অনিয়ম করে চাকরি পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ। কালনার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে খোঁজ মিলেছে এমনই ছয় প্রাথমিক শিক্ষকের। প্রত্যেকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিনিধিরা। অনিয়মের অভিযোগে চাকরি পাওয়া বৈশাখী বসু মল্লিকও ওই ছ’জনেরই একজন। বৈশাখীর স্বামী সিপিআইএম নেতা শুভাশিস সরকার। শুভাশিস ২০১৫-এর পুর নির্বাচনে সিপিআইএমের প্রার্থীও হয়েছিলেন। বৈশাখীর বাবা বীরেন বসু মল্লিক জেলারই একজন পরিচিত সিপিআই(এম) নেতা।

আদালতের নির্দেশের পর ধপাসপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতার চাকরি খুইয়েছেন বৈশাখীও। এক্সপ্রেস তাঁদের বাড়িতে গিয়ে বৈশাখী বা তাঁর স্বামী কারও দেখা পায়নি। পরে ফোনে শুভাশিস বলেন, “আমার স্ত্রী মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। তাঁর স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও রয়েছে। আদালতের রায় সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারব না। তবে আমাদের খারাপ লাগছে।” কোর্টের নির্দেশে প্রাথমিকের চাকরি গিয়েছে কালনা প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের সেক্রেটারি জ্যোতির্ময় বন্দোপাধ্যায়ের স্ত্রী, শ্যালিকা এবং ভগ্নিপতিরও। জ্যোতির্ময় বন্দোপাধ্যায়ের স্ত্রী মিঠু রায় কালনা মহিষমর্দিনী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন। তাঁর শ্যালিকা পাপিয়া রায় যোগীপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করতেন। ভগ্নিপতি সুদীপ পালিত কালনার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।

স্ত্রী ও নিকটাত্মীয়দের চাকরি যাওয়া প্রসঙ্গে জ্যোতির্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি সবে বেঙ্গালুরু থেকে ফিরেছি। স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য সেখানে গিয়েছিলাম। তিনি অসুস্থ, তাই আপনার সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না। সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশের বিরুদ্ধে আমরা কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছি। এটাই আমি বলতে পারি। আমরা কোনও অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত নই।”

জ্যোতির্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অপসারিত প্রাথমিক পর্ষদ সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলে শোনা যায়। তবে জ্যোতির্ময় নিজে বলেছেন, ”আমি মানিকবাবুকে চিনি। তবে আমি তাঁর ঘনিষ্ঠ নই। আমি শুধুমাত্র কিছু মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেছিলাম। বোর্ড আমাদের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমন বৈঠক করেই থাকে। প্রতি বছর ৫০ জন শিক্ষার্থী এই ইনস্টিটিউট থেকে পাশ করেন। তাঁদের অনেকেই শিক্ষক হিসেবে চাকরি পান। কিন্তু আমরা তাঁদের খোঁজ-খবর রাখি না।”

জ্যোতির্ময়ের ইনস্টিটিউটের গ্রুপ ডি কর্মী মহাদেব ঘোষের ছেলেও আদালতের নির্দেশে চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়েছেন। খোরসাডাঙা গ্রামে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে মহাদেব বা তাঁর ছেলে শুভাশিস কারও দেখা মেলেনি। মহাদেবের স্ত্রী কৃষ্ণা ঘোষ বলেন, “আমার স্বামী যে ইনস্টিটিউটে কাজ করেন সেখান থেকে আমার ছেলে প্রাথমিক শিক্ষায় ডিপ্লোমা করেছিল। তারপর চাকরি পেয়ে গেল। এখন আদালতের নির্দেশে শুনছি ওর চাকরি আর নেই। আমি এর চেয়ে বেশি কিছু জানি না।”

কালনার বন্দেবাজ গান্ধী স্মারক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন প্রবীর বিশ্বাস। মেদগাছিয়া-নাথপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা হল প্রবীরের বাবা সুকুমার বিশ্বাসের সঙ্গে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিনিধিদের প্রবীরের বাবা জানান, তিনি তাঁর ছেলের ব্যাপারে কিছু জানেন না। “সে কোথায় আছে আমি জানি না। শুনেছি চাকরি হারিয়েছে। আমি আর কিছু বলতে পারব না।” সুকুমার বিশ্বাস গ্রামেই একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্র চালান। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রবীর গ্রামেই থাকতেন, তবে আদালতের নির্দেশের কয়েকদিন পরই গ্রাম ছেড়ে তিনি চলে গিয়েছেন।

প্রবীরের স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রণব বিশ্বাস ফোনে বলেন, “আমি ১২ বছর ধরে স্কুলের প্রধান শিক্ষক। প্রবীরের চাকরি যাওয়ার পর স্কুলে শিক্ষকদের সংখ্যা নেমে ছ’য়ে নেমে এসেছে। তবে দুর্নীতি হলে আদালত সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে। অনেক যোগ্য যুবক আছে যাঁরা বঞ্চিত। একজন শিক্ষককে অপসারণ করা হলে স্কুলেও প্রভাব পড়বে, এটাই তো স্বাভাবিক। নতুন করে নিয়োগ নেই। আমরা কীভাবে এই পদ পূরণ করব?”

তিনি আরও বলেন, “স্থানীয় লোকজন এব্যাপারে কথাবার্তা বলছেন। শিক্ষকদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। শিক্ষকদের সম্পর্কে নেতিবাচক কথা শুনতে হচ্ছে। আমরা স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের বলেছি, এবার থেকে একজন শিক্ষক আর আসবেন না। আমরা তাঁদের কোনও কারণ বলিনি। কারণ, আমরা যদি তা করি তবে তাঁরা আমাদেরও সন্দেহ করবে।”

Stay updated with the latest news headlines and all the latest Westbengal news download Indian Express Bengali App.

Web Title: Bengal teacher recruitment shock denial at homes of those sacked by hc