New labour laws: গ্র্যাচুইটি ও সামাজিক সুরক্ষায় বিপুল বদল, নতুন শ্রম আইন বদলে দেবে ৫০ কোটি কর্মীর জীবন

নতুন নিয়মে গ্র্যাচুইটি পেতে আর পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে না। মাত্র এক বছর কাজ করলেই গ্র্যাচুইটির টাকা পাওয়ার সুবিধা মিলবে—এমনই বড় সুখবর দিল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার।

নতুন নিয়মে গ্র্যাচুইটি পেতে আর পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে না। মাত্র এক বছর কাজ করলেই গ্র্যাচুইটির টাকা পাওয়ার সুবিধা মিলবে—এমনই বড় সুখবর দিল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
নতুন শ্রম আইন, labor law India, গ্র্যাচুইটি, gratuity, ওভারটাইম মজুরি, overtime pay, সামাজিক নিরাপত্তা, social security, নিয়োগপত্র, appointment letter, ছুটি নিয়ম, leave policy, ন্যূনতম মজুরি, minimum wage, গিগ কর্মী সুবিধা, gig worker benefits, EPF, ESIC, পেনশন সুবিধা, pension benefits, ফ্রিল্যান্সার, freelancer, শ্রমিক অধিকার, workers rights, শ্রমিক সুবিধা, employee benefits, কর্মক্ষেত্র নিরাপত্তা, workplace safety, শ্রম সংস্কার, labor reforms, আধুনিক কর্মপরিবেশ, modern workplace, ভারত সরকার, Government of India"

নতুন শ্রম আইন কার্যকর: ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ও সুবিধা বাড়ছে

New labour laws: ২০ লক্ষ টাকার ট্যাক্স ফ্রি গ্র্যাচুইটি, ওভারটাইমে দ্বিগুণ পেমেন্ট এবং প্রতি ২০ দিনে একবার ছুটির মতো নতুন নিয়ম এখন দেশের ৫০ কোটিরও বেশি শ্রমিককে আরও বেশি আয়, অধিকার এবং উন্নত কর্মপরিবেশ দেওয়ার দাবি করছে।

Advertisment

নতুন শ্রম আইন: গ্র্যাচুইটি ও সামাজিক সুরক্ষায় বিপুল পরিবর্তন

কেন্দ্র সরকার ১৯৭২ সালের গ্র্যাচুইটি আইনের অধীনে নতুন নিয়ম জারি করেছে, যার লক্ষ্য কর্মীদের অবসরকালীন সুবিধা বৃদ্ধি এবং গ্র্যাচুইটি প্রদান প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা। নতুন সংস্কার মূলত স্থায়ী-মেয়াদী কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যারা চাকরি ছাড়ার পরে আরও ভালো আর্থিক সুরক্ষা পাবেন। সরকারের আশা, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে ন্যায্য এবং ধারাবাহিক গ্র্যাচুইটি প্রদান নিশ্চিত হবে।

নতুন শ্রম আইন কার্যকর: ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ও সুবিধা বাড়ছে

Advertisment

নতুন নিয়মে গ্র্যাচুইটি পেতে আর পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে না। মাত্র এক বছর কাজ করলেই গ্র্যাচুইটির টাকা পাওয়ার সুবিধা মিলবে—এমনই বড় সুখবর দিল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। শুক্রবার, ২১ নভেম্বর শ্রম মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বেসরকারি সংস্থার চুক্তিভিত্তিক কর্মী বা ফিক্সড টার্ম এমপ্লয়িজ়রা এই সুবিধার আওতায় থাকবেন। কর্মীস্বার্থ রক্ষায় এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। 

আরও পড়ুন- টি-২০ স্টাইলের ধামাকা ব্যাটিং, রাজ্যে টানা দাপুটে ইনিংস শীতের, কবে থেকে পারদ পতন? রইল ব্রেকিং আপডেট

শুক্রবার থেকে কার্যকর হয়েছে নতুন শ্রম আইন, যার প্রভাব পড়তে চলেছে দেশের লক্ষ লক্ষ ফ্রিল্যান্সার ও গিগ ওয়ার্কারদের উপর। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন—প্রথমবারের মতো সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্রিল্যান্সিংকে স্বীকৃতি দিল। ফলে এতদিন যাঁরা কোনও ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন, তাঁরাই এখন পেতে চলেছেন নানাবিধ সুরক্ষা।

পিএফ, ইএসআইসি, বীমা ও পেনশন সুবিধা এখন ফ্রিল্যান্সারদের জন্যও

নতুন আইনে পিএফ, ইএসআইসি, বীমা, পেনশন—এই চারটি মৌলিক সুবিধা এখন বাধ্যতামূলক কাঠামোর অংশ। আগে যা কেবলমাত্র স্থায়ী কর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, এবার তা পাবেন  ফ্রিল্যান্সারও। এর ফলে তাঁদের আয়ে স্থিতিশীলতা, ভবিষ্যৎ সুরক্ষা এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হলো—গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের প্রথমবারের মতো আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ফুড ডেলিভারি, ক্যাব সার্ভিস, ই-কমার্স বা বিভিন্ন অনলাইন পরিষেবা প্ল্যাটফর্মকে তাদের বার্ষিক টার্নওভারের ১–২% এই কর্মীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা তহবিলে জমা দিতে হবে। এর মাধ্যমে গিগ ওয়ার্কাররা দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা পাবেন।

সব সুবিধা পোর্টেবল—একটি আধার-লিঙ্কযুক্ত অ্যাকাউন্টে

সমস্ত সুবিধা একটি আধার-সংযুক্ত ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্টেঅ মিলবে। অর্থাৎ কর্মী যদি শহর, কাজের ধরন বা প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তনও করেন, সুবিধাগুলি একইভাবে বহাল থাকবে। ফলে ফ্রিল্যান্সারদের ক্যারিয়ার স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

আরও পড়ুন-SIR-এর গুঁতো, পালিয়ে পথ পাচ্ছেন না অনুপ্রবেশকারীরা, কত বাংলাদেশি দেশে ফিরল?

ভারতের নতুন শ্রম আইন: ৫০ কোটিরও বেশি শ্রমিকের জীবন বদলাবে

ভারতে নতুন শ্রম আইন কার্যকর হওয়ায় দেশের ৫০ কোটিরও বেশি শ্রমিকের জীবনকে বড়ভাবে প্রভাবিত করবে। এই নতুন নিয়মগুলি মজুরি, কাজের সময়, সামাজিক নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কিত বিদ্যমান আইনগুলিকে পুনর্গঠন করেছে। বিশেষত তিনটি পরিবর্তন শ্রমিকদের জন্য সরাসরি স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

গ্র্যাচুইটি ও ছুটি সুবিধা বিস্তৃত হচ্ছে

নতুন নিয়মে গ্র্যাচুইটি পাওয়ার যোগ্যতা মাত্র এক বছরের চাকরির পরে মিলবে। আগে পাঁচ বছর কাজ করতে হতো, তবে এখন স্থায়ী-মেয়াদী এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মীরাও এই সুবিধা পাবেন। প্রতি পূর্ণ বছরের কাজের জন্য ১৫ দিনের বেতন অনুযায়ী গ্র্যাচুইটি গণনা করা হবে। এছাড়াও, ছুটির নিয়মও সহজ হয়েছে। পূর্বে বার্ষিক ছুটির যোগ্যতা অর্জনের জন্য ২৪০ দিন কাজ করতে হতো, এখন তা ১৮০ দিনে কমানো হয়েছে। অর্থাৎ ছয় মাস কাজের পরে কর্মীরা প্রতি ২০ দিনের জন্য একদিনের ছুটি পাবেন।

আরও পড়ুন- তৃণমূলস্তরে ঘাসফুলের মূল উপরে ফেলতে মরিয়া বিজেপি, বঙ্গজয়ের নয়া রণকৌশল কাঁপুনি ধরাবে মমতা-অভিষেককে?  

ওভারটাইম ও ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিতকরণ

নতুন শ্রম আইনে ওভারটাইম নিয়ন্ত্রণকে কঠোর করা হয়েছে। নির্ধারিত কর্ম সময় অতিক্রম করলে কর্মীদের দ্বিগুণ মজুরি দিতে হবে। কোম্পানিগুলিকে ওভারটাইমের স্পষ্ট রেকর্ড রাখতে হবে এবং কর্মীকে সম্মতি ছাড়া অতিরিক্ত কাজ করানো যাবে না। পাশাপাশি, সকল শ্রমিকের জন্য ন্যূনতম মজুরি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তা বিস্তৃত হচ্ছে

নতুন আইনের আওতায় সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। EPF, ESIC, পেনশন, বীমা এবং মাতৃত্বকালীন সুবিধা বিস্তৃত পরিসরের কর্মীরাও পাবেন। ESIC কভারেজ দেশজুড়ে সম্প্রসারিত হয়েছে। EPF সুবিধা কেবল সংগঠিত ক্ষেত্রে নয়, অসংগঠিত ক্ষেত্রের জন্যও প্রসারিত হয়েছে। গিগ ও অ্যাপ-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের জন্য পৃথক সামাজিক সুরক্ষা তহবিল তৈরি করা হয়েছে।

কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও অধিকার বৃদ্ধি

নতুন শ্রম আইনের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্র আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ করা হয়েছে। প্রতিটি কর্মচারীকে নিয়োগপত্র প্রদান বাধ্যতামূলক, যেখানে কাজের শর্তাবলী ও দায়িত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। ৪০ বছরের বেশি বয়সী কর্মীদের জন্য বছরে একবার বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। মহিলারা এখন সকল ধরণের কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানে কাজের অধিকার পাবেন, চাইলে রাতের শিফটেও নিরাপদভাবে কাজ করতে পারবেন।

আরও পড়ুন- 'রাজ্যে ২ কোটি নাম বাদ দিতেই হবে', বিজেপি-কমিশনের যোগসাজশ নিয়ে গর্জে উঠল তৃণমূল

কর্মীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা ও আর্থিক সুরক্ষা

নতুন আইন দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়, যেমন ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত গ্র্যাচুইটি, দ্বিগুণ ওভারটাইম, ছুটি, সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা এবং কর্মক্ষেত্রে অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংস্কার দেশের শ্রম কাঠামোকে আধুনিক, স্বচ্ছ এবং ভবিষ্যতের কর্মপরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে। 

Ministry of Labour