/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/21/bhutnir-kata-bundh-construction-controversy-manikchak-malda-ganga-erosion-2026-01-21-18-20-37.jpg)
মালদা বন্যা নিয়ে মোদীর সওয়ালের পর অ্যাকশনে রাজ্য
গত বছরের বর্ষার মরশুমে গঙ্গা নদীর ভাঙনে ভুতনির কাটা বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছিল শতাধিক পরিবার। সেই সময় বাঁধ নির্মাণের কাজের নিম্নমান ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন ভাঙন ও বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দারা। সেই অভিজ্ঞতার পর চলতি শীতের মরশুম শেষের মুখে নতুন করে ভুতনির কাটা বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই সেচ দফতরের তরফে ওই বাঁধ নির্মাণের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রণক্ষেত্র কলকাতা! "বর্বর সরকার, ইতর পুলিশ", আশাকর্মীদের উপর পুলিশি নির্যাতনে গর্জে উঠলেন শুভেন্দু
তবে নতুন বাঁধ নির্মাণকে ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। ভুতনি এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, গতবার যে ঠিকাদারি সংস্থা বাঁধ নির্মাণের কাজ করেছিল, তাদের কাজ ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের এবং সরকারি অর্থ তছরূপ করা হয়েছিল। সেই কারণেই ভাঙন ও বন্যা প্রতিরোধের স্বার্থে ওই ঠিকাদার সংস্থাকে ফের কাজ না দেওয়ার দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, ইংরেজবাজার শহরের মাধবনগর এলাকার ওই ঠিকাদারকে বাদ দিয়ে অন্য কোনও সংস্থাকে কাজের দায়িত্ব দিতে হবে। শতাধিক পরিবার এই দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন। বাসিন্দাদের হুঁশিয়ারি, টেন্ডার প্রক্রিয়ার অজুহাতে যদি আবারও পুরনো ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয়, তবে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা।
এই বিষয়ে সেচ দফতরের মালদা জেলার এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার শুভঙ্কর গুড়িয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে রাজ্যের সেচ দফতরের প্রতিমন্ত্রী তথা মোথাবাড়ির বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, সরকারি নিয়ম মেনেই অনলাইন পদ্ধতিতে টেন্ডার দেওয়া হয় এবং কোন ঠিকাদার কাজ পাবেন, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তিনি জানান, এখনও বরাদ্দ টাকার অঙ্ক চূড়ান্ত হয়নি। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে অর্থ বরাদ্দ হলেই আগামী মাস থেকে কাজ শুরু হওয়ার আশা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দেন, কাজের ক্ষেত্রে কোনও অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না এবং তিনি নিজে এই বাঁধ নির্মাণের কাজ তদারকি করবেন।
উত্তাল সন্দেশখালি, বিডিও অফিসে তুলকালাম, যথেচ্ছ ভাংচুর, তৃণমূলকে নিশানা বিজেপির
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দু’বছর ধরে মানিকচক ব্লকের ভুতনি থানার দক্ষিণ চণ্ডিপুর এলাকায় গঙ্গা নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। গত বছর বর্ষার সময় দক্ষিণ চণ্ডিপুর এলাকায় প্রায় ৫০০ মিটারেরও বেশি বাঁধ ভেঙে যায়। এর ফলে দক্ষিণ চণ্ডিপুরের সঙ্গে হীরানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং কয়েকশো পরিবার বন্যার কবলে পড়েন।
পরবর্তীতে অস্থায়ীভাবে বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও গঙ্গার তীব্র স্রোতের কারণে তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত ওই দুই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দারাই নিজেদের উদ্যোগে চাঁদা তুলে অস্থায়ী বাঁধ তৈরি করে যাতায়াতের ব্যবস্থা করেন। ভুতনির লক্ষাধিক মানুষের এই দুর্ভোগের বিষয়টি সামনে আসার পর রাজ্য সরকার দ্রুত সেখানে নতুন বাঁধ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়, যার জেরে বর্তমানে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
দক্ষিণ চণ্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা সুমন মণ্ডল, নয়ন মণ্ডল ও হারাধন চৌধুরী অভিযোগ করেন, ভুতনির ভাঙন প্রতিরোধের কাজে বারবার ইংরেজবাজারের এক ঠিকাদারকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিবারই দুর্নীতি হচ্ছে। তাঁদের দাবি, আগেও এই অভিযোগ জানানো হলেও কোনও ফল মেলেনি। গত বছরের বর্ষায় বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর ওই ঠিকাদারি সংস্থার কর্মকর্তাদের ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছিল। বর্তমানে আবারও সেই সংস্থাকেই কাজ দেওয়া হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে, যা হলে সরকারি অর্থ অপচয় হবে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
পুরুলিয়া থেকে বিজেপিকে নিশানা, ভোটের আগে 'লক্ষ্মীর ভান্ডার' নিয়ে বিরাট মন্তব্য অভিষেকের
এ বিষয়ে মানিকচকের বিজেপি নেতা ও মালদা জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি গৌড়চন্দ্র মণ্ডল বলেন, নতুন বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনওভাবেই দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি দিনরাত কাজের তদারকি করবেন বলে জানান এবং স্থানীয় মানুষের দাবিকে যুক্তিসঙ্গত বলেও মন্তব্য করেন।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us