/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/19/bihar-assembly-election-nda-landslide-nitish-kumar-10th-term-2025-11-19-13-49-35.jpg)
১০ বারের অনবদ্য রেকর্ড গড়ার পথে নীতীশ, দেখে নিন দীর্ঘতম ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রীদের তালিকা
Nitish Kumar Sets Eye On 10th Term: বিহার বিধানসভা নির্বাচনে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) বিপুল জয় পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে। আগামীকাল দশমবারের জন্য বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিতে চলেছেন নীতীশ কুমার। রাজ্যের মোট ২৪৩টি আসনের মধ্যে এনডিএ দখল করেছে ২০২টি আসন। জোটের দুই প্রধান দল বিজেপি ও জেডিইউ যথাক্রমে ৮৯ ও ৮৫টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে মহাগঠবন্ধনের লালু প্রসাদ যাদবের আরজেডি মাত্র ২৫টি আসনে জয়ী হয়েছে। কংগ্রেস মাত্র ৬টিতে জিতেছে এবং বামদলগুলি মিলে জিতেছে মাত্র ৩টি আসন। বিএসপি ও আইআইপি একটি করে আসন দখল করতে সক্ষম হয়েছে।
এই ফলাফলের পর জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর নেতা নীতীশ কুমার আবারও মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন। তিনি ইতিমধ্যেই নয়বার মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসেছেন, যা তাকে দেশের দীর্ঘতম মেয়াদের মুখ্যমন্ত্রীদের তালিকায় বিশেষভাবে উঠে আসতে সাহায্য করেছে। এবারও তিনি নতুন মেয়াদের শপথ নিতে চলেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং জোট রাজনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা করা এই দুর্দান্ত ক্ষমতার উপর ভর করেই নীতীশ আবারও রাজ্যের হাল ধরতে চলেছেন।
আরও পড়ুন-নীতীশ 'ম্যাজিকে' মাতোয়ারা বিহার, আগামীকালই শপথ, মোদীর উপস্থিতিতে জমকালো আয়োজন
ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেশ কয়েকজন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বা আছেন যারা দীর্ঘকাল ধরে ক্ষমতায় থেকে রাজনীতিতে এক বিশেষ ছাপ রেখেছেন। তাঁদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন সিকিমের পবন কুমার চামলিং। তিনি টানা পাঁচটি মেয়াদে প্রায় ২৫ বছর মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৯৪ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত। তার নেতৃত্বে সিকিম উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার রোল মডেলে পরিণত হয়েছিল।
ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়কও দীর্ঘ ২৪ বছর রাজ্যকে নেতৃত্ব দেন (২০০০–২০২৪)। শান্ত স্বভাব, সরল জীবনযাপন এবং প্রশাসনিক দক্ষতার কারণে তিনি ওড়িশার ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় নেতা হয়ে ওঠেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর তাঁর দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি হলেও, তিনি এখনও ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
ভারতের বাম রাজনীতির অন্যতম মুখ জ্যোতি বসু ২৩ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলান (১৯৭৭–২০০০)। তিনি ভারতীয় রাজনীতির এক কিংবদন্তি চরিত্র।
অরুণাচল প্রদেশের গেগং আপাংও দুই দফায় মোট ২২ বছর মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৮০ থেকে ১৯৯৯ এবং ২০০৩ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত তিনি রাজ্যকে নেতৃত্ব দেন। দু’দফা ক্ষমতায় ফিরে আসার মাধ্যমে তিনি বিরল রাজনৈতিক দক্ষতার পরিচয় দেন।
আরও পড়ুন- পুলিশ কুকুরের তল্লাশিতে মিলল নিখোঁজ শিশুর দেহ, তুমুল উত্তেজনা এলাকায়
মিজোরামের লালথানহাওলা তিন দফায় মোট ২২ বছর রাজ্যকে নেতৃত্ব দেন। তার সময়েই মিজোরামের সড়কপথ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে বড়সড় পরিবর্তন আসে। তাকে মিজোরামের স্থিতিশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতীক বলা হয়।
হিমাচল প্রদেশের বীরভদ্র সিং চার দফায় ক্ষমতায় থেকে মোট ২১ বছর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। অনেকের মতে, তার সময়টাকেই হিমাচলের “স্বর্ণযুগ” হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ত্রিপুরার মানিক সরকার, যাকে দেশের সবচেয়ে সাদামাটা ও সৎ রাজনীতিবিদদের মধ্যে গণ্য করা হয়, টানা ১৯ বছর মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন (১৯৯৮–২০১৮)। তার নেতৃত্বে ত্রিপুরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ উন্নয়নে বড় সাফল্য অর্জন করে।
বিহারের নীতীশ কুমারও এখন সেই তালিকায় নিজের রেকর্ড তৈরি করেছেন। ২০০০ সালে মাত্র সাত দিনের জন্য প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হলেও, ২০০৫-এর পর থেকে তার রাজনৈতিক শক্তি ক্রমশ বেড়েছে। বর্তমানে তিনি টানা প্রায় ১০ম মেয়াদে প্রবেশ করতে চলেছেন। মোট মিলিয়ে তিনি ১৯ বছরেরও বেশি সময় বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাজ্যকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তামিলনাড়ুর কালাইগনার এম. করুণানিধি চার দফায় মোট ১৮ বছর মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তিনি রাজ্যের সংস্কৃতি, রাজনীতি ও উন্নয়নে এক স্থায়ী ছাপ রেখে গেছেন।
পাঞ্জাবের প্রবীণ নেতা প্রকাশ সিং বাদলও চার দফায় মোট ১৮ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। কৃষি উন্নয়ন, গ্রামীণ পরিকাঠামো এবং প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রে তার অবদান আজও স্মরণীয়।
বিহারে এনডিএর এবারের বিপুল জয় শুধু রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টায়নি, বরং নীতীশ কুমারকে দেশের দীর্ঘতম মেয়াদের মুখ্যমন্ত্রীদের তালিকায় আরও উপরে নিয়ে যাওয়ার পথও প্রশস্ত করেছে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us