/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/14/chirag-2025-11-14-16-19-45.jpg)
Chirag Paswan: চিরাগ পাসওয়ান।
Bihar Election Result 2025: বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ-র জয়যাত্রার পাশাপাশি সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বার্তা এসেছে লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস)-এর প্রধান চিরাগ পাশবানের উত্থান। পিতা রামবিলাস পাশবানের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার নিয়ে দলীয় ভাঙন, রাজনৈতিক অপমান, পারিবারিক কলহ—সবকিছুকে পিছনে ফেলে চিরাগ আজ যেন নিজের ‘রাজনৈতিক ন্যায়বিচার’-ই পেলেন।
৪৩ বছরের চিরাগকে বিজেপির ঘনিষ্ঠ মহলে ‘মোদীর হনুমান’ বলা হয়। পিতার মৃত্যুর পাঁচ বছরের মাথায় তিনি আবারও প্রমাণ করলেন যে তিনি শুধু রামবিলাসের উত্তরসূরি নন, বরং বিহারের উদীয়মান মুখগুলির মধ্যে অন্যতম।
আরও পড়ুন- Tejashwi Yadav: বিহারের ভার তেজস্বীকে দিলেন না রাজ্যবাসী! নেপথ্যে রয়েছে এই ৩ কারণ
এলজেপি (আরভি)-কে রেকর্ডের দোরগোড়ায় নিয়ে গেলেন চিরাগ
২০০৫ সালের নির্বাচনে এলজেপি ২৯টি আসন জিতেছিল—আজও সেটাই দলের সেরা সাফল্য। এনডিএ এ বার এলজেপি (আরভি)-কে ঠিক সেই সংখ্যক আসন দিলেও রাজনৈতিক মহলের একাংশ সন্দেহ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু ফলাফল প্রমাণ করেছে—বিজেপির এই হিসাব পুরোপুরি সঠিক।
আরও পড়ুন-Tej Pratap Yadav: মহুয়ার ময়দানে লজ্জার হার তেজ প্রতাপ যাদবেরও, চারেই আটকে লালু-পুত্র
দল ভাঙনের পর নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করে দেওয়া থেকে শুরু করে কাকা পশুপতি কুমার পারাসের সঙ্গে প্রকাশ্য রাজনৈতিক সংঘাত—চিরাগের পথ সহজ ছিল না। তিনি নিজের দলের অংশ হারালেন, বাবার সরকারি বাড়ি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ হলেন, ২০২০ সালে এনডিএ জোটেও তাঁকে স্থান দেওয়া হয়নি। তবুও তিনি বিচ্যুত হননি।
বিজেপির ভরসার মুখ, জনতার সামনে যুবনেতা
গত বছর মোদী সরকারের মন্ত্রিসভায় তাঁকে জায়গা দিয়েই বিজেপি স্পষ্ট বার্তা দেয়—চিরাগই রামবিলাসের প্রকৃত রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী।
এ বছর বিহার সফরে চিরাগ বারবার জানিয়েছেন—তাঁর লক্ষ্য বিহারেই রাজনীতি করা এবং ভবিষ্যতে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দরজা তাঁর জন্য পুরোপুরি খোলা। তিনি বলেন, “আমি শুধু বিহার এবং বিহারীদের জন্য রাজনীতিতে এসেছি।”
তিনি তুলে ধরেছেন তাঁর ‘বিহার ফার্স্ট, বিহারীজ ফার্স্ট’ ভিশন—
চাকরি সৃষ্টি, রাজস্ব বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা কাঠামো উন্নয়ন এবং সামগ্রিক উন্নয়ন।
বিজেপি নেতাদের দাবি, চিরাগের পরিণত রাজনৈতিক বোধ, আলোচনা দক্ষতা ও তীক্ষ্ণ ভাবমূর্তি তাঁকে জোটের অন্যতম মুখে পরিণত করেছে। কার্যত তিনি এনডিএ-র পাঁচ প্রধান প্রচারকের একজন ছিলেন—মোদী, অমিত শাহ, যোগী আদিত্যনাথ ও নীতীশ কুমারের পাশে। ১৭৩টি জনসভা করেছেন তিনি, যা রাজ্যের সর্বোচ্চ সংখ্যক সমাবেশ।
চিরাগের নিজস্ব ‘এমওয়াই’ ফর্মুলা—মহিলা ও যুব ভোটব্যাঙ্ক—তাকে নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। এর ফলে রেজিস্টার করছে বড় ধাক্কা আরজেডি, যে দল তেজস্বী যাদবের যুব ভাবমূর্তি নিয়ে ভোটে ঝাঁপিয়েছিল।
আরও পড়ুন- বিহার বিধানসভার ফলাফলের মাঝেই মমতাকে উৎখাতের ডাক, বিরাট হুঙ্কারে তোলপাড় ফেললেন শুভেন্দু
নীতীশের স্বাস্থ্য, বিজেপির নেতৃত্ব সংকট… আর মাঝখানে চিরাগের উত্থান
মহাগঠবন্ধন নীতীশ কুমারের স্বাস্থ্য প্রসঙ্গ তুলে এনডিএ-তে নেতৃত্ব সংকট দেখানোর চেষ্টা করেছিল। সেখানে চিরাগের উপস্থিতি বিজেপির জন্য এক শক্তিশালী পাল্টা সাড়া।
২০২০ সালের নির্বাচনে এলজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল—তারা নীতীশকে দুর্বল করতে বিজেপির গোপন ইশারায় প্রার্থী দিয়েছিল। কিন্তু চিরাগ তা নস্যাৎ করেন: “মহাগঠবন্ধন এমন কাহিনি সাজায় কারণ আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে তারা আমাদের হারাতে পারে না।”
শেষ হাসি চিরাগের
সব বাধা পেরিয়ে, পারিবারিক ভাঙন, রাজনৈতিক ঘাত-প্রতিঘাত এবং জোটের জটিলতার মধ্যেও চিরাগ পাশবান আজ বিহারের নতুন রাজনৈতিক তারকা। শুক্রবার ভোটের ফল বেরোতেই তিনি যেন শেষ হাসিটি হাসলেন।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us