/indian-express-bangla/media/media_files/2025/10/29/nitish-2025-10-29-11-49-42.jpg)
Bihar Assembly Election 2025 Result: বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার।
Bihar Election Result 2025: বিহারে রেকর্ড জয়ের মূল কান্ডারী নীতিশ কুমারের রাজনৈতিক দক্ষতায় বদলে গিয়েছে বিহারের রাজনীতির সমীকরণ। নির্বাচনে এনডিএ-র ঐতিহাসিক জয়ের পর আবারও মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে চলেছেন নীতীশ কুমার। দশমবারের মতো শপথের প্রস্তুতি চলছে পাটনায়।
"সুশাসন বাবু" নামে পরিচিত জেডিইউ-এর সিনিয়র নেতা আবারও প্রমাণ করলেন যে বিহারের রাজনীতিতে তিনি এখনও সবচেয়ে প্রভাবশালী 'মুখ'। ২০২০ সালে জেডিইউ যেখানে ৪৩টি আসনে পেয়েছিল, সেখানে এবার তারা জিতেছে ৮৫টি আসন প্রায় দ্বিগুণ।
“বিহার কা এক হি স্টার, নিতীশ কুমার”। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর শুক্রবার রাতে পাটনা থেকে জেলা সর্বত্রই এই স্লোগানেই মখরিত হয়েছে রাজপথ। ৭৪ বছরের নিতীশ, যিনি “সুশাসন রাজ”-এর প্রতীক হিসেবে পরিচিত, দশমবারের মতো মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসার অপেক্ষায়।
আরও পড়ুন-লালকেল্লার বাইরে ভয়াবহ বিস্ফোরণে বাংলা যোগ! উত্তর দিনাজপুর থেকে গ্রেফতার ডাক্তারি পড়ুয়া
স্বাস্থ্য নিয়ে জল্পনা ও নানা সমালোচনার মধ্যেও তিনি তাঁর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ভোটব্যাঙ্ককে অটুট থেকেছে। ২০২০ সালে ৪৩টি আসন জয়ী জেডিইউ এবার প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ৮৫ আসনে পৌঁছেছে (শুক্রবার রাত ১০.৩০ পর্যন্ত)। এবারের ফলাফল আরও একবার প্রমাণ করেছে যে, নিতীশেই আস্থা রেখেছেন বিহারের জনগণ। নিতীশের বিশেষত্ব, তিনি সব স্তরের, সব জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সমান জনপ্রিয়।
নির্বাচনের আগে অবশ্যশারীরিক সমস্যা, কিছু বিতর্কিত মন্তব্য, বিরোধীদের ব্যঙ্গ- ইভিএম-এ সবকিছুরই যোগ্য জবাব দিয়েছেন বিহারের মানুষ। নীতীশের “সুশাসন বাবু” ও “মিস্টার ক্লিন” ভাবমূর্তি এখনও অটুট। যা ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলেছে বলেই মনে করেছেন রাজনৈতিক মহল। তাঁর মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে কিছু কিছু অভিযোগ থাকলেও নিতীশের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোন অভিযোগ নেই। লালুর মতো পরিবারতন্ত্রের অভিযোগও নেই নীতীশের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নতি, গ্রাম-শহরে রাস্তাঘাটের উন্নতি, সামগ্রিক বিহারের আইনশৃঙ্খলার উন্নতি এসবই তাঁর জনপ্রিয়তার বড় কারণ। ইবিসি, ওবিসি, মহিলা, যুবক, সমাজের সব শ্রেনির মানুষকে নিয়ে তিনি তৈরি করেছেন শক্তিশালী ভোটব্যাঙ্ক। উচ্চবর্ণের মানুষও নীতীশের নীতিতেই আস্থা রেখেছেন।
আরও পড়ুন- Srinagar blast: আবারও রক্তাক্ত ভূস্বর্গ! শ্রীনগরের নওগাম থানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, মৃত ৯, আহত ২৯
নির্বাচনী প্রচারেও নিতীশ আলাদা উত্তেজনাহীন ভাষণ, কোনোরকম উস্কানি নয়। এনডিএ-র প্রার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর অনুরোধ ছিল, উন্নয়নের স্বার্থে তাঁদের জয়ী করুন। বিজেপি যেখানে “জঙ্গল রাজ”-এর প্রশ্নে আরজেডিকে আক্রমণ করেছে, সেখানে নিতীশ নরম সুরে বলেছেন, “ওরা পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি করেছে, বিহারের জন্য কিছুই করেনি।”
ঐতিহাসিক জয়ের পর নিতীশ কুমার এক্স-এ লিখেছেন, “সমস্ত ভোটারকে হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ। এনডিএ ঐক্যবদ্ধভাবে লড়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। সব সহযোগী দলকেও ধন্যবাদ।”
২১ অক্টোবর মুজফ্ফরপুরের মিনাপুর থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেন তিনি। ৯ নভেম্বর পর্যন্ত ১৮৪টি জনসভা করেন। ২৯ অক্টোবর রোডশো করে নিজ জেলা নালন্দার সাতটি আসন ঘুরে দেখেন। যা তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তা ও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাকে আরও একবার প্রমাণ করেছে। বিরোধীদের প্রচার কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে নীতীশের পারফরমেন্সে।
২০২৫ সালের এই নির্বাচনকে ঘিরে এনডিএ অত্যন্ত সুপরিকল্পিত প্রচার চালিয়েছে যা জয়কে আরও সহজ থেকে সহজতর করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমারের নেতৃত্বে “ডাবল ইঞ্জিন সরকার”–এর প্রচার জনমানসে দারুণ সাড়া ফেলেছে।
আরও পড়ুন-Kolkata Fire:সাতসকালে কলকাতায় বিধ্বংসী আগুন, কালো ধোঁয়ায় ঢাকল চারদিক, তুমুল চাঞ্চল্যে তোলপাড়!
পাশাপাশি ২০২৫ সালের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক ভোটার অংশ নেন। বিশেষ করে মহিলা ও যুবকরা রেকর্ড মাত্রায় তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এনডিএ-র এই জয় শুধু উন্নয়নমূলক কাজের ভিত্তিতেই নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও নিখুঁত ঘুঁটি সাজানোর ফল। জোটের শরিকদের মধ্যে আসন বণ্টন ছিল একেবারে নির্ভুল, অতীতের ‘জঙ্গল রাজ’-এর 'আতঙ্ক' বারে বারে প্রচারে ঘুরে ফিরে এসেছে। নিতীশ কুমার ফ্যাক্টর ফের জেডিইউ-কে জোটের কেন্দ্রবিন্দুতে তুলে এনেছে।
২০২৫ সালের বিহার নির্বাচনে এনডিএ-র বিপুল জয়ের অন্যতম স্তম্ভ ছিল সময়মতো সম্পন্ন নিখুঁত আসন-বণ্টন প্রক্রিয়া। জোটে ছিল বিজেপি, জেডিইউ, এলজেপি (রামবিলাস), এইচএএম(এস) এবং আরএলএম। বিজেপি ও জেডিইউ লড়েছে সমান ১০১টি আসনে। এলজেপি (রামবিলাস) পেয়েছে ২৯টি আসন, এবং এইচএএম(এস) তাদের প্রাথমিক ১৫টি দাবির বদলে মেনে নিয়েছে ৬টি আসন। আসন-বণ্টন সম্পন্ন হয়েছে “সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে”, যেখানে প্রত্যেক শরিক দল কোনো রকম আপত্তি না তুলে সমঝোতায় বিশ্বাস করেছে। বহু-দলীয় জোটে যে ধরনের বিরোধ দেখা যায়, এবার তেমন কোনো সংঘাত কার্যত বিহারে দেখাই যায়নি।
২০২৫ সালের নির্বাচনকে বিশেষ ভাবে আলাদা করেছে একটি বড় দিক— সংখ্যার দৌড়ের পরিবর্তে “গুণগত আসন”-এর উপর জোর। প্রতিটি দলকে দেওয়া হয়েছে সেইসব কেন্দ্র, যেখানে তাদের সংগঠন শক্তিশালী এবং জয়ের সম্ভাবনা বেশি। ফলে ভোট বিভাজন হয়নি। জোট হিসেবে এনডিএ আরও দৃঢ় ও সুসংগঠিতভাবে লড়তে পেরেছে।
জিতন রাম মাঞ্জির মতো নেতারা প্রকাশ্যে মোদি ও এনডিএ-কে সমর্থন জানিয়ে একসঙ্গে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন। এর ফলে জোটের প্রচার ছিল আরও সুনিয়ন্ত্রিত, সর্বস্তরের ভোটার ও অঞ্চলের মধ্যে পৌঁছানো সহজ হয়েছে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us