/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/14/nitish-2025-11-14-17-26-47.jpg)
Nitish Kumar: নীতিশ কুমার।
Bihar Election 2025 Results: বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা কয়েক ঘণ্টা এগোতেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এক বড় ইঙ্গিত—দীর্ঘতম সময় ধরে মুখ্যমন্ত্রী থাকার রেকর্ড আরও বিস্তৃত করতে চলেছেন নীতীশ কুমার। বিজেপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে তিনি ফের ক্ষমতায় ফিরছেন বলেই ট্রেন্ড দেখাচ্ছে।
ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিহার সবসময়ই অন্যতম আকর্ষণীয় অধ্যায়। ২৩ জন মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা বিহারের রাজনীতির বিবর্তন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সেই ধারাবাহিকতার গুরুত্বপূর্ণ উপাখ্যান হলেন নীতীশ কুমার—যিনি গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে রাজ্যের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।
আরও পড়ুন- Tejashwi Yadav: বিহারের ভার তেজস্বীকে দিলেন না রাজ্যবাসী! নেপথ্যে রয়েছে এই ৩ কারণ
লালু-রাবড়ির যুগে উত্থান নীতীশের
১৯৯০ থেকে সাত বছরেরও বেশি সময় লালু প্রসাদ যাদব বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর শাসনকালে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, পেছিয়ে পড়া জাতির উত্থান–এসব ছিল সেই যুগের বৈশিষ্ট্য। পরে ‘চারাও দুর্নীতি মামলায়’ লালুর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তাঁর স্ত্রী রাবড়ি দেবী মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন, এবং ক্ষমতায় অব্যাহত থাকে ‘লালুর পরিবার’।
আরও পড়ুন-Tej Pratap Yadav: মহুয়ার ময়দানে লজ্জার হার তেজ প্রতাপ যাদবেরও, চারেই আটকে লালু-পুত্র
এই সময়েই ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করা যুবনেতা নীতীশ কুমার—যিনি একসময় লালুর ‘ছোট ভাই’ বলে পরিচিত ছিলেন—নিজ সম্প্রদায় কুর্মি ও অত্যন্ত পিছিয়ে পড়া জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে নীরবে শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে শুরু করেন। লালুর যাদব আধিপত্যের বিরুদ্ধে তিনি হয়ে ওঠেন বিকল্প মুখ।
২০০৫-এর মোড়—বিজেপি-নীতীশ জোটের উত্থান
কার্পুরি ঠাকুরের শিষ্য হিসেবে সমাজবাদী রাজনীতিতে পথচলা শুরু করেছিলেন নীতীশ। প্রথমে পরপর দুটি ভোটে হেরে রাজনীতি ছাড়ার কথাও ভেবেছিলেন। অবশেষে ১৯৮৫-তে প্রথম জেতেন হর্ণৌত থেকে। পরে বারহ থেকে লোকসভায় পৌঁছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্বও সামলান।
লালুর শাসন নিয়ে ক্ষোভ বাড়তেই ১৯৯৪ সালে জর্জ ফার্নান্ডেজকে সঙ্গে নিয়ে নীতীশ ভেঙে দেন জনতা দল, তৈরি করেন সমতা পার্টি—যা পরে JD(U) রূপ নেয়।
২০০০ সালে প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় মাত্র সাত দিনেই ইস্তফা দিতে হয়। কিন্তু ২০০৫-এর দ্বৈত নির্বাচনে ছবিটাই বদলে দেয়। ফেব্রুয়ারিতে ঝুলন্ত ফলাফল আসে, পরে অক্টোবরে JD(U)-BJP জোট ১৪৩ আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসে নীতীশ। সেখান থেকেই শুরু ‘সুশাসন বাবু’র দাপট।
দুই দশক ধরে অপ্রতিরোধ্য নীতীশ
নীতীশের মূল শক্তি ছিল কুর্মি-ইবিসি সমীকরণ এবং বিজেপির মাধ্যমে উঁচু জাতিভিত্তিক ভোটব্যাঙ্ক। এর মাধ্যমে তিনি বিহারের শক্তিশালী যাদব নেতৃত্বকে ছাপিয়ে ওঠেন।
উন্নয়ন, সুশাসন, মেয়েদের শিক্ষা, সড়ক নির্মাণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি—এসবের ভিত্তিতে জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ে। RJD-র বিরুদ্ধে “জঙ্গলরাজ” ইস্যু ছিল সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র।
২০১০ সালে তাঁর জোট পায় বিপুল ২০৬ আসন। কিন্তু ২০১৩-তে নরেন্দ্র মোদীকে মুখ করে BJP প্রচার শুরু করলে নীতীশ জোট ভেঙে দেন। পরে লোকসভা ভোটে ভরাডুবির পর দায় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়েন ও জিতনরাম মাঞ্জিকে বসান। পরে আবার LJP-RJD-JDU মহাজোট করে ক্ষমতায় ফিরে আসেন—লালুর ছেলে তেজস্বী তখন তাঁর ডেপুটি। বারবার জোটবদল হলেও নীতীশ নিজের নিয়ন্ত্রণ হারাননি—এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সাফল্য।
শেষ পর্যন্ত অবিচল মুখ্যমন্ত্রী
অবশেষে আবার BJP–র সঙ্গে হাত মিলিয়ে আজও নীতীশই বিহারের নেতৃত্বে। উত্থান–পতন, জোট–বদল, বিরোধিতা—সবকিছু পেরিয়ে দুই দশক ধরে বিহারের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু তিনি। ভোটের ট্রেন্ড দেখাচ্ছে—এই ধারাই আরও একবার বজায় থাকতে চলেছে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us