/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/17/dooars-2026-01-17-13-24-56.jpg)
Offbeat Dooars: এই ছবিটি AI প্রযুক্তি দ্বারা নির্মিত।
North Bengal Travel Guide: ডুয়ার্স বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে লাটাগুড়ি, মূর্তি বা জলদাপাড়ার ছবি। কিন্তু শীতের মরসুমে বা ছুটির দিনে এই পরিচিত জায়গাগুলিতে পর্যটকদের ভিড়ে আর সেই চেনা নির্জনতা পাওয়া দায়। আপনিও কি খুঁজছেন এমন কোনও জায়গা যেখানে জঙ্গল আছে, কিন্তু কোলাহল নেই? আছে আদিগন্ত চা বাগান, কিন্তু ভিড়ের দাপট নেই? তবে আপনার পরবর্তী গন্তব্য হতেই পারে ডুয়ার্সের এক লুকানো রত্ন, বিশুপুর।
গরুমারা জাতীয় উদ্যানের ঠিক কোল ঘেঁষেই অবস্থিত ছোট্ট, শান্ত এক জনপদ এই বিশুপুর। পর্যটন মানচিত্রে এখনও সেভাবে দাগ না কাটলেও, ইদানীং অফবিট ট্রাভেলারদের কাছে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই গ্রাম।
কেন যাবেন বিশুপুর?
শহরের ইট-কাঠ-পাথরের জঙ্গল থেকে মুক্তি পেতে বিশুপুর এক আদর্শ ঠিকানা। গ্রামের একপাশে ঘন জঙ্গল, অন্যপাশে দিগন্তবিস্তৃত চা বাগান। সকালে ঘুম ভাঙবে নাম না জানা পাখির ডাকে। এখানকার বাতাস দূষণমুক্ত, পরিবেশ শান্ত। লতাগুড়ির ঠিক উল্টোদিকে অবস্থিত এই গ্রামে পর্যটকদের আনাগোনা কম, তাই প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর অফুরন্ত সুযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন- Todhey: হিমালয়ের কোলে নির্জন স্বর্গ! ডুয়ার্সের পর্যটনে নতুন চমক অফবিট গ্রাম ‘টোডে’
কী কী দেখবেন?
১. জঙ্গল সাফারির সুযোগ: বিশুপুর গরুমারা জাতীয় উদ্যানের খুব কাছে। এখান থেকে সহজেই গরুমারার জঙ্গল সাফারিতে যাওয়া যায়। জিপ সাফারিতে ভাগ্য সহায় থাকলে দেখা মিলতে পারে গণ্ডার, হাতি, বাইসন বা লেপার্ডের। ময়ূরের পেখম তোলা নাচ এখানকার সাধারণ দৃশ্য।
২. মেদলা ওয়াচ টাওয়ার: বিশুপুর থেকে কাছেই রয়েছে মেদলা ওয়াচ টাওয়ার। মোষের গাড়িতে চড়ে জঙ্গলের পথ পেরিয়ে এই ওয়াচ টাওয়ারে যাওয়ার অভিজ্ঞতা এক কথায় রোমাঞ্চকর।
আরও পড়ুন- Lingtam: বড় বড় ট্যুরিস্ট স্পট ফেল! সিল্ক রুটের 'লুকনো রত্ন'! সিকিমের এক টুকরো স্বর্গ লিংটাম
৩. গ্রাম ভ্রমণ ও চা বাগান: অলস দুপুরে পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখতে পারেন গোটা গ্রাম। সহজ-সরল গ্রামবাসী, তাঁদের মাটির বাড়ি এবং জীবনযাত্রা আপনাকে মুগ্ধ করবে। পাশেই রয়েছে নিওড়া ও মূর্তি নদী। বিকেলে চা বাগানের সরু রাস্তা দিয়ে হাঁটার অনুভূতিই আলাদা।
৪. উপজাতি সংস্কৃতি: এখানকার হোমস্টেগুলিতে সন্ধ্যাবেলায় স্থানীয় আদিবাসী নৃত্যের আয়োজন করা হয়। ধামসা- মাদলের তালে সেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্যটকদের বাড়তি পাওনা।
আরও পড়ুন-Suntalikhola: কলকাতা থেকে কয়েক ঘণ্টায় অভূতপূর্ব এক ‘নির্জনতার রাজ্য’! চেনেন সুন্দরী সুনতালীখোলা?
কোথায় থাকবেন?
বিশুপুরে থাকার জন্য এখনও বড় কোনও হোটেল গড়ে ওঠেনি। তবে এখানে বেশ কিছু সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন হোমস্টে বা ইকো-রিসর্ট রয়েছে। গ্রাম্য পরিবেশের সঙ্গে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাও মিলবে। এখানকার হোমস্টের মালিকদের আন্তরিক আতিথেয়তা এবং স্থানীয় টাটকা সবজি ও দেশি মুরগির ঝোল দিয়ে দুপুরের খাওয়া, আপনার ভ্রমণকে আরও তৃপ্তিদায়ক করবে। খরচও মধ্যবিত্তের সাধ্যের মধ্যেই।
কীভাবে যাবেন?
ট্রেনে: শিয়ালদহ বা হাওড়া থেকে ট্রেনে নিউ মাল জংশন (New Mal Junction) অথবা নিউ জলপাইগুড়ি (NJP)। নিউ মাল জংশন থেকে বিশুপুরের দূরত্ব মাত্র ২০-২২ কিলোমিটার। আর এনজেপি থেকে দূরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার। স্টেশন থেকে গাড়ি ভাড়া করে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায়।
সড়কপথে: শিলিগুড়ি থেকে সেবক রোড ধরে করোনেশন ব্রিজ পার হয়ে মালবাজার ও চালসা হয়ে পৌঁছনো যায়। অথবা গাজোলডোবা হয়েও যাওয়া যেতে পারে।
আরও পড়ুন-Chungthang: সিকিমের হৃদয়ে এক লুকোনো রত্ন চংথাং! আধুনিকতার ছোঁয়া ছাড়া চিনুন পাহাড়ি জীবন
কখন যাবেন?
ডুয়ার্স ভ্রমণের সেরা সময় অক্টোবর থেকে মার্চ। এই সময় আবহাওয়া মনোরম থাকে এবং জঙ্গল সাফারি খোলা থাকে। তবে বর্ষায় (১৫ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর জঙ্গল বন্ধ থাকে) বিশুপুরের রূপ সম্পূর্ণ অন্যরকম। চারপাশের চা বাগান ও জঙ্গল তখন আরও সবুজ ও সতেজ হয়ে ওঠে। ভিড় এড়িয়ে নির্জনে দু-তিন দিন কাটাতে চাইলে, আসন্ন ছুটিতে আপনার বাকেট লিস্টে থাকতেই পারে ডুয়ার্সের এই অচেনা গ্রাম বিশুপুর।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us