/indian-express-bangla/media/media_files/2025/04/07/XxZY7sBTBitS9bb87isc.jpg)
প্রতীকী ছবি।
ইলেক্টোরাল বন্ড প্রকল্প বাতিলের এক বছর পরেও বিজেপির তহবিলে কোনও ভাটা পড়েনি, বরং বিপুল হারে বেড়েছে অনুদান। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে, লোকসভা নির্বাচনের বছরে, বিজেপি মোট ৬,০৮৮ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছে, যা আগের অর্থবর্ষ ২০২৩-২৪-এর ৩,৯৬৭ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ৫৩ শতাংশ বেশি। রিপোর্টটি গত ৮ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে জমা পড়ে এবং গত সপ্তাহে তা প্রকাশ্যে আসে।
এই অঙ্ক কংগ্রেসের প্রাপ্ত অনুদানের তুলনায় প্রায় ১২ গুণ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে কংগ্রেসের মোট অনুদান ছিল ৫২২.১৩ কোটি টাকা। কংগ্রেস-সহ এক ডজন বিরোধী দলের মোট অনুদান মিলিয়ে দাঁড়ায় ১,৩৪৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ, বিজেপি একাই এই সব বিরোধী দলের সম্মিলিত অনুদানের প্রায় সাড়ে চার গুণ অর্থ ইলেক্টরাল বন্ড বাবদ পেয়েছে।
বিজেপির ১৬২ পাতার কন্ট্রিবিউশন রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সালে ইলেক্টোরাল ট্রাস্টের মাধ্যমে বিজেপি পেয়েছে ৩,৭৪৪ কোটি টাকা, যা দলের মোট অনুদানের প্রায় ৬১ শতাংশ। বাকি ২,৩৪৪ কোটি টাকা এসেছে ব্যক্তি ও কর্পোরেট সংস্থার কাছ থেকে।
চলতি অর্থবর্ষে বিজেপির শীর্ষ ৩০ দাতার তালিকায় একাধিক বড় কর্পোরেট সংস্থার নাম রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড (১০০ কোটি টাকা), রুংটা সন্স প্রাইভেট লিমিটেড (৯৫ কোটি), বেদান্ত লিমিটেড (৬৭ কোটি), ম্যাক্রোটেক ডেভেলপার্স লিমিটেড (৬৫ কোটি), ডেরাইভ ইনভেস্টমেন্টস (৫৩ কোটি), মডার্ন রোড মেকার্স প্রাইভেট লিমিটেড (৫২ কোটি) এবং লোটাস হোমটেক্সটাইলস লিমিটেড (৫১ কোটি টাকা)। এছাড়াও সাফল গয়াল রিয়েলটি এলএলপি, আইটিসি লিমিটেড, গ্লোবাল আইভি ভেঞ্চার্স এলএলপি, আইটিসি ইনফোটেক ইন্ডিয়া লিমিটেড, হিরো এন্টারপ্রাইজেস পার্টনার ভেঞ্চার্স, ম্যানকাইন্ড ফার্মা, হিন্দুস্তান জিঙ্ক লিমিটেডও উল্লেখযোগ্য অনুদান দিয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৯-২০ সালের পর গত ছয় বছরে এটিই বিজেপির সর্বোচ্চ অনুদান প্রাপ্তি। বিজেপির কন্ট্রিবিউশন রিপোর্টে ২০ হাজার টাকার বেশি সমস্ত ব্যক্তিগত অনুদানের বিবরণ রয়েছে। বর্তমানে কর্পোরেট সংস্থাগুলি চেক, ডিমান্ড ড্রাফট বা ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলকে অনুদান দিতে পারে এবং সেই তথ্য নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
উল্লেখ্য, ২০১৭-১৮ সালে চালু হওয়া ইলেক্টোরাল বন্ড প্রকল্পের মাধ্যমে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক দলগুলির অর্থায়ন হত। গত বছর সুপ্রিম কোর্ট এই প্রকল্পকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করে দেয় এবং স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ও নির্বাচন কমিশনকে সমস্ত দাতা ও উপভোক্তার নাম প্রকাশ করার নির্দেশ দেয়। আদালতের সেই রায়ের পরেও বিজেপির অনুদান যে আরও বেড়েছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
আরও পড়ুন-Mamata Banerjee: 'নেতারা নয়, কর্মীরাই রুখবে বিজেপিকে', নেতাজি ইন্ডোরের ভাষণে আগুন মমতার
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us