Purba Bardhaman News: কাটোয়া জেলা BJP-তে বেসুর! নতুন সভানেত্রীকে ঘিরে ধারাবাহিক পদত্যাগে তোলপাড়

BJP Bengal: পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া জেলা বিজেপিতে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। জেলা সভানেত্রীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে একের পর এক আদি বিজেপি নেতা জেলা কমিটি থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন।

BJP Bengal: পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া জেলা বিজেপিতে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। জেলা সভানেত্রীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে একের পর এক আদি বিজেপি নেতা জেলা কমিটি থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন।

author-image
Pradip Kumar Chattopadhyay
New Update
BJP Katwa district conflict  ,Smritikana Basu controversy,  Bengal BJP infighting,  Katwa organisational district crisis  ,BJP leaders resigning  ,Jamalpur BJP revolt , Memari BJP leaders quit,  2026 Bengal assembly elections,  Suvendu Adhikari visit Memari,  TMC reaction to BJP feud,কাটোয়া বিজেপি গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব  ,স্মৃতিকণা বসু বিতর্ক , বিজেপি জেলা কমিটিতে ভাঙন,  আদি বিজেপি নেতার পদত্যাগ  ,জামালপুর বিজেপি বিদ্রোহ , মেমারি বিজেপি নেতা সরে দাঁড়ানো  ,পূর্ব বর্ধমান বিজেপিতে কোন্দল  ,২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগে দলীয় অশান্তি,  শুভেন্দু অধিকারীর সভা,  তৃণমূলের কটাক্ষ বিজেপিকে

প্রতীকী ছবি।

BJP-র পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া সাংগঠনিক জেলায় দলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব প্রকট হচ্ছে। নবনির্বাচিত জেলা সভাপতি স্মৃতিকণা বসুর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে একের পর এক আদি বিজেপি নেতা জেলা কমিটি থেকে অব্যাহতি নিয়ে নিচ্ছেন। বিধানসভা ভোটের আগে জেলা বিজেপির অন্দরে এমন ক্ষোভ বিক্ষোভ তৈরি হওয়ায় বেজায় খুশি প্রতিপক্ষ তৃণমূল শিবির। 

Advertisment

কয়েক মাস আগে বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি পদ থেকে গোপাল চট্টোপাধ্যায়কে সরিয়ে দেওয়া হয়। সেই পদে স্মৃতিকণা বসুকে বহাল করা হয়েছে। স্মৃতিকণা বসু সভাপতি হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ৮ জন পোড়খাওয়া বিজেপি নেতা জেলা কমিটি থেকে অব্যাহতি নিয়ে নিয়েছেন। তার মধ্যে ৫ জন হলেন জামালপুর বিধানসভা থেকে জেলা কমিটিতে স্থান পাওয়া বিজেপি নেতা। বাকি ৩ নেতা মেমারি, পূর্বস্থলী ও কাটোয়া বিধানসভা এলাকা থেকে জেলা কমিটিতে স্থান পেয়েছিলেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে দলের জেলা কমিটিতে এমন ভাঙন দেখে যারপরনাই হতাশ সাধারণ বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা। 

আরও পড়ুন- Patharpratima: পাথরপ্রতিমায় দুষ্কৃতীদের নরকযজ্ঞ! পরপর বাড়ি-দোকানে আগুন-ভাঙচুর, পুড়ে খাক বিডিও-র গাড়ি

Advertisment

জেলা কমিটি থেকে সরে দাঁড়ানো বিজেপি নেতারা  বলছেন, “জেলা কমিটির পদ আসলে হল ডানা ছাঁটা পদ। নিজের মন মতো লোককে মণ্ডল সভাপতি করতে জেলা বিজেপি সভানেত্রী দলের জেলা কমিটিকে ঢাল করেছেন। মণ্ডল সভাপতি পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই  পোড় খাওয়া নেতাদের জেলা কমিটিতে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। বিজেপির  সংগঠন শক্তিশালী করতে চাওয়া নেতাদের ঠুঁটো জগন্নাথ বানিয়ে দেওয়ার জন্য জেলা কমিটিতে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।"

রাজ্যের শাসক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই বিজেপির জেলা সভাপতি স্মৃতিকনা বসু এই কাজ করছেন বলে জেলা কমিটি থেকে অব্যাহতি নিয়ে নেওয়া জামালপুরের বিজেপির এক নেতা অভিযোগ করেছেন। 

আরও পড়ুন-West Bengal News Live Updates: সাংসদের সামনেই তৃণমূল নেতাকে মার, বীরভূমে চরমে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল, তুমুল উত্তেজনা

বিজেপি নেতা জগবন্ধু ঘোষ বর্তমানে জৌগ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য। একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, "স্মৃতিকণা বসু জেলা সভাপতি হওয়ার ১০ দিন পর কোনও কিছু না জানিয়ে মণ্ডল সভাপতির পদ থেকে আমাকে সরিয়ে দেন। তাঁকে জেলা কমিটিতে কেন পাঠিয়ে দেওয়া হল সেই নিয়েও জেলা সভাপতি কিছু জানাননি।" মণ্ডল সভাপতি থেকে সরিয়ে জেলা কমিটিতে ঠাঁই করে দেওয়াটা ডানা ছেঁটে দেওয়া দেওয়া ছাড়া আর কিছুই নয় বলে জগবন্ধু ঘোষ দাবি করেছেন। 

এরই পাশাপাশি তিনি এও অভিযোগ করেছেন, আদি বিজেপি নেতা কর্মীদের দূরে সরিয়ে রেখে জেলা বিজেপি সভানেত্রী শাসক দল তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের পাশে নিয়েই ঘুরছেন। তাঁর আরও অভিযোগ, "এই সব করে সভানেত্রী বিজেপির সংগঠনকে কার্যত দুর্বল করে দিয়েছেন। তা দেখে জামালপুর বিধানসভা থেকে আরও চারজন নেতা এবং মেমারি বিধানসভা থেকে আরও এক নেতা আমার মতোই জেলা কমিটি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।”  

আরও পড়ুন-রোগী মৃত্যুতেও টনক নড়ল না, রাজ্যের নামি মেডিকেল কলেজে ভয়ঙ্কর কাণ্ড, রোগীর সঙ্গে যা ঘটল, জানলে চমকে যাবেন

জগবন্ধু ঘোষের মতোই ক্ষুব্ধ কাটোয়ার সুদপুর পঞ্চায়েতের রাধাকৃষ্ণপুরের বাসিন্দা সুজিত হাজরা। তিনি বলেন, “আমি আগে মণ্ডল সভাপতি ছিলাম। জেলা কমিটিতে আমি স্থান পাই। কিন্তু বর্তমান জেলা সভানেত্রী জেলা কমিটিতে থাকা নেতাদের বসিয়ে রেখেছেন।  কোনও কার্যক্রমে ডাকাই হচ্ছে না। এই কারণে আমিও জেলা কমিটি থেকে অব্যাহতি নিয়ে নিয়েছি। কাটোয়ার আরও অনেক নেতা আগামী দিনে একই পথে হাঁটবেন।" 

জেলা কমিটি থেকে সরে দাঁড়ানো মেমারি বিধানসভার বিজেপি নেতা চন্দ্রশেখর সাউ। তিনি দাবি করেছেন, “যাঁর নিজের কোনও সংগঠন নেই ,যিনি নিজের বুথে এজেন্ট বসাতে পারেন না, তিনিই এখন বিজেপির জেলা সভানেত্রী। তৃণমূল ও সিপিএম থেকে আসা লোকজনকে নিয়ে উনি নোংরা রাজনীতির খেলায় মেতেছেন। তাই জেলা কমিটি থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।"

আরও পড়ুন- Bengal SIR: বিরাট কাজের চাপ, ভয়ঙ্কর পরিণতি BLO-র, পরিবারের বিস্ফোরক অভিযোগে প্রবল চাপে কমিশন

মেমারিতে শুক্রবার সভা করতে আসছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তারই মধ্যে দলের অন্দরের এই কোন্দল বেশ বিড়ম্বনায় ফেলেছে  দলীয় নেতৃত্বকে। বিষয়টি নিয়ে স্মৃতিকণা বসু বলেন, “কে কি বলছে জানি না। তবে লিখিত ভাবে বা মৌখিক ভাবে আমাকে কেউ কোনও অভিযোগ জানায়নি।"

তবে বিজেপির অন্দরে দ্বন্দ্ব চরম আকার নিয়েছে জেনে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় তীব্র কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, “আসলে বিজেপি কোনও দল নয়, ওটা হল কতকগুলো অসৎ লোকের সমাবেশ। তাই স্বার্থে ঘা লাগলেই ওই দলে অশান্ত তীব্র হয়। সেটাই হয়েছে।" একদিকে যেমন কাটায়ো সাংগঠনিক জেলা বিজেপিতে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকট হয়েছে তার পাশাপাশি বর্ধমান সাংগঠনিক জেলা বিজেপির শীর্ষ নেতাদের নিয়েও দলের একাংশ ক্ষেভাপ্রকাশ করে আসছে নিয়মিত। 

Katwa Bengal BJP Purba Bardhaman west bengal latest news